মে ২৩, ২০১৯ ১০:৪৫ Asia/Dhaka

আশা করছি এ আলোচনা সবাইকে উদ্দীপ্ত করবে কল্যাণকর জ্ঞান অর্জন ও তার বাস্তবায়নে। হে সর্বজ্ঞানী ও সর্বোচ্চ করুণাময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় রমজান যেন আমাদের জন্য সারা জীবনের কল্যাণ ও সৌভাগ্য বয়ে আনে ।

খোদাভীতি বা তাক্ওয়া অর্জন রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য। আর তাক্ওয়া অর্জনের পন্থা হল মহান আল্লাহর বিধানের আলোকে সব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য জ্ঞান অর্জন ও এরই আলোকে আত্মগঠন, আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধিতে মগ্ন হওয়া। জীবনের সব ক্ষেত্রে কোন্‌ কোন্ কাজ বা বিষয়গুলো হারাম ও কোন্ কোন্‌ কাজ বা বিষয়গুলো বৈধ সেসব জানার পর বাস্তব জীবনে সেসবের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। মানুষের ওপর মহান আল্লাহর অধিকারগুলো আলোকে দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়াটা খোদাভীতির প্রথম ধাপ। এরপর সৃষ্টিকূল তথা পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং অন্য সবার অধিকার পালন করা ছাড়া খোদাভীরু হওয়া সম্ভব নয়। এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর তাঁর রাসুল ও রাসুলের প্রতিনিধিদের আনুগত্য করতে হবে জীবনের সব ক্ষেত্রে। এরপর মেনে চলতে হবে বাবা-মায়ের কথা ও নির্দেশ যতক্ষণ না সেসব ধর্মের ফরজ বিষয়গুলোর বিরোধী বা শির্কযুক্ত না হয়।

একইভাবে সমাজ ও জীবন আর জগতের অন্য সব ন্যায্য বিধানও মেনে চলতে হবে খোদাভীরু মানুষকে। মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত আল্লাহর সৃষ্টিকূলের উপকার করতে না পারলেও যেন অন্তত ক্ষতি না করি। সমাজে প্রচলিত ট্রাফিক-আইন বা কর দেয়ার আইন অমান্য করে খোদাভীরু বা সুনাগরিক হওয়া সম্ভব নয়। ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী যে সন্তান বাবা-মায়ের অবাধ্য তার রোজা পরিপূর্ণ হবে না। স্বামীর অবাধ্য স্ত্রীর রোজাও পরিপূর্ণ হবে না। আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ) বলেছেন, অনেকেই রোজা রেখে ক্ষুধা ও তৃষ্ণা ছাড়া আর কিছুই অর্জন করে না, তেম্নি অনেকে রাত জেগে নামাজ পড়ে অনিদ্রা ও কষ্ট ছাড়া আর কিছুই অর্জন করে না। নবী-নন্দিনী হযরত জাহরা (সালামুল্লাহি আলাইহা) বলেছেন, যে রোজা জিহ্বা, কান, চোখ ও শরীরের অঙ্গগুলোকে রক্ষা করতে পারেনি সে রোজা কোন্‌ কাজে আসবে?

আমিরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আ) বলেছেন, রোজা মানে হারাম বিষয়গুলো বর্জন করা ঠিক যেভাবে রোজাদার পানাহার থেকে বিরত থাকে। তিনি আরও বলেছেন, হৃদয়ের রোজা মুখের রোজার চেয়ে উত্তম এবং মুখের রোজা পেটের রোজার চেয়ে উত্তম। 

একজন খোদাভীরু মানুষ কখনও অপ্রয়োজনীয় কথা বলেন না। অহেতুক কথা বলা মানে শক্তি ও সময়ের অপচয় আর অন্যদেরও বিরক্ত করা। সমাজে যখন বহু মানুষ দুই বেলা ঠিকমত খেতে পায় না তখন সেই সমাজেই কেউ যদি বহু ধরনের খাবার খেয়ে ইফতার করেন তাকে কি খোদাভীরু বলা যাবে? সমাজের বহু মানুষ যখন ঠিকমত পরনের কাপড় সংগ্রহ করতে পারে না সেই সমাজেই কেউ কেউ প্রতি মাসে নতুন নতুন শার্ট-প্যান্ট বা শাড়ী আর শালোয়ার কামিজ কিনে সেসব দু'দিন ব্যবহার করেই উঠিয়ে রাখছে আলমারিতে! এদের জানা উচিত কুরআনে 'অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই' বলে নিন্দা করা হয়েছে। কেউ কেউ অযথাই মাঝে মধ্যে কোনো কাজে লাগে না এমন কিছু দামি শো-পিস কিনে ঘরে শো-পিসের বিশাল আস্তানা তৈরি করছে! এ কাজ কি আল্লাহর পছন্দনীয়?

খোদাভীরু হতে চাইলে আজই বদ-অভ্যাসগুলো শনাক্ত করে সেগুলো বর্জন করুন। একজন মুমিন নিজের জন্য যা চান অন্য ভাইয়ের জন্যও তা-ই চাওয়া উচিত। অথচ আমরা অনেকেই কোনো জিনিস বিক্রির সময় সর্বোচ্চ মুনাফা পেতে চাইলেও একই জিনিস কেনার সময় সমমাত্রার অর্থ খরচ করতে চাই না! আমরা অনেকেই একজন ধর্মবিমুখ, ধনী ও অসৎ প্রভাবশালী ব্যক্তিকে যত গুরুত্ব দেই একজন ধার্মিক, দরিদ্র ও সমাজের সাধারণ পর্যায়ের সৎ ব্যক্তিকে তার এক আনাও গুরুত্বও দেই না।

মহান দার্শনিক সক্রেটিস বাজারে বিক্রয়-কেন্দ্রগুলোতে সাজানো পণ্য-সামগ্রী দেখে বলতেন, এসবের অনেক-কিছু বা বেশিরভাগই আমার না হলেও চলে। এভাবে তিনি সংযম চর্চা করতেন।

প্রকৃত রোজাদার, নামাজি ও সংযমী হতে চাইলে দৃশ্যমান অনেক কিছুই আমাদের বর্জন করতে হবে: যেমন, দামী গাড়ি-বাড়ি পাওয়ার লোভ, উচ্চ-পদ বা খ্যাতির মোহ, বেশি বেশি গয়না ও অর্থ-সম্পদ জমা করা বা জমি কেনা ইত্যাদি। মহান আল্লাহ আমাদের এসব বিষয়সহ সব বিষয়ে খোদাভীরু হওয়ার তৌফিক দিন মহানবী ও তাঁর আহলে বাইতের শানে বেশি বেশি দরুদ পড়ার উসিলায়।

অর্থসহ ১৭তম রমজানের দোয়া: 

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/ ১৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।