মে ০৯, ২০১৯ ১৬:৩৪ Asia/Dhaka

হে সর্বোচ্চ করুণাময়! রমজানের বরকতগুলো যেন আমাদের জীবনে চিরস্থায়ী হয়।

পাপ বর্জনের উপায় সম্পর্কে আমরা কথা বলেছি গত পর্বে। মাসুম বা নিষ্পাপ মহামানবরা কেন পাপ করেন না? আসলে তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কথাটির তাৎপর্যের ওপর পরিপূর্ণ আস্থাশীল। তাঁরা বিশ্বাস করেন আল্লাহ ছাড়া আর সবকিছুই নশ্বর,আল্লাহ ছাড়া আর কারোরই ক্ষমতা নেই মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের: আল্লাহর সত্তা ছাড়া আর সবই ধ্বংসশীল।” (সূরা আল কাসাস, ২৮:৮৮) তাই মাসুমদের মাথায় কখনও পাপের চিন্তাও আসে না। 

মানুষ কখনোই উদ্ধত হতনা, যদি সম্ভাবনা হিসেবেও মনে করত যে, কুরআনের ওয়াদাগুলো ও শাস্তির ভয়গুলো সত্য। কোনো রাস্তায় হিংস্র প্রাণী বা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আছে বলে খবর এলে সবাই ওই রাস্তা এড়িয়ে চলে এবং তথ্যটার সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ের চেষ্টা করে। “জাহান্নাম বলে একটা কিছু হয়ত আছে যেখানে পাপকর্মের শাস্তি হিসেবে অনন্তকাল আগুনের মধ্যে থাকতে হবে”– কেউ এটা মনে করবে, অথচ একইসাথে পাপকাজও করে যেতে থাকবে– এটা কী করে সম্ভব?

যে মনে করে,সর্বশক্তিমান আল্লাহ সদা বিরাজমান ও সবকিছু দেখছেন এবং সে তার রবের সামনে উপস্থিত, তার কথা ও কর্মের প্রতিফল দেয়া হবে, বিচার হবে, শাস্তি হবে। আর এই দুনিয়ায় নেয়া তার প্রতিটা পদক্ষেপ,প্রতিটি কথা, কাজ– সবকিছুই আল্লাহর ফেরেশতা নিখুঁতভাবে রেকর্ড করছেন – এমতাবস্থায় কি সে নিজের ভুল ও পাপকর্মের ব্যাপারে উদাসীন থাকবে? বহু মানুষ এই সত্যগুলোকে ‘সম্ভব’ বলেও মনে করে না! কারো কারো আচার আচরণ দেখে বোঝা যায়, অপার্থিব জগতের অস্তিত্বকেই তারা সম্ভব বলে মনে করে না; কারণ পরকালকে কেবল ‘সম্ভব’ বলে মনে করাটাই মানুষকে অসংখ্য ভুল ও পাপ থেকে দূরে রাখে।

বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে কথিত ধর্মভীরু মুসলমানদের  সংখ্যা বিপুল হওয়া সত্ত্বেও এ অঞ্চলে ঘুষ, দুর্নীতি, চুরি-রাহাজানি, নারী-নির্যাতন, খুন ও অপহরণের মত ঘটনাগুলো দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। অথচ এ অঞ্চলের মসজিদগুলোতে মুসল্লির সংখ্যা অন্য অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি। আজকাল অনেক আলেম নামধারী মানুষেরও নানা দুর্নীতি ও নৃশংস আচরণের খবর আসছে। ধর্ম শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও কিভাবে মানুষ পাশবিক ও পৈশাচিক আচরণ করতে পারে? 

আসলে যারা নিত্য-নতুন ধর্ম তৈরি করেছে, অসংখ্য মানুষকে বিপথগামী করেছে, তাদের বেশিরভাগই ছিল আলেম। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি তাদের আত্মশুদ্ধি ও আত্মিক পবিত্রতা অর্জনের চেষ্টা ছিল না,তারা আল্লাহর রাস্তায় অগ্রসর হয়নি এবং আত্ম-কলুষতা দূর করেনি। তাই তারা সৃষ্টি করেছে বিপর্যয়। আত্মার গভীর থেকে কলুষ দূর না হলে সব পড়াশোনাই হবে ব্যর্থ ও ক্ষতিকর। ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের জ্ঞানে যদি শয়তান ঢুকে, তখন সেখান থেকে কেবল খারাপ জিনিস ও বিষবৃক্ষ আসবে। নোংরা হৃদয়ে দ্বীনি জ্ঞান যত বেশিই হোক না কেনো তা অন্তরে কেবল কালিমাই বাড়ায়।

একজন আলেমের নীতিহীনতা ইসলামের যত ক্ষতি করে আর কারো নীতিহীনতা তত ক্ষতি করতে পারে না। জ্ঞান দূষিত হৃদয়ে কেবল অন্ধকার ও কলুষকেই বাড়ায়। যে ‘জ্ঞান’ মানুষকে খোদার নৈকট্য দেয় সেটাই আবার দুনিয়ালোভী মানুষকে সর্বশক্তিমান থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দেয়। এমনকি একত্ববাদ বা তাওহীদের জ্ঞানও যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অর্জিত হয়,সেটাও হয় অন্ধকার এক আবরণ। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতও যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে হয়,তা আল্লাহ থেকে দূরত্ব সৃষ্টি করে ও তৈরি করে আবরণ। আসলে আলেম হওয়া ও পরিশুদ্ধ হওয়া এক কথা নয়। প্রখ্যাত আলেম আবদুল করিম হায়েরী ইয়াযদী (র.) বলেছেন,“লোকে বলে: 'মোল্লা হওয়া কতই না সহজ আর মানুষ হওয়া কতই না কঠিন', বরং বলা উচিত: 'মোল্লা হওয়া কতই না কঠিন আর মানুষ হওয়া তো প্রায় অসম্ভব!'”

পবিত্র মানবীয় গুণ অর্জন করা জরুরি দায়িত্ব। যদি আল্লাহর নৈকট্যের খাঁটি নিয়ত না থাকে,তাহলে ধর্মশিক্ষা অর্থহীন। মাদ্রাসায় পড়াশোনার উদ্দেশ্য যদি হয় আত্মতৃপ্তি, পদ-পদবি-ক্ষমতা,সম্মান ইত্যাদি তাহলে তার ফলাফল কেবলই ক্ষতি। ধর্ম শেখার সাথে সাথে যদি  আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতি না আসে, তাহলে তা দুনিয়া ও পরকালে ক্ষতি-ই বয়ে আনে। রোজা আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতি অর্জনেরই অনুশীলন। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রোজার সফল অনুশীলনের সুযোগ দিন।

চতুর্থ রমজানের দোয়া ও তার অর্থ:

 

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।