রমজান : রহমতের বসন্ত (পর্ব-৫)
হে সর্বোচ্চ করুণাময়! রমজানে যেন আমরা সফল রোজাদার ও প্রকৃত খোদাভীরু হতে পারি।
খোদাভীতি, পবিত্রতা ও আত্মশুদ্ধি রোজার প্রধান উদ্দেশ্য। মহান আল্লাহ মানুষকে দয়া করে দিয়েছেন বুদ্ধিমত্তা যাতে তারা আত্মশুদ্ধি ও পবিত্রতা অর্জন করতে পারে। আল্লাহ নবী-রাসুল ও আউলিয়ায়েকেরামকে পাঠিয়েছেন মানুষকে সঠিক পথ দেখাতে যাতে মানুষ আত্মসংস্কারের মাধ্যমে জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা পায়। যদি এই পদ্ধতিতেও মানুষের মাঝে সংস্কার ও সচেতনতা সৃষ্টি না হয়, তবে আল্লাহ মানুষকে নানারকম সমস্যা, দুঃখ-কষ্ট, দারিদ্র্য, অসুস্থতা ইত্যাদি দিয়ে একজন দক্ষ চিকিৎসক ও নার্সের মতোই তার আত্মিক রোগগুলোর চিকিৎসা করতে চান। তাই আল্লাহর দয়ার কারণে কোনো বান্দা একের পর এক দুর্দশার শিকার হতে থাকবে, যতক্ষণ না সে স্রষ্টার কাছে ফিরে আসে ও নিজের সংস্কার করে। এটাই মুক্তির পথ,কিন্তু এ পথের শেষ পর্যন্ত পৌঁছতে মানুষকে নিজ পায়েই হাঁটতে হবে। যদি দুঃখ-দুর্দশা-পরীক্ষার মধ্যদিয়ে আত্মশুদ্ধিতে মানুষ সফল না হয় তাহলে মৃত্যুকালে তার আত্মাকে বের করার সময় প্রচণ্ড চাপ দেয়া হয় যাতে সে শুদ্ধ ও সতর্ক হয়।
উল্লেখিত পদ্ধতিগুলোতেও যদি কাজ না হয়,তাহলে কবরে অর্থাৎ আলমে বারযাখে মানুষকে যন্ত্রণা ও শাস্তি দেয়া হবে,যতক্ষণ না সে বিশুদ্ধ হয় এবং এরপর সে দোযখে যাবে না। এর সবই হলো মানুষকে দোযখ থেকে দূরে রাখতে আল্লাহর দয়া। আল্লাহর এত দয়া ও অনুকম্পা সত্ত্বেও যদি মানুষ বিশুদ্ধ না হয় তাহলে তার শুদ্ধির জন্য আগুনে পোড়ানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কত মানুষ আত্মশুদ্ধির পথে আসেনি,আত্মসংস্কার করেনি এবং এইসব পন্থায়ও তাদের শুদ্ধি ঘটেনি। ফলে খোদা তাদের আগুনে পুড়িয়ে বিশুদ্ধ করেছেন,ঠিক যেভাবে সোনা পুড়িয়ে খাঁটি করা হয়। “তারা সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী অবস্থান করবে”(সূরা আন নাবা, ৭৮:২৩)-কুরআনের এই আয়াতে উল্লিখিত ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী’হলো তাদের জন্য, যাদেরকে পথ দেখানো হয়েছে,যাদের ঈমানের ভিত্তিকে রক্ষা করা হয়েছে। ইমাম বাকিরকে (আ.) এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন: এই আয়াত তাদের জন্য,যাদেরকে একসময় আগুন থেকে বের করা হবে। (মাজমু'-আল-বয়ান, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৪২৪ )।
মুমিনদের জন্য আত্মশুদ্ধি বা সংস্কারের পথগুলো আমরা জানলাম। আল্লাহ না করুন, চিরসুখের জান্নাতে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জনের জন্য আমাদের যেন শত শত বছর বা কিছুদিনের জন্য যেন পুড়তে না হয়। তবে এই পন্থা তাদের জন্য,যাদের পাপের মাত্রা সর্বশক্তিমান আল্লাহর দয়া ও করুণা থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হওয়ার মাত্রায় পৌঁছায়নি;যাদের মাঝে বেহেশতে যাবার ন্যূনতম হলেও কিছু যোগ্যতা অবশিষ্ট আছে। আল্লাহ না করুন,কোনো মানুষের পাপ যদি এতই বেশি হয় যে,সে আল্লাহর পবিত্র সান্নিধ্য ও ঐশী দয়া থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে অনন্তকাল দোযখে পোড়া ছাড়া তার আর কোনো পথ নেই।
আমাদের কথা-কর্ম ও আচরণ যেন আমাদেরকে খোদার করুণা থেকে বঞ্চিত করে অনন্ত-ধ্বংস ডেকে না আনে। আমরা এখন এক মিনিটের জন্যও জ্বলন্ত পাথর হাতে রাখতে পারি না, তাহলে দোযখের আগুনে কি হবে? মাদ্রাসা ও আলেমরাও এই আগুনের আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয়। অন্তর থেকে ঝগড়া-বিবাদকে দূরে সরিয়ে, মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করে ও দয়ালু হবার চেষ্টা করে শিক্ষাঙ্গনকে পবিত্র করতে হবে। অবশ্য পাপী লোকদের পাপ ও খোদাদ্রোহীতার ব্যাপারে নম্র না হয়ে বরং তাদের মুখের ওপর বলতে হবে,সে পাপ করছে। সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ মুমিনের দায়িত্ব। কিন্তু এ দায়িত্ব পালনের আগে নিজে অসৎ কাজ হতে বিরত হতে হবে। আল্লাহর বান্দা এবং সৎকর্মীদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে। জ্ঞানীদেরকে জ্ঞানের কারণে,সৎকর্মশীলদেরকে তাদের সদগুণের কারণে সম্মান করা উচিত। জ্ঞানহীন অশিক্ষিতদেরও সম্মান করতে হবে কারণ তারাও আল্লাহরই বান্দা।
কেউ যদি পরিবারকে ও সমাজকে উন্নত করতে চায় তাহলে তাকে দয়া, সততা ও ভ্রাতৃত্বের মত উত্তম গুণাবলী ও আচরণের অধিকারী হতে হবে। যে নিজেকেই সংশোধন করতে পারে না,সে কী করে অন্যকে পথ দেখাবে? সংশোধনকামীর উচিত শাবান মাসেই তওবা করে নিজেকে বদলে ফেলো এবং বিশুদ্ধ আত্মা নিয়ে পবিত্র রমজান মাসে প্রবেশ করা। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সব ধরনের পাপ ও মন্দ থেকে মুক্ত থাকার তৌফিক দিন।
পঞ্চম রমজানের দোয়া ও তার অর্থ:

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।