মে ২৬, ২০১৯ ১১:২৩ Asia/Dhaka

আশা করছি এ আলোচনা আমাদের জন্য বয়ে আনবে অশেষ খোদায়ি কল্যাণ ও রহমত। হে দয়ালুদের মধ্যে সর্বোচ্চ দয়াময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় এই রমযান যেন অশেষ রহমত, বরকত ও ক্ষমা বয়ে আনে।

রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস পবিত্র রমজানের দুই তৃতীয়াংশ শেষ হয়ে গেল। এ মাসে শেষের দশ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শেষের দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে মহিমান্বিত রাত তথা শবে-ক্বদর থাকতে পারে। এই মহান রাতেই নাজিল হয়েছিল পবিত্র কুরআন। এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ রাতে ফেরেশতারা ও রুহ তথা জিব্রাঈল (আঃ) তাঁদের পালনকর্তার আদেশে পৃথিবীতে অবতরণ ‘করেন’।

এই রাতটি আসমান ও জমিনের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির রাত। এ রাতে ফেরেশতারা অবশ্যই মানুষের অন্তর বা আত্মায় অবতরণ করেন,এছাড়া ফেরেশতাদের অবতরণের কোন অর্থ হয় না। অবশ্য সেই মানুষের কলব ফেরেশতাদের অবতরণের উপযোগী হতে হবে। কোনটি শবেকদর বা ক্বদরের রাত? বলা হয় ১৯ রমজানের রাতে কিছু বিশেষ ইবাদত নির্ধারিত রয়েছে যা পালন করার পর ২১ শে রমজানের রাতে তা সত্যায়ন করা হয় এবং ২৩ শে রমজানের রাতে তা পরিপূর্ণ করা হয়।

শবেক্বদর নির্দিষ্ট না করার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কেউ কেউ বলেন, প্রতি বছরের শবেক্বদর সে যুগের ইমামের ওপর নির্ভর করে, হয়তো সেই যুগের ইমাম ১৯ বা ২১ বা ২৩ রমজানের রাতে নিজস্ব ধ্যানের পূর্ণতা ঘটান। আর সে রাতে নেমে আসে ফেরেশতা । আদর্শ বা পূর্ণ-মানব আল্লাহর সান্নিধ্য পান বলে বিশ্ব ও মানব সমাজে কর্তৃত্ব করেন। তাই পূর্ণ মানবের আত্মাই হল ঐশী তকদিরের স্থান এবং সেখানে এর পরিমাণ নির্ধারিত হয় ও সে অনুপাতে ফেরেশতা নাযিল হয়। তাই তাদের দৃষ্টিতে শবেকদর পূর্ণ মানবের রাত বা ওলি-আওলিয়ার রাত। শবে ক্বদর রমজানের এমন একটা রাত, যে রাতে আসমান ও জমিন এবং মানুষ, স্রষ্টা ও ফেরেশতার মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। পবিত্র কুরআনের ভাষায়: সে রাতে আসমানের দরজাগুলো পৃথিবীর দিকে খোলা হয়। সে রাতে যেন প্রকৃতি ও ঊর্ধ্ব জগত একাকার হয়ে যায়। আর তার যোগসাজশ হল ইমামের অস্তিত্ব। যদি যুগের ইমাম না থাকে এই যোগসাজশ সম্ভব নয়। কারণ, ইমামই একমাত্র যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি যার বস্তুগত অস্তিত্বের সাথে সাথে আধ্যাত্মিক অস্তিত্বও রয়েছে। অর্থাৎ বস্তুজগতের বাইরেও তাঁর অস্তিত্ব রয়েছে।

মহান আল্লাহ বলছেন, আমরা ক্বদরের রাত্রিতে কুরআন নাযিল করেছি,এবং তুমি কী জান যে,ক্বদরের রাত কী ...?

এখানে মহান আল্লাহ আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম -কে সম্বোধন করে বলেছেন,তবে মূলত: তাঁর মাধ্যমে অন্য অনেক সময়ের মতো সমস্ত মানব জাতিকে প্রশ্ন করা হয়েছে, মানুষ শবেক্বদর সম্পর্কে কী জানে? এ রাতটি কেন শ্রেষ্ঠ ও কেন এ রাতে ইবাদতের মূল্য এতো বেশি? আমরা নামাজে বলি: আমরা শুধু তোমারি ইবাদত করি ও কেবল তোমারি কাছে সাহায্য চাই। অর্থাৎ ইবাদত যখন সংঘবদ্ধভাবে করা হয় তখন তার মর্যাদা বেড়ে যায়। সংঘবদ্ধ অবস্থায় মানুষের আত্মা বা রুহ একে অপরের উপর প্রভাব ফেলে। যখন অন্যদের উন্নত আত্মাগুলো ইবাদতে মশগুল থাকে তখন তার প্রভাব নিজ আত্মার ওপরও পড়ে।

