ডান্স ক্লাবের আড়ালে সহস্রাধিক নারী পাচারের ভয়াবহ চিত্র
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ১ ফেব্রুয়ারি শনিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক ইত্তেফাক
- ইত্তেফাকের অন্য একটি খবরের শিরোনাম-ভোটের সার্বিক অবস্থা সাংবাদিকরা জানেন-মাহবুবু তালুকদার
- ঢাবির সব কেন্দ্র ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে-দৈনিক মানবজমিন
- ভোটার না থাক ভোট তো আছে!-দৈনিক প্রথম আলো
- পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিনমানব পাচারের ভয়াবহ চিত্র-দৈনিক প্রথম আলো
- আস্থা নেই, তাই ভোটার কেন্দ্রে আসছে না: ড. কামাল-দৈনিক যুগান্তর
- আমি সন্তুষ্ট: সিইসি-দৈনিক সমকাল
- সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংঘর্ষে আহত ১২ -বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভারতের শিরোনাম:
- বাজেট ২০২০ : কর্মসংস্থানের কোনও দিশা নেই, বাজেটের সমালোচনা রাহুল গান্ধীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- নির্মলার বাজেটে অখুশি শেয়ার বাজার, হু হু করে পড়ছে সূচক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- চাকরির চিন্তায় উদ্বিগ্ন সমীক্ষাও -দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা! বাজেটে একাধিক ঘোষণা নির্মলার-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে ভোট গ্রহণ করা হলো আজ। কেমন হলো নির্বাচন...আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
২. ইরানের ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে শুরু হয়েছে আলোকিত ১০ প্রভাতের কর্মসূচি। বিপ্লবের ৪০ বছর পরে এসেও এর প্রভাব কেমন বলে মনে হয় আপনার?
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কযেকটি খবর:
আজ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে নানামুখী খবর জাতীয় দৈনিক এবং অনলাইন পোর্টালে বিশেষ গুরুত্বসহ পরিবেশিত হয়েছে।
দৈনিক প্রথম আলোর একটি মন্তব্য প্রতিবেদনের শিরোনাম এরকম' ভোটার না থাক ভোট তো আছে! দৈনিকটির জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক সারফুদ্দিন আহমেদের প্রতিবেদনের শুরুটা এরকম ভুট দিয়া কী কাম। কেডা পাশ করতাছে, কেডা ফেল করতাছে আফনেও জানেন, আমিও জানি। এই কারণে পাবলিক আসে নাই।’
সবুজবাগের বৌদ্ধমন্দির এলাকার কমলাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রের সামনে দাঁড়ানো মাঝবয়সী এক বাদামওয়ালা বলছিলেন। তাঁকে বললাম, ‘তাহলে এই যে ভোটকেন্দ্রের সামনে তিরিশ চল্লিশ জন লোক, এরা কারা?’ তিনি বললেন, ‘বেবাকের গলায় দেহেন দড়ি বান্ধা। অ্যারা ভুটার না, ভলেন্টিয়ার।’ দেখলাম, কথা সত্য।রিকশাচালক ভাই বললেন, ‘পাবলিক ভোট দিক তা প্রার্থীরা তো চায়-ই না, মনে কয় উপরওয়ালাও চায় না।’ তাঁর কথায় চমকে গেলাম। আরে! এই কথা তো জে লেনোর। অনেক বছর আগে এই মহান মার্কিন কৌতুকশিল্পী বলেছিলেন—‘আমরা ভোট দিই—এটি যদি ঈশ্বর সত্যিই চাইতেন, তাহলে তিনি প্রার্থীও দিতেন’।
আঙুলের ছাপ মেলেনি সিইসির, পরিচয়পত্র দিয়ে ভোট দিলেন-দৈনিক প্রথম আলো/যুগান্তর/ইত্তেফাক
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা ভোট দিতে গেলে তাঁর আঙুলের ছাপ মেলেনি ইভিএম মেশিনে। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে তিনি ভোট দেন।আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অধীন উত্তরা ৫ নম্বর সেক্টরের আইইএস মডেল স্কুল ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা।পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিইসি কে এম নূরুল হুদা। এ সময় ইভিএমে অনেকে ভোট দিতে পারছেন না—এমন অভিযোগের বিষয়ে সিইসিকে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন।
জবাবে সিইসি বলেন, ইভিএমে ভোট দেওয়ার তিন-চারটি উপায় আছে। আইডি কার্ড দেখতে পারে, পুরোনো কার্ড দেখাতে পারে। নম্বর মেলালে ছবি আসবে, ভোট দিতে পারবে।
ঢাবির সব কেন্দ্র ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে-দৈনিক মানবজমিন
