মে ০৭, ২০১৯ ১১:৫৪ Asia/Dhaka

'রমজান: রহমতের বসন্ত' শীর্ষক ধারাবাহিক আলোচনায় আপনাদের সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আশা করছি খোদায়ি রহমতের বসন্ত সংক্রান্ত এ আলোচনা আমাদের সবার জন্যই বয়ে আনবে অফুরন্ত কল্যাণ। হে পরম করুণাময়! নুরানি এই মাহফিলের অশেষ কল্যাণ থেকে আমরা কেউই যেন বঞ্চিত না হই।

আবারও ফিরে এল খোদায়ি রহমতের ফল্গুধারায় প্লাবিত পবিত্র মাস রমজান। খোদায়ি রহমত, বরকত ও মাগফিরাতসহ অশেষ মাত্রায় নাজিল-হওয়া মহাবরকতগুলোকে সারা জীবনের জন্য সঞ্চয়ের মাস এই রমজান। অশেষ কল্যাণ ও চূড়ান্ত সৌভাগ্য অর্জনের অনন্য মাস রমজান। এই মাস আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের বসন্তকাল। পবিত্র রমজান খোদাপ্রেমের মহাসাগরে ভ্রমণের মধু-মাস। এই মাস কুরআনি সৌরভে অবগাহনের মাস। আবারও এই সুমধুর মাসটি উপহার দেয়ার জন্য মহান আল্লাহকে জানাচ্ছি অশেষ শুকরিয়া। মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এই মাসের মহাসুযোগগুলোকে সর্বোচ্চ মাত্রায় কাজে লাগানোর তৌফিক দান করেন।

রমজানের রমজ শব্দটির অর্থ হল দহন। মানব জীবনে অনিয়ন্ত্রিত যৌনাচার, বদমেজাজ, পেটুকতা, হিংসা, লোভ, কার্পণ্য ও অলসতার মত কুপ্রবৃত্তিগুলোর বিনাশ বা দহন জরুরি। রোজা বা সওম-এর অর্থ হল সব কদাচার থেকে বিরত থাকার সংযম সাধনা। পবিত্র কুরআনে সুরা বাকারার ১৮৩ নম্বর আয়াতে রোজা সম্পর্কে বলা হয়েছে: 'হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর, যেন তোমরা খোদাভীতি বা তাকওয়া অর্জন করতে পার।' (২:১৮৩)

অজ্ঞতা ও অন্ধকারের সব বদ্ধ দুয়ার খুলে খোদাপ্রেমের বেহেশতি সৌরভে আলোড়িত হতে আসুন গড়ে তুলি রমজানের লক্ষ্যগুলো হাসিলের বৃহত্তর পরিকল্পনা। বিচক্ষণ ধার্মিক ও মুমিনরা রমজান মাস আসার বহু আগেই তৈরি করে নেন এই মাসের টার্গেটগুলোর অর্জনের মহাপরিকল্পনা বা বিস্তারিত কর্মসূচি।  বিশ্বনবী (সা) রজবের চাঁদ উঠলে দোয়া করতেন, 'হে আল্লাহ! আমাদের রজব ও শাবান মাসের বরকত দান করুন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।' 

মুসলমানদেরকে পবিত্র রমজান মাসের অশেষ বরকত সম্পর্কে সচেতন করতে কোনো এক শাবান মাসের শেষ শুক্রবারে রাসুলে পাক (সা) বলেছিলেন: “হে মানুষ! নিঃসন্দেহে তোমাদের সামনে রয়েছে আল্লাহর বরকতপূর্ণ মাস। এ মাস বরকত, রহমত ও ক্ষমার মাস। আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ এ মাসের দিনগুলো সেরা দিন, রাতগুলো শ্রেষ্ঠ রাত এবং ঘন্টাগুলো শ্রেষ্ঠ ঘন্টা। এই মাসে তোমরা আল্লাহর মেহমান, তাইতো তিনি দিয়েছেন এতে রোজা ও প্রার্থনার বিধান এবং  তোমাদের দিয়েছেন সম্মান। তাই এ মাসে তোমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস মহান আল্লাহর গুণগান বা জিকরের সওয়াবের সমতুল্য; এ মাসে তোমাদের ঘুমও প্রার্থনার সমান। এ মাসে তোমাদের সৎকাজ ও দোয়াগুলো কবুল হবে। তাই আল্লাহর কাছে পাপ-মুক্ত, পবিত্র ও আন্তরিক চিত্তে প্রার্থনা করো  যাতে তিনি রোজা রাখার এবং কুরআন তিলাওয়াতের তৌফিক দেন। নিঃসন্দেহে সে প্রকৃতই হতভাগ্য যে রমজান পেয়েও আল্লাহর ক্ষমা হতে বঞ্চিত হয়। এ মাসে ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মাধ্যমে শেষ বিচার দিবসের ক্ষুধা-তৃষ্ণার কথা স্মরণ কর। অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্রদেরকে সাহায্য কর ও সদকা দাও।’

একই ভাষণে মহানবী (সা) আরও বলেছেন, ‘রমজান মাসে বয়স্ক ও বৃদ্ধদের সম্মান কর এবং শিশু ও ছোটদের আদর কর। রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা কর। জিহ্বাকে অনুপযোগী কথা বলা থেকে, চোখকে নিষিদ্ধ দৃশ্য দেখা থেকে ও কানকে অসঙ্গত কথা শোনা থেকে নিবৃত রাখ। এতিমদের দয়া কর যাতে তোমার সম্ভাব্য এতিম সন্তানও দয়া পায়। গোনাহর জন্যে হও অনুতপ্ত ও কর তওবা । নামাজের সময় দোয়ার হাত ওপরে তোলো, কারণ নামাজের সময় দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময়, এ সময় আল্লাহ তাঁর দাসদের দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন। এ সময় কেউ কিছু চাইলে তিনি তা দান করেন, কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি জবাব দেন, কেউ কাকতি-মিনতি করলে তা তিনি গ্রহণ করেন।’

খুতবায়ে শাবানিয়্যা নামে খ্যাত ভাষণে মহানবী (সা) আরও বলেছেন, ‘হে মানুষ! তোমরা বিবেককে করেছ নিজ কামনা-বাসনার দাস, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে একে মুক্ত করো। তোমাদের পিঠ গোনাহর ভারে ভারাক্রান্ত, তাই দীর্ঘ সময় সিজদায় থেকে হালকা করো পিঠকে। জেনে রাখ মহান আল্লাহ নিজ সম্মানের শপথ করে বলেছেন, রমজান মাসের নামাজী ও সিজদাকারীদের শাস্তি দিবেন না এবং কিয়ামতের দিন তাদেরকে দোযখ থেকে রক্ষা করবেন।’

মহান আল্লাহ আমাদেরকে বিশ্বনবী (সা)’র এইসব উপদেশ মেনে চলার তৌফিক দান করুন। এবারে শোনা যাক্ অর্থসহ পয়লা রমজানের দোয়া :

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ১