মে ০৯, ২০১৯ ১০:৫৪ Asia/Dhaka

হে সব কল্যাণের অধিপতি! রমজানের বরকতগুলো যেন আমাদের জীবনে চিরস্থায়ী হয়।

গত পর্বে আমরা জেনেছি, মহানবী (সা) বলেছেন রমজানে সবচেয়ে ভালো কাজ হল গোনাহ্‌ বর্জন। অজ্ঞতা ও অসচেতনতা পাপের কিছু উৎস। শয়তান মহান আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল যে সে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেই। কিন্তু মহান আল্লাহ বলেছেন, আমার বান্দা বা দাসদের ওপর তোর কোনো কর্তৃত্ব থাকবে না। অর্থাৎ কেউ যদি প্রকৃত ঈমানদার হয় তাহলে শয়তান তাকে পাপের জড়াতে পারবে না। তাই পাপ এড়াতে কেবল জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। এ জন্য দরকার জ্ঞানকে নিশ্চিত বিশ্বাসে বা দৃঢ় ঈমানে পরিণত করা। কবরের আজাব, জাহান্নামের কঠিন শাস্তি তথা সেখানে পাপের মাত্রার আলোকে পাপীদের কোটি কোটি বা লাখ লাখ কিংবা শত-সহস্র বছর ধরে আগুনে জ্বলার কথা জানা সত্ত্বেও অনেকেই পাপে জড়িয়ে পড়ে! এর কারণ পরকালের বাস্তবতাগুলো সম্পর্কে তাদের জ্ঞান সুদৃঢ় ঈমানে রূপ নেয়নি। অনেকেই মানুষের লাশের পাশে থাকতে ভয় পায়। লোকটি মারা গেছে এটা জানার পরও এ বিষয়ে সুনিশ্চিত বিশ্বাস না থাকায় তারা ভয় পায়।

আল্লাহ ও পরকাল সম্পর্কে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণগুলো জানা সত্ত্বেও অনেকের অন্তরে ঈমানের আলো জ্বলে ওঠে না। অথচ মহান আল্লাহ বলেছেন: “যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহ তাদের অভিভাবক;তাদেরকে তিনি বের করে আনেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে।...” (সূরা বাকারা, ২:২৫৭) তাই পাপ বর্জনের জন্য জানা বা জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়। একইসঙ্গে ঈমানও জরুরি। হেদায়েত বা সুপথ সম্পর্কেও একই কথা প্রযোজ্য। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন,কুরআন কেবল খোদাভীরুদেরই পথ দেখায়। আল্লাহ যাকে অন্ধকার থেকে বের করে আনেন, সে আর একটি পাপও করে না, গিবত করে না, অপবাদ দেয় না এবং হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করে না। ঈমানের আলোর কারণে তখন আর দুনিয়া বা দুনিয়াবি বিষয় তার কাছে প্রিয় মনে হয় না। যেমনটা হযরত আলী (আ.) বলেছেন: “যদি আমাকে গোটা দুনিয়ার সম্পদের বিনিময়ে একটা পিপড়ার মুখ থেকে অন্যায়ভাবে বার্লি দানার খোসা কেড়ে নিতে বলা হতো, আমি কখনোই সে প্রস্তাব গ্রহণ করতাম না।” 

ইসমত তথা নিষ্পাপতা,নির্ভুলতা হলো পরিপূর্ণ ঈমান।নবী-রাসুল ও আউলিয়াকেরামের বিশুদ্ধতার মানে এই নয় যে,জিব্রাইল (আ.) হাতে ধরে তাঁদেরকে পথ দেখিয়েছেন। নিষ্পাপতা আসে ঈমান থেকে। বিশ্বাসী বা মু'মিন অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে খোদাকে সেভাবেই দেখে,যেভাবে সে দেখে সূর্যকে,ফলে কোনো পাপ সে করে না। সশস্ত্র ব্যক্তির সামনে মানুষ যেমন অন্যায় করে না তেমনি মুমিনও আল্লাহকে সব সময় দেখেন বলে পাপ করে না।পবিত্র রমজান হচ্ছে এই ভয় তথা আল্লাহর ভয় অর্জনের মাস।

মাসুমিন (আলাইহিমুস সালাম) তথা নিষ্পাপগণ খোদাকে সদা-উপস্থিত দেখতেন। তাঁদের বিশ্বাস সর্বজ্ঞ আল্লাহ সবখানেই উপস্থিত এবং সব বিষয়কে ঘিরে আছেন।

সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দুনিয়া-ই আল্লাহর কাছে প্রকাশ্য– এই কথায় যদি মানুষ নিশ্চিত থাকে এবং মহান আল্লাহ সদা উপস্থিত ও সব কিছু দেখেন– এতে যদি ঈমান থাকে, তবে সেই ব্যক্তি পাপ করতেই পারে না। বুঝসম্পন্ন বাচ্চার সামনে মানুষ অপকর্ম করে না,তাহলে খোদার উপস্থিতিতে সেই একই অপকর্ম করতে ভয় হয় না? আসলে বাচ্চার উপস্থিতির ব্যাপারে তার আস্থা থাকলেও আল্লাহর উপস্থিতির ব্যাপারে তার জ্ঞান থাকলেও ঈমান নেই। নানামুখী পাপ তার হৃদয়কে কালো করে দিয়েছে, ফলে এই সত্যগুলোকে ক্রমেই তার কাছে মলিন ও এক সময় অবাস্তব মনে হয়। তাই বলা হয় পাপ করার মুহুর্তে মুসলমান বা মুমিনও অস্থায়ীভাবে কাফের হয়ে যান। মুসলমান যাতে মুহূর্তের জন্যও অবিশ্বাসী বা খোদাদ্রোহী না হন সে জন্যই দেয়া হয়েছে নামাজ ও রোজার মত বিধানগুলো।

কেউ কেউ মনে করেন রোজা সুস্থ মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। কিন্তু মানুষ তো পরীক্ষাগারের ইঁদুর নয়। মানুষের রয়েছে আধ্যাত্মিক ক্ষমতা। মানুষ যখন খুশির জোয়ারে ভাসে তখন সে খাওয়ার কথা ভুলে যায়। এতে তার ক্ষতি হয় না। তদ্রুপ যখন মানুষ খুব শোকার্ত থাকে তখনও সে কিছু খায় না এবং এতেও তার ক্ষতি হয় না। তাই এটা স্পষ্ট মানুষের মন বা আত্মা শরীরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

মহান আল্লাহ আমাদেরকে আমৃত্যু ফরজ রোজা রাখার সুযোগ দিন ও সব সময় ঈমানের ওপর অবিচল রাখুন।

তৃতীয় রমজানের দোয়া ও তার অর্থ: 

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ৩