ভোররাতে তথা ফজরে আজানের আগে ইবাদতে রয়েছে অনন্য স্বাদ। এ সময়ের ইবাদত অতি উত্তম। কারণ তখন মানুষের আত্মা ইবাদতের জন্য বেশি প্রস্তুত, বেশি পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকে। তাই তখনকার ইবাদতের মধ্যে হৃদ্যতা ও আন্তরিকতা বেড়ে যায়। পবিত্র আত্মার অধিকারীরা এ সময়ই ইবাদত বেশি করেন। এ সময় একটা ঐশী ঢেউ পৃথিবীতে এসে দোলা খায়। যারা তখন জেগে থাকে তারা তা বুঝতে পারে। আর যাঁরা উন্নত আধ্যাত্মিক অবস্থায় পৌঁছেছেন তাঁরা কত বেশি আনন্দ পান তা বোঝা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভবই নয়। শবেক্বদরে, যখন ইমাম ইবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ত থাকেন তখন আসমান ও জমিনের দরজাগুলো খোলা থাকে; যদি তখন আমরা ইবাদতের দিকে আগ্রহী ও উৎসাহিত হই তাহলে আমরাও সে রাতের বরকত ও রহমত থেকে উপকৃত হতে পারব,আর তা হাজার মাসের রাতের চেয়েও উত্তম হবে।

কদরের মহিমান্বিত রাতটি হচ্ছে অন্তরের আয়না ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে করে তোলার এক স্বর্ণালী সুযোগ। মন্দের স্থানগুলোকে পুণ্য ও কল্যাণময় কাজ দিয়ে পূর্ণ করা,বিচ্ছিন্নতা আর মতানৈক্যের স্থানে ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা,অন্যায়-অত্যাচারের স্থানগুলোকে ন্যায় ও দয়ার সাহায্যে ভরপুর করে তোলা,অবাধ্য সন্তানেরা পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া, যোগাযোগহীন আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক আর যোগাযোগ গড়ে তোলার সুবর্ণ সময় হলো শবেকদর। যারা কদরের রাত জেগে ইবাদাত করে,আল্লাহ তাদের নাম আল্লাহর নৈকট্য লাভকারীদের তালিকায় এনে জাহান্নামের আগু তাদের জন্যে হারাম করে দেন। এরচেয়ে বড় সৌভাগ্য ও স্বার্থকতা আর কী থাকতে পারে! সেজন্যে কদরের রাতে বেশি বেশি ইবাদত বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। যেসব দোয়া পড়বেন চেষ্টা করবেন সেগুলোর অর্থ বুঝে নেয়ার,তাহলে দোয়ার প্রতি মনোযোগ যেমন আকৃষ্ট হবে তেমনি দোয়ার ব্যাপারে আরো বেশি আন্তরিকতা সৃষ্টি হবে।

কদরের রাতে বেশি বেশি করআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদের নামাজসহ বেশী বেশী নফল আদায়, দোয়া-খায়ের,দান-খয়রাত এবং তসবিহ-তাহলিল ও কবর যিয়ারত করা গুরুত্বপূর্ণ। এতেকাফের মাধ্যমেও শবে ক্বদরের ইবাদত করা যায়। এ রাতে গোসল করা হলে পবিত্রতার পাশাপাশি শারীরিক-মানসিক উভয় প্রকার প্রস্তুতি হয়ে যায়।

শবেকদরে রাত জাগলে আল্লাহ বান্দার সকল গুনাহ মাফ করে দেবেন। তার গুনাহের পরিমাণ যদি পর্বত পরিমাণ কিংবা আকাশের তারার মতো অগণিতও হয়। তবে রাতজাগা মানে দৈহিক জাগৃতি নয় বরং অন্তরকে জাগ্রত রাখা। আর অন্তরকে জাগ্রত রাখার উপায় হলো ইমামগণের বর্ণনা এবং কুরআন- হাদীস তিলাওয়াত করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে কদরে বেশি বেশি ইবাদাত করার মধ্য দিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার তৌফিক দিন। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনইবাদতের সারবস্তু ও লক্ষ্যআল্লাহ কারো ওপর সন্তুষ্ট হলে তার জীবনের সকল গুনাহখাতা মাফ হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তাই পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই আমার নামায, কোরবানী বা ত্যাগ, জীবন মৃত্যু-সবকিছুই আল্লাহর জন্যে। সব ইবাদত জীবনের সব কাজকর্ম করার ক্ষেত্রে এই আয়াতটি স্মরণ রাখা দরকার।

