মে ২৫, ২০১৯ ১৪:০৪ Asia/Dhaka

আশা করছি এ আলোচনা আমাদের নিয়ে যাবে খোদায়ি কল্যাণ ও রহমতের মহাসাগরের তীরে। হে সর্বজ্ঞানী ও সর্বোচ্চ করুণাময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় এই রমযান যেন সার্বিক মুক্তি ও সৌভাগ্য বয়ে আনে।

মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য জ্ঞান-অর্জন ও আত্মশুদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। কেউ যদি নিজের ভুল-ত্রুটিগুলো সনাক্ত  করে  আত্মসংশোধনের উদ্যোগ নেয় এবং আল্লাহর নৈকট্যের পথে বাধাগুলো দূর করার ব্যাপারে দৃঢ়চেতা হয় তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সহায়তা করবেন ও এ পথে এগিয়ে নেবেন। সমাজের ভালো ও মন্দ মানুষ বাছাই করে মন্দদের থেকে দূরে থাকা আত্ম-সংশোধনের জন্য জরুরি। অসৎ-জ্ঞানী ও অসৎ-ধনীর সাহচর্যের চেয়ে সৎ তথা ধার্মিক-জ্ঞানী, সৎ-ধনী ও খোদাভীরু দরিদ্রদের সাহচর্য উত্তম। সংশোধনকামী ব্যক্তিকে অসৎ দরিদ্রদের থেকেও দূরে থাকতে হবে। খোদায়ী ধর্ম ইসলাম ও পরকালের হিসাব-কিতাবের তোয়াক্কা করে না এমন ধনীদের সঙ্গে ও এ ধরনের চেতনার জ্ঞানীদের সঙ্গে বেশি চলাফেরা করলে তাদের মন্দ স্বভাবগুলোর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এমন লোকদের এড়িয়ে চলা উচিত। অন্যদিকে সংশোধনকামী ব্যক্তির উচিত বেশি বেশি ধর্মপ্রাণ জ্ঞানী ও দরিদ্রদের সঙ্গে চলাফেরা করা। ফলে মহান আল্লাহর নেয়ামতের জন্য জাগবে কৃতজ্ঞতাবোধ ও দরিদ্রদের জন্য সহানুভূতি।

হিজাব বা পর্দাসহ খোদায়ি বিধি-বিধানের কঠোর বিরোধী নারী-পুরুষদের থেকেও দূরত্ব বজায় রাখা উচিত খোদাভীরু মুসলিম নারী-পুরুষদের। স্ত্রী বা মাহরাম নয় এমন যুবতীদের সঙ্গে বিনা প্রয়োজনে কথা বলা এবং তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-পরিহাস ও কৌতুক করাকে মারাত্মক গোনাহ ও আত্মার জন্য ক্ষতিকারক বলে মনে করেন অনেকেই। যুবতী নারীদেরও এসব বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। যেসব সঙ্গীত, গল্প-উপন্যাস ও কবিতা মানুষকে বিলাসিতা, ইন্দ্রিয়পরায়নতা বা আমোদ-ফূর্তির দিকে আকৃষ্ট করে সেসব থেকেও দূরে থাকা উচিত আত্মশুদ্ধিকামী মুসলমানের। সংশোধনকামী ব্যক্তির উচিত কৃপণ, হিংসুক, লোভী, পরশ্রীকাতর, দাম্ভিক, বদমেজাজি বা নির্দয় প্রকৃতির মানুষ, গিবতকারী ও চোগলখোর তথা এখানে-ওখানে কথা লাগিয়ে ফ্যাসাদ বাধায় যারা তাদের থেকে দূরে থাকা। এ ছাড়াও ঘুষখোর, সুদখোর, মদ্যপায়ী, জুয়াড়ি, ব্যাভিচারি, মুনাফিক, প্রতারক, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, গোঁড়া-ধর্মান্ধ, যুক্তি-বিরোধী একগুয়ে, বেয়াদব এবং তোষামুদে লোকদের থেকেও দূরে থাকা উচিত। তবে কখনও সুযোগ পেলে এইসব মানুষকেও নানা উপদেশ ও সতর্কবাণী শুনিয়ে সুপথে আনার চেষ্টা করতে বাধা নেই।