ভোট চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি কেন্দ্রের কোথায়ও ধানের শীষের এজেন্ট ছিল না বলে দৈনিকটির খবরে লেখা হয়েছে। সর্বশেষ এনএক্স (কাজী মোতাহার হোসেন ভবন) কেন্দ্রের এজেন্টদের বের করে দেয় নৌকার সমর্থকরা। সব কেন্দ্রই নৌকার দখলে ছিল। বাইরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিপুল উপস্থিতি ছিল। তবে ভেতরে কোনো ভোটার নেই। জিমনেসিয়াম কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ধানের শীষের কোন এজেন্ট নেই।
আস্থা নেই, তাই ভোটার কেন্দ্রে আসছে না: ড. কামাল-দৈনিক যুগান্তর
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নগরীর ভোটাররা এই সিটি নির্বাচনে আস্থায় নিতে পারছেন না। তাই তারা ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে আসছে না। শনিবার সকালে তিনি রাজধানীর ভিকারুন্নিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন। ড. কামাল বলেন, জনগণ ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ওপর কোনো আস্থা রাখতে পারছে না। তারা ভাবছে, এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়ে কোনো লাভ হবে না। ভোটারদের উপস্থিতি দেখে আমি মোটেও সন্তুষ্ট নয়। সাড়ে ১০টার মধ্যে মাত্র একশ’রও কম ভোট পড়েছে।
ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা অভিযোগ আসছে, তাদেরকে ভোট দিতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এরকম অভিযোগ আমার কাছেও আসছে।
পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর-দৈনিক ইত্তেফাক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিভিন্ন দূতাবাসে বাংলাদেশি যারা চাকরি করেন, তাদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত গর্হিত কাজ করেছেন। বিদেশি পর্যবেক্ষক বিদেশি হতে হবে। এটা তারা ঠিক করেননি।
তিনি শনিবার সকাল ৮টার পরই ঢাকা সিটি কলেজ কেন্দ্রে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দেয়ার পর একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, যারা দূতাবাসের বাংলাদেশি কর্মকর্তা, তারা নিজেদের ভোট দিন, কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু তারা কীভাবে বিদেশি পর্যবেক্ষক হবেন? বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশি পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করে দূতাবাসগুলো কূটনীতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশি চাকরিজীবীদের মধ্যে অনেক ধরনের বৈরী লোকও আছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের আত্মীয়, জাতির পিতা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আত্মীয়স্বজন আছে। যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসূরি আছে এদের মধ্যে।
ভোট নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। আর র্যাব ডিজি বলেছেন,পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনে সঙ্গে থাকব। দুটো খবরই দৈনিক ইত্তেফাকের। তবে মানবজমিন, যুগান্তর, সমকালসহ বেশ কয়েকটি দৈনিকের ভিন্ন ভিন্ন খবরে লেখা হয়েছে, বিরোধী দলের এজেন্ট শূন্য ছিল কেন্দ্রগুলো। ইত্তেফাক লিখেছে- খুঁজে পাওয়া যায় নি বিএনপির এজেন্ট।
আমি সন্তুষ্ট: সিইসি-সমকাল
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।
শনিবার রাজধানীর উত্তরা আইইএস কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই বলেন।
কম ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রার্থীদের।
দৈনিক মানবজমিনের খবর- সিটি নির্বাচনে আক্রান্ত ছয় সাংবাদিক। ঢাকার দুই সিটির ভোটগ্রহণের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের হামলায় ছয় গণমাধ্যম কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নাজেহাল ও হেনস্থার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। অনেক গণমাধ্যম কর্মীর মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। রাজধানীর পৃথক ভোটকেন্দ্রে এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংঘর্ষে আহত ১২-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত থেকে এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ১২ জন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তবে দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন
কোথাও কোন অপ্রীতিকর কিছু শুনিনি বলে জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