২১ রমজান আমিরুল মুমিনিন হযরত আলীর শাহাদাত-বার্ষিকী।

এই দিনে পৃথিবী হারিয়েছিল বিশ্বনবীশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি ও শ্রেষ্ঠ অনুসারীকে,হারিয়েছিল বিশ্বনবী জ্ঞান-নগরীর মহাতোরণকে, হারিয়েছিল রাসূল (সাঃ)'র পর সবচেয়ে দয়ালু ও উদার আত্মার অধিকারী মানুষ এবং হেদায়েতের উজ্জ্বলতম প্রদীপকে। সেদিন মুসলিম বিশ্ব তার অত্যন্ত দুঃসময়ে হারিয়েছিল সাধনা ও আধ্যাত্মিক পূর্ণতার সর্বোত্তম আদর্শকে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় মহানবীর নিজ হাতে গড়ে তোলা ইসলামের শ্রেষ্ঠ সেনাপতি ও সবচেয়ে আপোষহীন নেতাকে। কিন্তু অকাল-মৃত্যু সত্ত্বে আমীরুল মু'মিনীন হযরত আলীর শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের স্বর্গীয় আলোকোজ্জ্বল প্রভা যুগ যুগ ধরে ইতিহাসের পরতে পরতে আদর্শ মুমিনের কর্মতৎপরতার গভীরে অতুলনীয় ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব সৃষ্টি করে চলেছে। সেই আমীরুল মু'মিনিন হযরত আলী (আঃ)'র শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে সবার প্রতি আমরা জানাচ্ছি অশেষ সমবেদনা।  

আলী (আ.) ছিলেন যুবকদের জন্য বীরত্ব ও সাহসিকতার আদর্শ, সরকার-প্রধানদের জন্য ন্যায়বিচারের আদর্শ,ইবাদত,খোদাপ্রেম ও ভারসাম্যপূর্ণ অনাড়ম্বর জীবনের জন্য সব মুমিন মুসলমানের জন্যই আদর্শ। তাঁর মুক্তিকামীতা বিশ্বের সব মুক্তিকামীর আদর্শ এবং প্রজ্ঞাময় বক্তব্য ও চিরস্মরণীয় উপদেশগুলো আলেম, বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও চিন্তাবিদদের জন্য আদর্শ।

আমিরুল মু'মিনিন আলী (আ.) ছিলেন সেই ব্যক্তিত্ব নদী-দখলকারী শত্রুরা যার বাহিনীর জন্য নদীর পানি ব্যবহার নিষিদ্ধ করলে সেই  শত্রুদের পরাজিত করার পরও তিনি ওই নদীর পানি  কোনো শত্রুর জন্য নিষিদ্ধ করেননি। জালিমদের বিরুদ্ধে আলী (আ.) সবচেয়ে কঠোর হলেও তিনি ব্যক্তিগত ক্রোধের বশে নয় বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাদের ওপর আঘাত হানতেন। সিফফিনের যুদ্ধের প্রাক্কালে উভয়পক্ষের লোকক্ষয় এড়ানো ও বিদ্রোহীদের সুপথে আনার জন্য তিনি এত বেশী অপেক্ষার নীতি গ্রহণ করেছিলেন যে, সে সময় শত্রুরা এ প্রচারণা চালিয়েছিল যে মহাবীর আলী (আ.) মৃত্যুকে ভয় পান!  অথচ শিশুর কাছে মাতৃস্তন যতটা প্রিয় শাহাদত ছিল আলীর কাছে তার চেয়েও বেশি প্রিয়।

হযরত আলী (আঃ) ছিলেন সেই ব্যক্তিত্ব যার সম্পর্কে রাসূলে পাক (সাঃ) বলেছেন, মুসার সাথে হারুনের যে সম্পর্ক তোমার সাথে আমার সেই সম্পর্ক, শুধু পার্থক্য হল হারুন (আঃ) নবী ছিলেন,তুমি নবী নও। রাসূল (সা.) বলেছেন, "আমি জ্ঞানের নগরী, আলী তার দরজা,যে কেউ আমার জ্ঞানের মহানগরীতে প্রবেশ করতে চায় তাকে এ দরজা দিয়েই আসতে হবে"।

