মে ১৪, ২০১৯ ১১:৪১ Asia/Dhaka

আশা করছি এ আলোচনা হবে সবার জন্য সৌভাগ্যের দিশারী। হে পরম করুণাময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় রমজানে যেন আমরা সর্বোচ্চ সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি।

রমজানে আত্মসংশোধন ও পাপ-বর্জনের পন্থা নিয়ে আমরা কথা বলেছি গত কয়েক পর্বে। আত্মসংশোধনের সবচেয়ে ভালো সময়  শৈশব, কৈশর ও যৌবন এবং ছাত্র-জীবন। এ সময়ে যারা সুশিক্ষা ও আত্মশুদ্ধির অনুশীলনে অভ্যস্ত হয় না তাদের জন্য পরবর্তীতে তথা মধ্য-বয়সে বা বার্ধক্যে আত্মশুদ্ধি অর্জন করা খুবই কঠিন। বাবা-মায়ের সুশিক্ষা ও যোগ্যতা সন্তানের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই বাবা-মা যাদের জন্য ভালো প্রশিক্ষক হন আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রে তারা খুব সহজেই সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। যাই হোক্ রমজান আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণের মাস। এ সময় শরীরকেও আত্মশুদ্ধিতে অভ্যস্ত করতে হয়।  আল্লাহ না করুন এই পবিত্র রমজান মাসেও কেউ পরচর্চা ও গীবতসহ নানা পাপে লিপ্ত হলে সে মহান আল্লাহ তায়ালার দেয়া রহমতের  উৎসব বা ভোজ-সভা তথা রমজানের সীমালঙ্ঘন করে নিজেকে দূষিত করে ফেলে। ফলে এই সম্মানিত মাসে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ভোজসভায় নিমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও সে সর্বশক্তিমানের এই অপূর্ব উৎসবের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে ব্যর্থ হয়। তাই অন্তত রোজার বাহ্যিক রীতি-নীতিকে সম্মান করা উচিত।

রোজার বাহ্যিক বা আনুষ্ঠানিক রীতি-নীতি ও এর প্রকৃত রীতি-নীতিগুলো অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় আর সেজন্যে সার্বক্ষণিক যত্ন ও প্রচেষ্টা প্রয়োজন। রোজা রাখার অর্থ কেবল খাওয়া-দাওয়া বর্জন নয়, একইসঙ্গে পাপও বর্জন করতে হবে। এটুকু হলো তাদের জন্য,যারা নিতান্তই আনকোরা। বেহেশতি মানুষেরা, যাঁরা খোদার মহত্বের খনি খুলতে চান,তাদের রোজার নিয়ম-কানুন আরও উচ্চ মানের। তাই অন্ততঃ রোজার প্রাথমিক আদব কায়দা মেনে চলার মতই একইভাবে চোখ,কান এবং জিহ্বাকেও সীমালঙ্ঘন থেকে সংযত রাখুন। সব সংশোধনকামী, বিশেষ করে যারা কম বয়সী বা ছাত্র তাদের উচিত এখন থেকেই জিহ্বাকে পরনিন্দা, গীবত, মন্দ কথা এবং মিথ্যা থেকে দূরে রাখা;হিংসা-জিঘাংসা এবং অন্যান্য শয়তানী বৈশিষ্ট্যকে অন্তর থেকে তাড়ানোর অভ্যাস করা। সম্ভব হলে তাদের উচিত আল্লাহ ছাড়া মানুষ ও জ্বীন শয়তানগুলোসহ সবকিছু থেকেই নিজেকে বিচ্ছিন্ন করা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করা।  

রোজার উচ্চতর মর্যাদা ও লক্ষ্য অর্জন না হোক,অন্তত এটুকু নিশ্চিত করতে হবে যাতে আমাদের রোজার সাথে কোনো পাপ না থাকে। তা না হলে আমাদের রোজা ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী সঠিক হলেও সেটা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। কোনো কাজ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী সঠিক হওয়া  বা না হওয়া এবং সেই কাজ আল্লাহর কাছে কবুল হওয়া–এই দুয়ের মাঝে বিরাট পার্থক্য আছে। যদি রমজান শেষে আমাদের কথা-কাজে ও আচরণে কোনো উন্নতি না হয়,তাহলে এটা সুস্পষ্ট যে,রোজার প্রকৃত তাৎপর্য আমরা হৃদয়ঙ্গম করিনি। আমরা কেবল দৈহিক রোজাই রেখেছি ।

এই মহান রমজানে তথা  আসমানি উৎসবের দাওয়াতের পরও যদি আমরা খোদার ব্যাপারে মারেফত বা অন্তর্দৃষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হই,কিংবা অন্ততঃ নিজের ব্যাপারে অন্তর্দৃষ্টি অর্জনে ব্যর্থ হই,তাহলে বুঝতে হবে আমরা আল্লাহর দেয়া এই উৎসবে যোগই দিতে পারিনি। এই পবিত্র মাসে শয়তানরা শেকলবন্দি হওয়া সত্ত্বেও যদি আমরা আত্মশুদ্ধি ও আত্ম-উন্নয়ন করতে না পারি,না পারি নফস-এ-আম্মারাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে তথা নিজের স্বার্থপর কামনা-বাসনাকে দমন করতে,ব্যর্থ হই এই দুনিয়া ও বস্তুজগতের মায়া ত্যাগ করতে,তাহলে রমজান শেষ হওয়ার পরে এগুলো অর্জন করা হবে খুবই কঠিন। তাই এই অপূর্ব দয়া শেষ হবার আগেই আত্মসংস্কার করে নিজেকে বিশুদ্ধ করতে হবে। রোজার দায়িত্বগুলো পালনে কষ্ট করার জন্য রমজানের আগেই প্রস্তুত হওয়া উচিত ছিল। আসলে রমজান মাস আসার আগেই শয়তান অনেককেই এমনভাবে আক্রান্ত করে ফেলেছে যে,শয়তানকে শিকলবন্দি করা সত্ত্বেও তারা নিজ থেকেই নানা পাপ ও ইসলামবিরোধী কাজ করছে!

অনেকসময় খোদা থেকে দূরে সরার কারণে ও বড় বড় গুনাহ'র কারণে পাপী মানুষ অজ্ঞতা ও অন্ধকারের এতই অতলে নেমে যায় যে, শয়তানের আর তাকে প্রলুব্ধ করার দরকার হয় না বরং সে নিজেই শয়তানের রং ধারণ করে। আর শয়তানের রঙের বিপরীত হলো ‘সিবগাত-আল্লাহ'তথা আল্লাহর রঙ।মহান আল্লাহ আমাদেরকে শয়তানের সব ধরনের অনিষ্ট থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকার তৌফিক দিন মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায়।

অষ্টম রমজানের দোয়া ও তার অর্থ:

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।