মে ১৯, ২০১৯ ১১:৩৭ Asia/Dhaka

আশা করছি এ আলোচনা হবে সবার জন্য মুক্তির দিশারি। হে পরম করুণাময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় রমজানে যেন আমরা ক্রমেই মহান আল্লাহর বেশি বেশি প্রিয় হতে পারি।

সুরা আলে ইমরানের ১৪২ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমরা কি ভেবেছ তোমরা এমনিতেই জান্নাতে প্রবেশ করবে? অথচ এখনো আল্লাহ দেখেনইনি, তোমাদের কে তাঁর পথে প্রাণপণ যুদ্ধ করতে প্রস্তুত এবং কে তাঁর জন্য সবরকারী? সুরা আনকাবুতের প্রথমেই মহান আল্লাহ বলেছেন,  মানুষ কি ভেবেছে, আমরা ঈমান এনেছি বললেই তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না?- মহান আল্লাহর এসব বাণীর আলোকে এটা স্পষ্ট বেহেশত পাওয়া বা জাহান্নামের আগুনের ভয়াবহতা থেকে পালানো সহজ কোনো ব্যাপার নয়।

পবিত্র রমজান আত্মশুদ্ধি ও খোদাপ্রেমের অনন্য অভিসারের মাস। সংযম ও কান্নাকাটি এ মাসে সব পাপ পুড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হয়। যে মন ও শরীরকে পাপের মাধ্যমে বাহ্যিক আরাম দেয়া হয়েছে সে শরীর ও মনকে যথেষ্ট মাত্রায় সংযম ও ইবাদতের মাধ্যমে খোদার পথে কষ্ট-সহিষ্ণু করতে হবে এবং ত্যাগের আনন্দে অভ্যস্ত করতে হবে। মহানবী বলেছেন, সব কিছুরই যাকাত রয়েছে, দেহের যাকাত রোজা। মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করা ও কান্নাকাটি আল্লাহর কাছে খুবই প্রিয়।  মহানবী (সা), হযরত আলী ও  ইমাম সাজ্জাদের মত (আ.) নিষ্পাপ মহামানবেরা আল্লাহর কাছে এত সুউচ্চ আধ্যাত্মিক অবস্থান অর্জনের পরও খোদার ভয়ে কাঁদতেন! কেয়ামতের কষ্টের কথা ভেবে কাঁদতেন। পুলসিরাত যা জাহান্নামের মধ্য দিয়ে গেছে–সেই পুলসিরাত অতিক্রমের পরিশ্রম,কষ্ট ও দুঃসাধ্যতা সম্পর্কে নবী-রাসুল ও ইমামরা সচেতন ছিলেন। তাঁরা কবরের জগৎ, পুনরুত্থান ও শাস্তির ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তাই তাঁরা কখনোই তৃপ্ত ছিলেন না,সব সময়ই খোদায়ি শাস্তি থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন। তাই রমজানে আল্লাহর দরবারে কাঁদতে ভুলবেন না।

পরকালের ভয়াবহ শাস্তি নিয়ে যৌবনেই ভাবনা-চিন্তা করা উচিত।  যৌবনেই যদি পরিশুদ্ধির চিন্তা না করা হয়, তাহলে যখন বার্ধক্য আসবে,তখন দেহ ও মন দুর্বল হওয়ায় পাপ প্রতিরোধ আরও কঠিন হয়। পাপের বোঝা হৃদয়কে আরও কালো করলে পরিশুদ্ধ হওয়া হবে খুবই কঠিন। বৃদ্ধ বয়সে আত্মশুদ্ধি,সদগুণাবলি ও তাকওয়া অর্জন খুবই কঠিন। মানুষ তখন তওবাও করতে পারে না। কেবল মৌখিক তওবা যথেষ্ট নয়, অনুতপ্ত হওয়া ও পাপকর্ম ত্যাগ করাই হলো তওবা। যে ব্যক্তি পঞ্চাশ কিংবা সত্তর বছর যাবৎ মিথ্যা ও গীবতসহ নানা পাপ করেছে,তার পক্ষে এভাবে অনুতপ্ত হয়ে পাপ ত্যাগ করা সম্ভব হয় না। এমন মানুষেরা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পাপেই ডুবে থাকে।

তরুণ যুবকদের নিষ্কর্মা বসে থেকে বৃদ্ধ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়। যৌবনের শক্তি ও দৃঢ়তা থাকতেই নিজেদের স্বার্থপর কামনা-বাসনাগুলোকে বিতাড়িত করা উচিত। এ সময়ই দুনিয়াবি আকর্ষণ ও পাশবিক বৃত্তিগুলোকে দূর করা সহজ। কিন্তু যদি তরুণ বয়সেই আত্মসংস্কারের চিন্তা না করা হয়, তাহলে বৃদ্ধ বয়সে শ্রান্ত-ক্লান্ত হৃদয়ে আত্মশুদ্ধি করাটা  হবে খুবই কষ্টকর। তরুণ অন্তরে রোগের প্রতি ঝোঁক কম থাকে। কিন্তু বয়স্কদের অন্তরে পাপের শেকড় এতটাই গভীর ও দৃঢ় যে তা উৎপাটন করা যায় না। ইমাম বাকির (আ.) বলেছেন,মানুষের অন্তর একটা আয়নার মত। প্রতিটা পাপকর্মের সাথে সাথে এতে একটি করে কালো দাগ পড়তে থাকে এবং এভাবে দাগ পড়তে পড়তে শেষমেষ এমন অবস্থা হয় যে,খোদার নাফরমানী ছাড়া একটা দিনও পার হয় না।

বৃদ্ধ বয়সে অন্তরকে প্রকৃত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন। আমাদের চোখ,কান, হাত, জিহ্বা– এগুলো সবই সর্বশক্তিমান খোদার আমানত। এগুলো দেয়া হয়েছিল শতভাগ পবিত্র ও বিশুদ্ধ অবস্থায়। এগুলো দিয়ে পাপ করলে সেগুলো হবে অবিশুদ্ধ, কলূষিত। ফলে আমানত ফেরত নেয়ার সময় বলা হবে:তোমাকে দেয়া চোখ, কান, হাত, জিহ্বা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কি এরকম নোংরা ছিল? কেন আমানতের এত বড় খেয়ানত করলে? যৌবনের সুসময়গুলোকে ব্যর্থ করা হলে পরকালে প্রশ্ন করা হবে, যৌবন নামক আমানতকে কিভাবে ব্যয় করেছ? যৌবনের অপব্যবহারের শাস্তি কেবল পরকালেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এই দুনিয়াতেও নানাবিধ কষ্ট-ক্লেশ, দুর্গতি,সমস্যা আর দুর্ভাগ্যের ঘূর্ণিস্রোত আঁকড়ে ধরবে। এই রমজানও কি মহা-আমানত ও মুক্তির মহা-সুযোগ নয়? মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বার্ধক্যের আগেই আত্মশুদ্ধির সৌভাগ্য দান করুন মহানবী  (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের শানে দরুদ পাঠানোর উসিলায়।

১৩তম রমজানের দোয়া ও তার অর্থ: 

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।