চীন থেকে ফিরে ৮ জন হাসপাতালে, বাকিরা হজক্যাম্পে-দৈনিক ইত্তেফাক
বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনের হুবেই প্রদেশের উহান থেকে দেশে ফিরেছেন ৩১৪ বাংলাদেশি। এদের মধ্যে জ্বর থাকায় ৮ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। বাকিদের পাঠানো হয়েছে আশকোনার হজক্যাম্পে। জানা গেছে, বাংলাদেশে আসা ৩১৪জন যাত্রীর মধ্যে ৮ জনের শরীরে ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রার বেশি থাকায় সতর্কতাবশত ৭ জনকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া আরেকজনকে পাঠানো হয়েছে সিএমএইচ'এ।
এছাড়া যারা এখনো সুস্থ রয়েছেন তাদেরকে পাঠানো হয়েছে আশকোনার হজক্যাম্পে। সেখানে ১৪ দিন পর্যবেক্ষণের মধ্যে থাকবেন তারা।
পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন-মানব পাচারের ভয়াবহ চিত্র-দৈনিক প্রথম আলো
এ প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ডান্স ক্লাবের আড়ালে গত দেড় বছরে সহস্রাধিক নারী পাচার হয়েছেন—র্যাবের দেওয়া এই তথ্য বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের ভয়াবহ চিত্রই তুলে ধরে। শুধু ডান্স ক্লাবের নামে যদি সহস্রাধিক নারী পাচার হয়ে থাকে, তাহলে বিদেশে লোভনীয় চাকরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার নামে কত নারী-পুরুষ ও শিশু পাচার হতে পারে, তা অনুমান করা কঠিন নয়। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ৭ লাখ মানুষ অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমান, যাঁদের একটি বড় অংশ যায় পাচার হয়ে।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাচারকারী চক্র নারায়ণগঞ্জে একটি নাচের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলে ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের সঙ্গে যোগসাজশে সহস্রাধিক নারী পাচার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। গত নভেম্বরে এই চক্রের ছয়জন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাঁরা পাচারের কৌশল পাল্টে ফেলেন। আগে তাঁরা সরাসরি দুবাই ও মালয়েশিয়ায় নারীদের পাচার করতেন এবং এখন সেটি না করে আরও কয়েকটি দেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেন।
বাংলাদেশ থেকে নারী পাচার কমবেশি সব সময়ই ছিল। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেওয়ার পর সেই পাচারের মাত্রা আরও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উৎকোচের বিনিময়ে পাচারকারীদের সহায়তা করে থাকেন। অন্যদিকে মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নজির খুবই কম। অনেকে ধরা পড়েন না, যাঁরা ধরা পড়েন, তাঁরাও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসেন। মানব পাচার প্রতিরোধে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
মানব পাচারের পেছনে দারিদ্র্য, কর্ম সুযোগের অভাব, স্বল্প শিক্ষা, ভঙ্গুর পরিবার, পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা, অভিবাসন নীতিমালা ইত্যাদিকে কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি করার পরও বেকারত্ব বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছর আমাদের শ্রমবাজারে যে ২২–২৩ লাখ তরুণ প্রবেশ করেন, তার সামান্য অংশই কাজ পাচ্ছেন। বাকিরা বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছেন। অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে পাচারকারী চক্র নানা প্রলোভন দেখিয়ে বেকার তরুণ-তরুণীদের বিদেশে পাচার করছে। আমাদের জনসংখ্যার একাংশ এখনো শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। ফলে নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের পাচার করা সহজ হয়।
বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের এই ভয়ংকর প্রবণতা বন্ধ করতে হলে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত দেশের ভেতরেই কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, যাতে পাচারকারী চক্র বেকারদের প্রলুব্ধ করার সুযোগ না পায়। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রবৃদ্ধিমুখী উন্নয়নকে কর্মসংস্থানমুখী করতে হবে। তবে মানব পাচার রোধে সবচেয়ে জরুরি যে কাজ সেটি হলো পাচারকারীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা। যাঁরা মানব পাচারে সহায়তা করবেন, তাঁদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।
