রমজান : রহমতের বসন্ত (পর্ব-২১)
আশা করছি এ আলোচনা আমাদের জন্য বয়ে আনবে মহান আল্লাহর অশেষ সন্তুষ্টি। হে সর্বোচ্চ দয়াময়! মহানবী (সা) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইতের প্রতি দরুদ পাঠানোর উসিলায় এই রমযান যেন অশেষ আধ্যাত্মিক কল্যাণ বয়ে আনে।
মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব ও আল্লাহর জমিনে তাঁরই প্রতিনিধি। মহান আল্লাহর অন্য সব সৃষ্টিই আল্লাহকে মেনে চলে এবং আল্লাহর দাসত্ব ও প্রশংসা করে। তাই শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে মানুষের হওয়া উচিত মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ দাস ও প্রশংসাকারী। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আমি মানুষ ও জীনকে ইবাদত বা দাসত্ব করা ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। মহানবীর (সা) হাদিসের আলোকে ইবাদতের সারবস্তু হচ্ছে দোয়া। আর রমজান হচ্ছে দোয়ার বসন্ত। বিশেষ করে শবে ক্বদর হচ্ছে দোয়া কবুলের সর্বশ্রেষ্ঠ সুযোগ। ইসলাম-বিশেষজ্ঞরা বলেন, দোয়া ইবাদতের সবচেয়ে মজার মুহূর্ত। দোয়া যেন প্রভুর সঙ্গে প্রেমময় সংলাপ। নামাজের সবচেয়ে বিনম্র-প্রেমময় মুহূর্ত হচ্ছে সিজদার সময়। তাই নামাজের শেষ সিজদার সময় দোয়া পড়ার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। নামাজের দোয়াগুলো আরবিতেই বলতে হয়। কিন্তু অন্য সময় মানুষ তার মাতৃভাষায়ও দোয়া করতে পারেন।

সবচেয়ে ভালো দোয়া ও মুনাজাতগুলো কুরআন-হাদিসের বক্তব্যেরই প্রতিফলন বা অনুকরণ। কুরআনের সারাংশ হিসেবে খ্যাত সুরা তথা সুরা ফাতিহার শেষ কয়েকটি আয়াত সংক্ষেপে সবচেয়ে পরিপূর্ণ দোয়া। মহানবী (সা) ক্বদরের রাতে সংক্ষিপ্ত অথচ উত্তম এ দোয়াটি পড়তে বলেছেন: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন এবং রক্ষা করুন দোযখের আগুন থেকে। সংঘবদ্ধ দোয়া বেশি কবুল হয়। বলা হয় প্রতি ৪০ জনে অন্তত একজন আল্লাহর প্রিয় বান্দা থাকেন। তাই তার দোয়ার সৌজন্যে মহান আল্লাহ তাঁর সঙ্গীদের দোয়াও কবুল করেন। দোয়ায় মূল আর্জি পেশ করার আগে মহান আল্লাহর বেশি বেশি প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও দোয়ার আগে ও পরে দরুদ পড়া হলে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বিশেষ কোনো বৈধ আশা পূরণের জন্য দোয়ার আগে সদকা দেয়াও উত্তম। একজন ভালো মুসলমান নিজের জন্য দোয়া করার আগে অন্য মুসলমান, প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য বেশি দোয়া করেন। ইসলাম বিশ্ব-প্রেম ও মানব-প্রেমের ধর্ম। তাই এ ধর্মের দোয়ায় অন্য ধর্মের অনুসারীদেরও কল্যাণ কামনা করা হয়।
বৃষ্টির সময় এবং নামাজ ও ইফতার শুরুর আগ-মুহূর্তের দোয়াও বেশি কবুল হয়। রমজানের একটি বিশেষ দোয়ায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য বলা হয়: হে আল্লাহ! সব কবরবাসীকে দান করুন প্রফুল্লতা, প্রত্যেক দরিদ্রকে করুন ধনী, প্রত্যেক ক্ষুধার্তকে খাবার দিয়ে পরিতৃপ্ত করুন, প্রত্যেক পোশাকহীনকে দান করুন পোশাক, প্রত্যেক ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত করুন, দুঃখিতদের দুঃখমুক্ত করুন, প্রবাসে আটকে-পড়াদের স্বদেশে আনুন, প্রত্যেক বন্দিকে দিন মুক্তি, মুসলমানদের সব অসঙ্গতি দূর করুন, প্রত্যেক রোগীকে রোগমুক্ত করুন, আপনার অভাবহীনতার মাধ্যমে আমাদের অভাব দূর করুন, আমাদের মন্দ অবস্থাকে বদলে দিন ভালো অবস্থায়, ...।– বলা হয় হযরত ইমাম মাহদি (আ) যখন আসবেন তখন সবাই ধনী হবেন। তখন ক্ষুধা, দারিদ্র, ঋণগ্রস্ততা, রোগ, বন্দিত্ব, প্রবাসে অসহায় হয়ে আটকে থাকা-এসব কিছুই থাকবে না। বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের কারণে সব বা বেশিরভাগ মানুষই হবেন সৎ ও খোদাভীরু।
পবিত্র রমজানের মত একটি মহানেয়ামত ও এই মাসে শবে ক্বদর দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে বার বার কৃতজ্ঞতা জানানো উচিত। অনেকেই রমজানের আরেকটি দোয়ায় প্রতিদিন বলেন, হে আল্লাহ! আমাদেরকে এ বছর ও প্রতি বছর হজ করার সুযোগ দিন এবং সুযোগ দিন মহানবীর (সা) কবরসহ পবিত্র স্থানগুলো জিয়ারত করার... । প্রশ্ন হল যারা এমন দোয়া করছেন তারা কি প্রতিবছর হজ করতে পারছেন? কিংবা অন্য অনেক দোয়াও যা আমরা প্রায়ই করছি সেসব কবুল হওয়ার বিষয়টি কি সব সময় দৃশ্যমান বা প্রমাণিত? উত্তরে বলা যায়, কেউ এভাবে দোয়া করে প্রতি বছর বা এমনকি কোনো বছরই হজে না যেতে পারলেও রুহানিভাবে বা পরোক্ষভাবে হয়তো প্রতি বছরের হজের সাওয়াবই পাচ্ছেন। হয়ত আল্লাহর কোনো ফেরেশতা প্রতি বছরই তার প্রতিনিধি হয়ে হজ করছেন! অনেক দোয়া পরোক্ষভাবে এবং অনেক সময় দেরিতে আরও ভালো ফলসহ কবুল হয়।
মহান আল্লাহ সবার নেক-ইচ্ছাগুলো পূরণ করুন মহানবী (সা) ও তাঁর আহলে বাইতের প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ ও তওবার উসিলায়।
অর্থসহ ২১ তম রোজার দোয়া:-

পার্সটুডে/আমির হুসাইন/আবু সাঈদ/২১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।