মে ১৩, ২০১৯ ১১:৪৮ Asia/Dhaka

হে সর্বোচ্চ করুণাময়! রমজানে যেন আমরা সর্বোচ্চ মাত্রায় সার্বিক কল্যাণ পেতে পারি।

রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস ও আত্ম-উন্নয়নের মাস। এ মাসের গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবীর (সা) ভাষণ, পাপ বর্জন, আত্মশুদ্ধি এবং এসবে পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের গুরুত্বের কথা  আমরা জেনেছি বিগত কয়েক পর্বে।

 রমজান মাস বিচিত্র খাবার খেয়ে শরীরকে মোটা-তাজা করার মাস নয়, বরং তা আধ্যাত্মিক পুষ্টি অর্জনের মাস। এই পুষ্টি অর্জনের বড় মাধ্যম হল কুরআন অধ্যয়ন ও আল্লাহর দরবারে দোয়া বা কাকতি-মিনতি এবং অশ্রু-বিসর্জন। এ মাসেরই বিশেষ এক রাতে রয়েছে হাজার মাসের ইবাদতের সওয়াব অর্জনের সুযোগ তথা লাইলাতুল ক্বাদ্‌র বা শবে ক্বাদর্‌। এ রাতের একনিষ্ঠ দোয়া, কাকতি-মিনতি ও অশ্রু-বিসর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা অর্জন সম্ভব। তবে মানুষের অধিকার লঙ্ঘনের গোনাহ কেবল কান্নাকাটি করে মোচন করা যায় না। এ জন্য সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে ও তার ক্ষতিগুলো পূরণ করতে হবে অথবা তা সম্ভব না হলে তার বংশধরদের কাছে গিয়ে একই কাজ করতে হবে বা তাও সম্ভব না হলে তার নামে দান-খয়রাত ও নফল ইবাদত, দরুদ পাঠ- এসব করতে হবে।

যার ওপর তার বাবা-মা অসন্তুষ্ট তার দোয়াও কবুল হয় না, এমনকি কদরের রাতেও তার দোয়া কবুল হয় না। বাবা-মা যদি মৃত হন তাহলে তাদের কবরে দিয়ে জিয়ারত করার পাশাপাশি তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তাদের সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য তাদের নামে দান-খয়রাত ও কুরআন তিলাওয়াত, নফল ইবাদত, দরুদ পাঠ- এসব করা উচিত।

মানুষের আত্মশুদ্ধির পথে বড় বাধা হল আত্মপ্রীতি। বেশিরভাগ মানুষের সবচেয়ে বড় ত্রুটি হল তার শত-সহস্র ত্রুটি থাকলেও নিজের দোষ-ত্রুটিগুলো দেখতে পায় না। তারা অন্যের দোষ-ত্রুটি দেখায় ব্যস্ত থাকে।

কুরআনে বর্ণিত আদর্শ ব্যক্তিদের জীবন থেকে বোঝা যায় আভিজাত্য ও ভোগ-বিলাসিতার জীবন-পদ্ধতির মাধ্যমে মানবিক ও ইসলামী মূল্যবোধগুলোকে রক্ষা করা যায় না।

আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ) মুনাজাতে শাবানিয়্যায় বলতেন, হে আমার রব! আমি যেন তোমার ধ্যান ছাড়া আর সকল কিছুর থেকে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করতে পারি এবং তোমার দিকে তাকানোর মাধ্যমে আমাদের অন্তর্দৃষ্টিকে এমনভাবে আলোকিত করতে পারি,যেন আলোর পর্দা ছিন্ন করে আমাদের অন্তর্দৃষ্টি তোমার মহত্বের নিকটবর্তী হয় এবং আমাদের আত্মা পরিপূর্ণভাবে তোমার সুপবিত্র সত্তার মালিকানাধীন হয়ে যায়।”

“হে আমার রব! আমি যেন তোমার ধ্যান ছাড়া আর সকল কিছুর থেকে নিজেকে পরিপূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করতে পারি”– এই কথাটার অর্থ এমনও হতে পারে যে, ঐশী বিষয়ে সচেতন ব্যক্তিরা পবিত্র রমজান মাসের আগে দুনিয়াবি সুখ ত্যাগ করার মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেন। আর দুনিয়াবি সুখকে ত্যাগ করার মাধ্যমেই আল্লাহ ছাড়া আর সবকিছু থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়।

আল্লাহ ছাড়া আর সব কিছু তথা গাইরুল্লাহ থেকে পরিপূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়াটা সহজ কাজ নয়। এজন্যে খুব কঠোর সাধনার প্রয়োজন। সেইসাথে ক্ষেত্রবিশেষে আধ্যাত্মিক চর্চা,ধৈর্য্য,নিয়মানুবর্তিতা ইত্যাদিকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যেন মানুষ আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার আর সব কিছু থেকে নিজেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে পারে। যে এই কাজে সফল হয়,তাহলে সে অত্যন্ত সম্মানিত হয়। তবে,দুনিয়ার প্রতি বিন্দুমাত্র আকর্ষণ থাকলেও গাইরুল্লাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া সম্ভব না। যেভাবে রমজানের রোজা পালন করতে বলা হয়েছে,পবিত্র রমজানে কেউ যদি ঠিক সেইভাবেই রোজা রাখতে চায়,তাহলে তাকে অবশ্যই আল্লাহ ছাড়া আর সবকিছু তথা গাইরুল্লাহ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলতে হবে। একাজ তাকে করতে হবে যাতে সে আল্লাহর এই নৈকট্য লাভের উৎসব ঠিকভাবে পালন করতে পারে এবং মানুষের পক্ষে যতদূর সম্ভব ততখানি পর্যন্ত এই উৎসবের আয়োজকের অর্থাৎ আল্লাহর স্থান বুঝতে পারে।

এই পবিত্র রমজান মাসে মহান আল্লাহ তাঁর আয়োজিত উৎসবে যোগ দিতে সকল বান্দাকে আহ্বান জানিয়েছেন। তাই খোদাপ্রেমিকরা পবিত্র রমজান মাস আসার আগেই আত্মিক সংস্কার করে সর্বশক্তিমান আল্লাহর দিকে মনোযোগ দেন এবং পাপ বা অনুচিত কর্ম ও আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তারা সর্বশক্তিমান খোদার প্রতি আন্তরিক মুনাজাতে অন্তরকে অভ্যস্ত করেন। মহান আল্লাহ আমাদের সব ধরনের মন্দ থেকে মুক্ত থাকার তৌফিক দিন মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায়।

সপ্তম রমজানের দোয়া ও তার অর্থ:

 

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।