মহানবী (সা:) আরো বলেছেন:হে আম্মার! যদি দেখ সমস্ত মানুষ একদিকে চলে গেছে, কিন্তু আলী চলে গেছে অন্য দিকে, তবুও আলীকে অনুসরণ কর, কারণ, সে তোমাকে ধ্বংসের দিকে নেবে না।বিশ্বনবী (সা:) আরো বলেছেন: * আমি আলী থেকে,আর আলী আমার থেকে,যা কিছু আলীকে কষ্ট দেয়,তা আমাকে কষ্ট দেয়,আর যা কিছু আমাকে কষ্ট দেয় তা আল্লাহকে কষ্ট দেয়।* হে আলী! ঈমানদার কখনও তোমার শত্রু হবে না এবং মোনাফেকরা কখনও তোমাকে ভালবাসবে না। অনেক সাহাবী এ হাদিসের ভিত্তিতেই মোনাফেকদের সনাক্ত করতেন।

মহানবী (সা) আলী সম্পর্কে আরও বলেছেন, আল্লাহকে ভালভাবে চেনেন শুধু আমি আর আলী। আর আলীকেও পুরোপুরি চেনেন শুধু আল্লাহ আর আমিকুরআন ও সত্য সব সময় আলীর সঙ্গে থাকবে বলে মহানবী উল্লেখ করেছেন। মহানবী আরও বলেছেন, আমার পরে সাহাবিদের মধ্যে কেবল আলীই কুরআনের মর্যাদা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করবে।
ওয়াশিংটন আরভিং বলেছেন,"সব ধরনের নীচতা ও কৃত্রিমতা বা মিথ্যার বিরুদ্ধে আলী (আ.)'র ছিল মহত সমালোচনা এবং আত্মস্বার্থ-কেন্দ্রীক সব ধরনের কূটচাল থেকে তিনি নিজেকে দূরে রেখেছিলেন।"ঐতিহাসিক মাসুদির মতে, রাসূল (সা.)'র চরিত্রের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মিল যার ছিল তিনি হলেন আলী (আ.)।

শাহাদত-প্রেমিক আলী(আ.) যখন মৃত্যুশয্যায় শায়িত,তাঁর সঙ্গীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, সবাই কাঁদছে, চারিদিকে ক্রন্দনের শব্দ, কিন্তু আলী (আ.)-এর মুখ হাস্যোজ্জ্বল। তিনি বলছেন,“আল্লাহর শপথ! আমার জন্য এর চেয়ে উত্তম কি হতে পারে যে, ইবাদতরত অবস্থায় শহীদ হব?”  হযরত আলী (আঃ) নিজেকে সব সময় জনগণের সেবক বলে মনে করতেন এবং সব সময় অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। দ্বিতীয় খলিফা বলেছেন, আলী ইবনে আবি তালিবের মতো আরেকজনকে জন্ম দেয়ার ক্ষমতা নারীকুলের কারো নেই, আলী না থাকলে ওমর ধ্বংস হয়ে যেত। জীরার ইবনে হামজা তাঁর প্রিয় নেতার গুণাবলী তুলে ধরতে গিয়ে বলেছিলেন,

"আলীর ব্যক্তিত্ব ছিল সীমাহীন,তিনি ক্ষমতায় ছিলেন দোর্দণ্ড,তাঁর বক্তব্য ছিল সিদ্ধান্তমূলক, তাঁর বিচার ছিল ন্যায়ভিত্তিক, সব বিষয়ে তাঁর জ্ঞান ছিল, তাঁর প্রতিটি আচরণে প্রজ্ঞা প্রকাশিত হত। ..তিনি ধার্মিকদের খুব সম্মান করতেন ও অভাবগ্রস্তের প্রতি ছিলেন খুবই দয়ালু । … তিনি দুনিয়া ও এর চাকচিক্যকে ঘৃণা করতেন। আমি আলী ইবনে আবি তালিবকে গভীর রাতে বহুবার মসজিদে দেখেছি যে তিনি নিজ দাড়ি ধরে দাঁড়িয়ে এমনভাবে আর্তনাদ করতেন যেন সাপে কামড় খাওয়া মানুষ এবং শোকাহত লোকের মতো রোদন করে বলতেন,হে দুনিয়া, ওহে দুনিয়া, আমার কাছ থেকে দূর হও! আমাকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করো না!" 

হযরত আলী (আঃ)' বলেছেন,  'বাহ্যিক অলংকার ও পোশাক-পরিচ্ছদ সৌন্দর্য নয়,সৌন্দর্য হল-জ্ঞান ও সভ্যতা। যার পিতা-মাতা মারা গেছে সে এতীম নয়, প্রকৃত এতীম সে যার মধ্যে জ্ঞান ও বিবেক নেই।' মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ যিনি আমাদেরকে উপহার দিয়েছেন এমন এক মহামানব।

অর্থসহ ২০ তম রোজার দোয়া:

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/২০

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।