মানব পাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এর সঙ্গে রাষ্ট্রের মানমর্যাদার প্রশ্নও আছে। পাচারের শিকার মানুষগুলো যেমন দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে, তেমনি দেশে তাদের স্বজনদের জন্যও নিয়ে আসছে বেদনা, হতাশা ও অনিশ্চয়তা। উন্নয়নের সড়কে দ্রুত ধাবমান বাংলাদেশকে কোনোভাবেই মানব পাচারের উৎসভূমি হতে দেওয়া যায় না।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
নির্মলার বাজেটে অখুশি শেয়ার বাজার, হু হু করে পড়ছে সূচক-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের বাজেট (Budget 2020) খুশি করতে পারল না দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের। নির্মলার বাজেট বক্তৃতা শেষ হওয়ার আগেই ব্যাপক হারে পতন শেয়ার বাজারে। একসময় সেনসেক্স নেমে গিয়েছিল ৭০০ পয়েন্ট পর্যন্ত। নির্মলার বাজেট বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর কিছুটা উন্নতি হয়ে সেই পতন ৪০০-এর আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারনা, বাজেটের পর সেনসেক্সে অন্তত ১ শতাংশের পতন হতে পারে। একই সঙ্গে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটির সূচকেও ব্যাপক পতন হয়েছে। একটা সময় নিফটিও আড়াইশো পয়েন্টের বেশি কমে গিয়েছিল। নির্মলার বাজেট বক্তব্যের পর তাঁর কিছুটা উন্নতি হয়। তাতেও এক শতাংশের বেশি পতনে শেষ হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিফটি ২২৫ পয়েন্ট নিচে ঘোরাফেরা করছে। বাজেট পেশের দিন সকাল থেকেই নিম্মমুখী বাজার। বিনিয়োগকারীরা অর্থমন্ত্রীর কাছ থেকে যে স্বস্তির ঘোষণা আশা করছিলেন, তা না পাওয়ায় আরও পতন ঘটে সূচকে।
বাজেট ২০২০ : কর্মসংস্থানের কোনও দিশা নেই, বাজেটের সমালোচনা রাহুল গান্ধীর-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
দ্বিতীয় মোদি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। সকাল ১১টায় সংসদে বাজেট পড়া শুরু কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের। রুগ্ন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে একাধিক দাওয়াই । লক্ষ্য, জনমুখী বাজেট পেশ। আমজনতার প্রত্যাশা পূরণ করে কমল আয়করের হার। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত। আংশিক বেসরকারিকরণ জীবন বিমা সংস্থা, আইডিবিআই ব্যাংকে। ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য সুরক্ষা বিমার অঙ্ক বাড়ল। কৃষি, শিক্ষাক্ষেত্র এবং পরিবহণ খাতে নতুন প্রকল্প ঘোষণা। টানা ২ ঘণ্টা ৪১ মিনিট ধরে বাজেট পড়লেন সীতারমণ। তাঁর দ্বিতীয় বাজেট কতটা আশা দেখাতে পারল, তার খুঁটিনাটি একঝলকে। দিল্লির মানুষজন বাজেট থেকে কিছুই পাননি। সমালোচনা মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। বাজেটে কর্মসংস্থানের দিশা নেই, বাজেট ভাষণ শেষের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় বললেন রাহুল গান্ধী।
কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা! বাজেটে একাধিক ঘোষণা নির্মলার-দৈনিক আজকাল
শনিবার সাধারণ বাজেটে কৃষকদের জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল দ্বিতীয় মোদি সরকার। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বাজেট পেশের সময় জানালেন, কৃষি, সেচ, এবং গ্রামোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ২০২০–২১ আর্থিকবর্ষে কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ক্ষেত্রে ২.৮৩ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের জন্য ১৬টি কার্যকরী পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে এই প্রকল্পগুলি কার্যকর করার জন্য রাজ্য সরকারগুলির সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি জানান, ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা হবে। নির্মলা বলেন, ‘ইতিমধ্যেই ৬.১১ কোটি কৃষক প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার আওতায় এসেছেন।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১