রমজান : রহমতের বসন্ত (পর্ব-১৪)
আশা করছি এ আলোচনা হবে সবারই মুক্তির দিশারি। হে পরম করুণাময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় রমজানে যেন আমরা ক্রমেই মহান আল্লাহর বেশি বেশি প্রিয় হতে পারি।
পবিত্র কুরআন চর্চার বসন্তকাল মাহে রমজান। কুরআনের সুরা ত্বালাকে মহান আল্লাহ (দ্বিতীয় ও তৃতীয় আয়াতে) বলেছেন, যে আল্লাহকে ভয় করে,আল্লাহ তার জন্যে নিস্কৃতির পথ করে দেবেন এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। -অন্য কথায় যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে প্রাধান্য দেয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টিকে ভয় করে আল্লাহ তার জন্য সব বিপদ ও সংকট উৎরে যাওয়ার পথ খুলে দেন। মানুষের কল্পনাতীত উপায়ে আল্লাহ তার প্রিয় ব্যক্তিদের রিজিক দেন। যারা আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাদেরকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করলেও তা হয়ে যায় নাতিশীতোষ্ণ মনোরোম ফুল বাগান। তারা শত্রু থেকে রক্ষার জন্য সাগরের তীরে উপস্থিত হলেও সাগর শুকিয়ে তাদের জন্য নিরাপদ দূরত্বে যাবার পথ খুলে যায়। অথচ আল্লাহর শত্রুরা তাদের ধাওয়া করতে গিয়ে ডুবে মরে সেই একই পথে।

কুরআন বলে আল্লাহর সেনারাই বিজয়ী এবং আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় ও দুঃখ নেই। এ যুগেও দেখা গেছে মার্কিন সরকারের মত পরাক্রান্ত খোদাদ্রোহী শক্তি রাতের আঁধারে বিমান হামলা চালাতে এসে ইরানের তাবাস মরুতে ধুলি-ঝড়ের কবলে হয় বিপর্যস্ত। এ যেন কাবা ঘর ধ্বংস করতে আসা আবরাহার পরাক্রান্ত বাহিনীর মতই আবাবিল পাখির মাধ্যমে নাস্তানাবুদ হওয়া! আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, 'সম্মান ও সম্পদ একমাত্র আল্লাহ ও মুমিনদের জন্যই নির্ধারিত, কিন্তু মুনাফিক ও কাফিররা তা বোঝে না।' কাফির আর মুনাফিক শক্তিগুলো সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কিভাবে ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লেবাননে ও ফিলিস্তিনের গাজায় অসম্মানিত হয়েছে বিশ্ববাসী তা দেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কোন্ সরকারটিকে দুধদানকারী অনুগত গাভী বলা হচ্ছে তাও বিশ্ববাসীর কাছে স্পষ্ট। এটাও কুরআনের বাণীর যথার্থতার স্পষ্ট নিদর্শন।
মুমিন হতে হলে আল্লাহর ওপর পুরোপুরি আস্থাশীল ও তাঁর ওপর সুনিশ্চিত ভরসাকারী হতে হবে এবং হতে হবে মহান আল্লাহর কাছে পুরোপুরি নতজানু। এ কারণেই গোটা পবিত্র কুরআনের নির্যাস নামে খ্যাত প্রত্যেক নামাজের পাঠ্য-সুরা তথা সুরা ফাতিহায় বলা হয়: আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি ও একমাত্র তোমারই কাছে সাহায্য চাই। অর্থাৎ আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার আগে মুমিনকে আগে আল্লাহর দাস হতে হবে। দাস হওয়া ছাড়াই আল্লাহর কাছে কোনো সাহায্য চাইতে মানুষের লজ্জা হওয়া উচিত।
পবিত্র কুরআন মানবজাতির মুক্তির আদর্শ গাইড। কিন্তু এ মহাগ্রন্থের বাণীগুলোর অর্থ ভালোভাবে জানতে হলে জানতে হবে মহানবীর (সা) কথা, কাজ ও আমল। এক্ষেত্রেও সঠিক ও যথাযথ জ্ঞান পেতে মহানবীর পবিত্র বংশধর বা আহলে বাইতের দ্বারস্থ হতে হবে। কারণ তাঁরা ছিলেন মহানবীর প্রকৃত প্রতিনিধি ও তাঁর আদর্শের কাণ্ডারি। মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের এবং তাঁদের মাধ্যমে কুরআনের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও আল্লাহর বিধি-বিধানের পুরোপুরি অনুসরণ সম্ভব নয়। এ জন্যই মহানবী (সা) বলেছেন, পবিত্র কুরআন ও আহলে বাইত কিয়ামত পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন থাকবে এবং আমার আহলে বাইত হচ্ছে নুহের কিশতির সমতুল্য যারা তাতে আরোহন করবে না তারা পথভ্রষ্ট হবে।
সুরা ফাতিহার 'বিসমিল্লাহ' বা আল্লাহর নামে শুরু করছি অংশটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে আল্লাহর ছাড়া অন্য কারো ওপরই কোনো আশা রাখা উচিত নয়। রাব্বিল আলামিন তথা জগতগুলোর প্রভু ও মালিকি ইয়াওমিদ্দিন বা শেষ বিচারের মালিক অংশটি মনে করিয়ে দেয় যে মহান আল্লাহই আমাদের প্রতিপালন করছেন ও তিনিই আমাদের মালিক আর আমরা তার দাস। তাই স্বার্থপরতা ও অহংকার করা ভিত্তিহীন। শেষ বিচার বা বিচার-দিবসের মালিক অংশটি ভবিষ্যত সম্পর্কে অসচেতনতাও দূর করে। আলামিন শব্দটি বুঝিয়ে দেয় যে জগতগুলো বা অস্তিত্ব জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত আমরা। তাই নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখা ও একদেশদর্শী হওয়া আমাদের জন্য ধ্বংসাত্মক। আর্ রাহমানির রাহিইম তথা পরম দানশীল ও অতি দয়ালু- এ বাক্যাংশ বলে দিচ্ছে যে আমরা মহান আল্লাহর পরম দয়া ও করুণার ছায়াতলে রয়েছি।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরআনের অনুসারী হওয়ার ও কুরআনকে বোঝার তৌফিক দিন মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের শানে দরুদ পাঠানোর উসিলায়।
১৪তম রমজানের দোয়া ও তার অর্থ:

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।