এপ্রিল ১৭, ২০১৬ ১৫:৩৮ Asia/Dhaka

পাঠক! আমাদের প্রাত্যহিক অনুষ্ঠান কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ ১৭ এপ্রিল রোববারের কথাবার্তার আসরের শুরুতেই বাংলাদেশ ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ দৈনিকের বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম। এরপর বাছাইকৃত কিছু খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথম আলো অনলাইন: ইউপি নির্বাচন,আ.লীগ প্রার্থীর পক্ষ ত্যাগ করায় পিটিয়ে হত্যা!

ইত্তেফাক অনলাইন: সংলাপের কথা ভাবছে না সরকার : ওবায়দুল কাদের

যুগান্তর অনলাইন: আয়কর প্রবৃদ্ধি ১৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন: সিপিডি

মানবজমিন অনলাইন: জিয়া চ্যারিটেবল মামলা-খালেদার আত্মপক্ষ সমর্থন ২৫ এপ্রিল

নয়া দিগন্ত অনলাইন: রিজার্ভ চুরি দেশের অর্থব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত: সিপিডি বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন: প্রবাসীরা অর্থ পাঠাতে পারবেন মোবাইলে

ভারতের বাংলা দৈনিকের শিরোনাম:

আনন্দবাজার অনলাইন: উত্তরবঙ্গ নির্বিঘ্ন, অশান্ত বীরভূম,জেলা জুড়ে হামলার মুখে বিরোধীরা

সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন: বাংলা থেকে আমায় তাড়াবে কে-তোপ মমতার

বর্তমান অনলাইন: সৌরভ হত্যাকাণ্ডের সাজা ঘোষণা হবে আগামী ১৯ এপ্রিল

আজকাল অনলাইন: রাজ্যের দুঃখ দেখেননি, তাই কমিশনকে দেখে নিতে চান দিদি: মোদী

শিরোনামের পর এবার বাংলাদেশ ও ভারতের - সবচেয়ে আলোচিত খবরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরছি।

বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমানকে গ্রেফতার এবং পরে রিমান্ডে নেয়ার বিষয়টি টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। এ সম্পর্কে দৈনিক প্রথম আলোর শিরোনাম-‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শফিক রেহমানকে গ্রেপ্তার : তথ্যমন্ত্রী’

খবরে বলা হয়েছে, শফিক রেহমান, শওকত মাহমুদ ও মাহমুদুর রহমানকে সাংবাদিকতার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার বাইরে বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

আজ দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম চাপের মুখে নেই। মতপ্রকাশের ভিন্নমত চর্চার আইনগত অধিকার ভোগ করছে।

এদিকে দৈনিক ইত্তেফাকের খবরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সাংবাদিক শফিক রেহমানকে সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটা এখন একটি তদন্তাধীন বিষয়। তদন্তে যদি তিনি দোষী প্রমাণিত হন তাহলে তিনি শাস্তি পাবেন। আর যদি নির্দোষ প্রমাণিত হন তাহলে তিনি মুক্তি পাবেন।

অন্যদিকে দৈনিকটির অন্য একটি খবরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাংবাদিক শফিক রেহমানকে রিমান্ডে নেয়ার ঘটনাকে অমানবিক। তিনি রোববার রাজধানীর ইস্কাটনে শফিক রেহমানের বাসায় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, 'যারা এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত পোষণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হচ্ছে; জুলুম-নির্যাতন করা হচ্ছে।'

.............

এখনও বাংলাদেশ বিরোধী চক্রান্ত চলছে: তোফায়েল- এ শিরোনামটি ইত্তেফাকের।

খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টের সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘দেশ ও দেশের বাইরে এখনও বাংলাদেশ বিরোধী চক্রান্ত চলছে। ২০১৪-১৫ সালে লাগাতার নাশকতা করে যারা মানুষ হত্যা করে মানবাধিকার লংঘন করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টে তাদের কথা উল্লেখ নেই।’

রোববার ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই আওয়ামী লীগ নেতা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘যারা মানবাধিকারের লংঘনের কথা বলে তাদের দেশেই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লংঘিত হয়।’

বিশ্লেষকমহল মনে করেন, দেশের বিরুদ্ধে যদি কোনো চক্রান্ত হয় তাহলে সরকারের উচিত সেই চক্রান্তের বিরুদ্ধে অবস্থা নেয়া এবং কারা কিভাবে চক্রান্ত করছে তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা।

........

