রমজান : রহমতের বসন্ত (পর্ব-৬)
রমজানে যেন আমরা সর্বোচ্চ মাত্রায় রহমত, বরকত ও মাগফিরাত অর্জন করতে পারি।
পবিত্র রমজান কুরআনের বসন্ত। এ মাস কুরআন নাজিলের মাস। রমজান পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণা করার সবচেয়ে সুযোগ্য মাস। কুরআন অধ্যয়নে মনে পড়ে আল্লাহকে। কুরআনে আল্লাহ কথা বলেছেন মানবজাতির সঙ্গে। তাই একনিষ্ঠ মনে তথা আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কুরআন অধ্যয়ন করা হলে মানুষ অবশ্যই পথের দিশা ও আল্লাহর নৈকট্য পায়। কুরআনে বিশ্বাসী মানুষ কখনও হতাশ হয় না। হতাশা হচ্ছে শয়তান ও কাফেরদের অস্ত্র। যারা মুসলমান হয়েও কুরআন পরিত্যাগ করে তাদের সম্পর্কে সুরা ফুরক্বানের ৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: রাসূল (সা) বললেনঃ হে আমার পালনকর্তা,আমার সম্প্রদায় এই কোরআনকে পরিত্যাগ করেছে।–
কুরআনকে ছেড়ে দেয়া বলতে কেবল কুরআন পড়া ছেড়ে দেয়াকে বোঝায় না। কুরআনের বাণী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা না করা, অন্যদের কাছে কুরআনের শিক্ষাগুলো তুলে না ধরা ও জীবনের সবক্ষেত্রে কুরআনের বিধানগুলো বাস্তবায়ন না করাকেও বোঝায়। একজন মুসলমানের কর্তব্য হল সব অবস্থায় কুরআনকে আঁকড়ে ধরা। প্রতিদিনই কুরআনের কিছু আয়াত পড়া উচিত যাতে কুরআনের বিধান ও উপদেশগুলোর কোনো একটিরও বাস্তবায়ন যেন জীবন থেকে বাদ না পড়ে। কুরআনের বিধানগুলো যাতে জীবনে মলিন বা পরিত্যক্ত না হয় সে জন্যই মহান আল্লাহ প্রাত্যহিক নামাজে কুরআন তিলাওয়াতের বিধান দিয়েছেন। কুরআন তাড়াহুড়ো করে পড়া উচিত নয়। বরং কুরআনের বাণীর অর্থগুলো নিয়ে গভীর চিন্তা-ভাবনা করতে হবে যাতে তা ক্লান্ত-শ্রান্ত, অশান্ত ও ভয়ার্ত আত্মার প্রশান্তি-স্থল হয়। একজন মু'মিনের প্রতিদিন অন্তত কুরআনের ৫০ আয়াত তিলাওয়াত করা উচিত।
সুরা সাদের ২৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন, হে রাসুল! এটি একটি বরকতময় কিতাব,যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে নাজিল করেছি,যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানরা যেন তা অনুধাবন করে। সুরা মুহাম্মাদের ২৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?
কুরআনের বাণীর ওপর চিন্তাভাবনা সব যুগেই জরুরি। কুরআন প্রতিটি যুগে মানুষের জন্য খুলে দেয় জ্ঞানের নতুন নতুন দিগন্ত। বিজ্ঞানীরা কুরআন থেকে পাচ্ছেন উদ্ভাবন ও আবিস্কারের অনেক সূত্র এবং জানা-অজানা বিষয়ে বহু নতুন তথ্য,অর্থ ও নতুন দিক। কিয়ামত পর্যন্ত এ অবস্থা বজায় থাকবে।
আমরা প্রিয় বন্ধু বা প্রিয়জনের চিঠি ও প্রিয় কবির কবিতা বা প্রিয় লেখকের লেখা বার বার পড়ি। অথচ বিশুদ্ধতম জ্ঞানের আধার ও মানবজাতির সব সমস্যার সমাধান রয়েছে যে মহাগ্রন্থে এবং যে মহাগ্রন্থ হচ্ছে মহান আল্লাহর সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ ও তাঁরই বাণীর সংকলন তা যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না মুসলিম বিশ্বে। আসলে আজকের ও শত শত বছরের নানা সংকট আর সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে কুরআন থেকে দূরে থাকা ও কুরআনের অপব্যাখ্যা করা। অথচ কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে অনেক অমুসলিম জ্ঞানী-গুণী ও বিজ্ঞানী এ মহাগ্রন্থের নির্ভুলতা ও অলৌকিক জ্ঞান-সমৃদ্ধতা আর অকল্পনীয় তথ্য-সম্ভার দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে মুসলমান হয়েছেন। যুগে যুগে বহু অমুসলিম আরব পণ্ডিত কুরআনের অলৌকিক সাহিত্য-শৈলী ও অপূর্ব ছন্দময়তা দেখে মুসলমান হয়েছেন বা অবনত শিরে কুরআনের অলৌকিকতার এবং স্রস্টার বাণীর হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন।
কুরআন থেকে দূরে থাকতে থাকতে হৃদয় কঠিন ও অন্ধ হয়ে যায় এবং হৃদয়ে জন্ম নেয় কপটতা। তাই আত্মশুদ্ধির জন্য যত বেশি সম্ভব কুরআন অধ্যয়ন করা অপরিহার্য।
রমজান মাস শ্রেষ্ঠ জিহাদ তথা পাপ-প্রবণ প্রবৃত্তি বা নফসের সঙ্গে যুদ্ধের শ্রেষ্ঠ মাস। কুপ্রবৃত্তির সামনে যদি একটি দরজা খুলে দেন তাহলে এরপর আরও অনেক দুয়ার খুলে দিতে বাধ্য হবেন। কুপ্রবৃত্তির কামনা-বাসনা ও এর উচ্চাভিলাসী লক্ষ্যমাত্রা অসীম-অন্তহীন। মানুষ আত্মপূজারি হবে আবার খোদার বান্দাও হবে কিংবা নিজের স্বার্থ দেখবে ও ইসলামের স্বার্থও দেখবে তা সম্ভব নয়। এ দুয়ের যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। সমাজে বিপ্লবের আগে মনের ভেতরেই বিপ্লব করতে হবে। নিজের মনে থাকা শয়তানের সব নীড় ও ডিমগুলো ধ্বংস করতে হবে। তা না হলে মনের নানা ক্ষেত্রে শয়তানের সেনা-সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। -পবিত্র কুরআন ও রমজান আমাদের এসব শিক্ষাই দেয়। মহান আল্লাহ আমাদের সব ধরনের পাপ ও আত্মঘাতী তৎপরতা থেকে মুক্ত থাকার তৌফিক দিন।
ষষ্ঠ রমজানের দোয়া ও তার অর্থ:

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ৬
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।