কৃপণতা, লোভ, হিংসা, ভীরুতা, অলসতা, কপটতা, কাপুরুষতা, ঝগড়া-প্রবণতা, দাম্ভিকতা- এ জাতীয় বদ স্বভাবের ঠিক উল্টো পথে চলার মধ্যেই রয়েছে এসব মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক মানসিক রোগের চিকিৎসা। মৃত্যুর কথা বেশি বেশি স্মরণ এ ধরনের রোগের অন্যতম মহৌষধ।

মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম পন্থা হল ফরজ ইবাদত ও দায়িত্বগুলো পালনের পাশাপাশি বেশি বেশি নফল ইবাদত করা। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ্তায়ালা এরশাদ করেছেন : আমার বান্দা সব সময়ই নফল ইবাদতের মাধ্যমে আমার নৈকট্য সন্ধান করে যতক্ষণ না সে তার প্রতি আমার মুহব্বত আকর্ষণে সক্ষম হয়।

উত্তম আচরণ আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের আরেকটি পন্থা। প্রতিটি অপরাধ মহান আল্লাহ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। তাই সত্য-সন্ধানীকে অহংকারের জাহেলিয়াত ছেড়ে বিনয়, লোভ-লালসার নীচতা ছেড়ে স্নেহ-ভালবাসা,কার্পণ্যের কলুষতা হটিয়ে মহানুভবতা ও দানশীলতার দিকে,অকৃতজ্ঞতার অন্ধকারের অতল গহ্বর থেকে পালিয়ে কৃতজ্ঞতার সমুন্নত শিখরের দিকে এবং কপটতার অন্ধকার থেকে অকপটতা ও আন্তরিকতার সৌরভের দিকে যেতে হবে। খোদাপ্রেমিককে বস্তুজগতের বাহ্যিক সৌন্দর্য ও সম্পদের সাথে জড়িয়ে পড়ারূপ মরু মরীচিকা ছেড়ে যেতে হবে প্রেমের বাগিচা এবং আসমানগুলো ও ধরণির মহান অধিপতির ওপর নির্ভরতার দিকে, নিজেকে নিরাপদ গণ্য করার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ধারণা এবং অসচেতনতারূপ অন্ধকার থেকে আল্লাহ্ভীতিরূপ আলোর দিকে। খোদাপ্রেমিককে  হতাশা ও অবিশ্বাসের দ্বিধাদ্বন্দ্ব থেকে মুক্ত হয়ে এগুতে হবে আশা ও আস্থার জ্যোতির দিকে, ক্রোধ ও আক্রোশের ছায়া ছেড়ে ধৈর্য ও সহনশীলতার সুরভির দিকে, প্রতিকূল পরিস্থিতি ও বিপদাপদের মুখে অধৈর্য ও উদ্বিগ্ন হওয়ারূপ অন্ধকার ছেড়ে ধৈর্য ও তাকদীরের তিক্ততার কাছে আত্মসমর্পণরূপ প্রভার দিকে।

খোদার প্রেম-সন্ধানীকে উদাসীনতার অন্ধকার ছেড়ে এগুতে হবে সচেতনতা ও স্মরণ রাখারূপ দ্যুতির দিকে, জটিল পরিস্থিতিজনিত হতবিহ্বলতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অন্ধকারকে পায়ে মাড়িয়ে দৃঢ়তা ও বিনয়ের নুরের দিকে।  তাকে ফিরতে হবে পার্থিব উপায়-উপকরণের ওপর নির্ভরশীতার অন্ধকার ছেড়ে সব প্রভুর মহাপ্রভুর ইচ্ছার কাছে আত্মসমর্পণরূপ ঔজ্জ্বল্যের দিকে এবং প্রবৃত্তি ও ইন্দ্রিয়পরায়ণতার গোলামিরূপ অন্ধকার থেকে মহান সৃষ্টিকর্তার আনুগত্যরূপ আলোর দিকে।

হে পরম করুণাময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের শানে বেশি বেশি দরুদ পাঠানোর বরকতে আমাদেরকে সব ভালো গুণ অর্জনের ও বদ স্বভাব বর্জনের তৌফিক দান করুন। 

অর্থসহ ১৯ তম রমজানের দোয়া: 

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।