‘বারো রকমের দখল’ শিরোনামের প্রতিবেদনে দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইনে লেখা হয়েছে,বদলে গেছে দখল সংস্কৃতি। খাল-বিল, নদী-নালা,গুলশানের পরিত্যক্ত বাড়ি, টেন্ডার, সরকারি সম্পত্তি, ফুটপাত, পেশাজীবী সাংস্কৃতিক সংগঠন-সবখানেই শুধ দখল-পাল্টা দখল চলছে।

দখল-বেদখল, পাল্টা দখলের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে দেশজুড়ে। ক্ষমতার প্রভাব, দলীয় পরিচয়, অস্ত্রের বল আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে চলছে দখলবাজির দাপুটে কারবার। বিচারপতির বাড়ি, সরকারি সম্পত্তি, টেন্ডার থেকে শুরু করে পেশাজীবীদের ক্লাব-সংগঠনও দখলবাজির ধকল থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সারা দেশে প্রভাবশালীরা সর্বত্রই গড়ে তুলেছে দখলবাজির সিন্ডিকেট। এ মুহূর্তে সারা দেশে চলছে ভোটকেন্দ্র দখলের দাপুটে কারবার। নির্বাচন কমিশন আছে, তাদের নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও কোমরে গামছা বেঁধে চষে বেড়াচ্ছেন মাঠ-ময়দান। কিন্তু তাদের সামনেই মুখচেনা মানুষেরা কেন্দ্রে কেন্দ্রে হানা দিয়ে জবরদখল করে নিচ্ছে ব্যালট বাক্স।

..............

‘আতঙ্কের জনপদ ঝিনাইদহ- তুলে নেয়ার পর লাশ মিলেছে ২৩ জনের,

দৈনিক মানবজমিনের অনুসন্ধানী এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গত তিন বছরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে ২৭ জনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর লাশ মিলেছে ২৩ জনের। সর্বশেষ লাশ পাওয়া যায় আবুজার গিফারী ও শামীম মাহমুদ নামে অনার্সপড়ুয়া দুই ছাত্রের।

এ অবস্থায় আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে পুরো জেলা। এসব অপহরণ বা তুলে নেয়ার ঘটনা বেশির ভাগ প্রকাশ্যে ঘটলেও ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে চান না। জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে চাইলে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার মো. আলতাফ হোসেন সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কথা বলতে চাননি।

মানবজমিনের অন্য একটি প্রতিবেদনে- রানা প্লাজা ধস নিয়ে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রানা প্লাজা ধসের তিন বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত মানসিক সমস্যায় ভুগছেন জীবিত শ্রমিকদের ৫৯ শতাংশ। আর দুর্ঘটনার শিকার অর্ধেক শ্রমিক এখনও বেকার। গতকাল রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইডের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বেসরকারি সংস্থাটি রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আহত ১,৩০০ জন শ্রমিকের সঙ্গে টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে এ জরিপ চালায়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারপারসন হামিদা হোসেন বলেন, শ্রমিকরা যা পেয়েছে তাকে আসলে ক্ষতিপূরণ বলা যাবে না। এটা আর্থিক সহযোগিতা। রানা প্লাজা ধসের পর প্রথমে ‘রানা প্লাজা নামে’ তহবিল গঠন করা হয়। কিন্তু পরে সেটা ‘প্রধানমন্ত্রী তহবিল’ হিসেবে চালানো হয়। এই তহবিল থেকে কে কত টাকা পেয়েছে। আর কত টাকা আছে তা পরিষ্কার করা দরকার বলে মনে করেন তিনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, শ্রমিকদের জন্য যে সহায়তা দেয়া হয়েছে সেটা পূর্ণাঙ্গ নয়।

..........

‘ট্রেনের সামনে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই যুবকের’

কোলকাতার দৈনিক বর্তমান অনলাইনের এ খবরে লেখা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুরে চলন্ত ট্রেনের সামনে সেলফি তুলতে গিয়ে মৃত্যু হল দুই যুবকের। ওই দুই যুবকের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, মির্জাপুর স্টেশনের কাছে রেল ক্রসিংয়ে তারা চলন্ত ট্রেনের সামনে মোবাইল ফোনে সেলফি তোলার চেষ্টা করছিল। আর তখনও দ্রুত গতিতে ছুটে আসা ব্রহ্মপুত্র মেল তাদের পিষে দিয়ে চলে যায়।

বর্তমানে সেলফি তোলার যেন হিড়িক পড়েছে। তাই বলে চলন্ত ট্রেনের সামনে সেলফি তুলতে গিয়ে প্রাণ যাওয়া। সত্যিই মর্মান্তিক। তাই এ ধরনের সেলফি না তোলা উচিত।

তো পাঠক! এই ছিল আজকের কথাবার্তার আসরে সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ খবরের অংশ। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। আবার কথা হবে আগামীকালের কথাবার্তার আসরে। সবাই ভালো থাকবেন।#

গাজী আবদুর রশীদ/১৭