ফান্ডে পয়সা নাই, চীন থেকে ফিরতে হবে ব্যক্তিগত খরচে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
প্রথমে বাংলাদেশে:
- নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন ফি কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ-দৈনিক প্রথম আলো
- সিঙ্গাপুরে করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশি ভবনের বাসিন্দাদের কাজে যাওয়া বন্ধ!-বাংলাদেশ প্রতিদিন
- বইমেলাকে 'আওয়ামী বইমেলায়' পরিণত করা হয়েছে : রিজভী’ -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
- ভাঁওতাবাজির সরকার চাই না, আমি প্রতিবাদ করতে চাই: মান্না-দৈনিক যুগান্তর
- করোনাভাইরাস: চীনে শত শত কর্মকর্তাকে ‘শাস্তি-দৈনিক ইত্তেফাক
- ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস পায়নি আইইডিসিআর-দৈনিক মানবজমিন
- ফান্ডে পয়সা নাই, চীন থেকে ফিরতে হবে ব্যক্তিগত খরচে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী-দৈনিক নয়া দিগন্ত
ভারতের খবর:
- কাজ দেখেই ভোট’, বিজেপির নাম মুখেও আনলেন না কেজরীবালদৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- ‘উন্নয়নই শেষ কথা বলবে’, দিল্লি বিধানসভা জয়ে কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন জানিয়ে মন্তব্য মমতার-দৈনিক আজকাল
- দৈনিক আজকালের খবর- রামমন্দির নির্মাণ করতে ২১টি মুসলিম সংগঠন দান করবে ৫ লাখ টাকা, সম্প্রীতির অনন্য নজির
নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন ফি কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ-দৈনিক প্রথম আলো
সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পরীক্ষার আবেদন ফি কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি কয়েকটি সড়ক ঘুরে মুরাদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ গ্রামের কৃষক ও শ্রমিকদের সন্তান। আবেদন ফি অতিরিক্ত হওয়ায় পড়ালেখা শেষ করেও তাঁরা সব চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতে পারছেন না।’ তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মতো সব চাকরির আবেদন ফি কমিয়ে ২০০ টাকার মধ্যে আনতে হবে।
উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ৪২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাকিল উজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পর চাকরির আবেদন করতে গিয়ে আমাদের প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে। অতিরিক্ত আবেদন ফি নির্ধারণ করায় গরিব শিক্ষার্থীরা সব চাকরিতে আবেদন করতে পারছেন না। উন্নত বিশ্বে যেখানে সরকার থেকে বেকারদের ভাতা দেওয়া হয়, সেখানে আমাদের দেশে চাকরির পরীক্ষার নামে বেকারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
সিঙ্গাপুরে করোনা আক্রান্ত বাংলাদেশি ভবনের বাসিন্দাদের কাজে যাওয়া বন্ধ!-বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে চীনে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৩ জেনে ঠেকেছে। এছাড়াও এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৬৩৮ জন। তবে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার তিনশ ৪৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
এদিকে, এ ভাইরাসে সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত হয়েছেন এক বাংলাদেশি। গত ১ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ৩৯ বছর বয়স্ক ওই বাংলাদেশি।
সিঙ্গাপুুরে আক্রান্ত বাংলাদেশি থাকা ডরমেটরির বাসিন্দা হওয়ায় কাজে যোগ দিতে পারেননি বেশ কয়েকজন কর্মী। সোমবার সকালে কর্মস্থলে হাজির হলেও সেখান থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয় তাদের। আপাতত ওই ভবনের বাসিন্দাদের কর্মস্থল থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। দেশটির জনশক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সিঙ্গাপুর কন্ট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি এবং কন্ট্রাক্টর-ডরমেটরি অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভাইরাস আক্রান্তদের সংস্পর্শে থাকা সবাইকে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে বলা হয়েছে।
তারা জানায়, করোনাভাইরাস আক্রান্ত বাংলাদেশি শ্রমিকের ১০ রুমমেট, তার সঙ্গে কোম্পানির একই গাড়িতে যাতায়াতকারী ৮ জন এবং কর্মক্ষেত্রের এক প্রকল্প ব্যবস্থাপকসহ মোট ১৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই বাংলাদেশি। ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে সিঙ্গাপুরের জিপি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। এর দু’দিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি এই প্রবাসীকে চাঙ্গি জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে পাঠানো হয় বেডোক পলিক্লিনিকে।
এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি ওই বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। পরে তাকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজেসে (এনসিআইডি) চিকিৎসাধীন।
বইমেলাকে 'আওয়ামী বইমেলায়' পরিণত করা হয়েছে : রিজভী’ -দৈনিক কালেরকণ্ঠ
অমর একুশে বইমেলাকে সরকার আওয়ামী বইমেলায় পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, বইমেলা ছিল সার্বজনীন। এখন সেই সার্বজনীনতা হারিয়ে গেছে। বইমেলায় এখন একদলীয় দুঃশাসনের দূরন্ত প্রভাব পড়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, এই বইমেলার বিভিন্ন স্টল আওয়ামীকরণে সজ্জিত করা হয়েছে। মেলায় ঢুকলেই মনে হয়, এটি যেন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে অমর একুশে গ্রন্থমেলা চলছে। বইমেলাটি আগে ছিল সার্বজনীন। কিন্তু বইমেলার সার্বজনীনতা হারিয়ে গেছে। বইমেলার সর্বজনগ্রাহ্য সম্ভ্রম ক্ষুণ্ন করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, দেশে চারদিকে লুটপাটের মহামারি চলছে। সরকারের লোকজন যে যেভাবে পারছে বেপরোয়াভাবে লুটে নিচ্ছে জনগণের অর্থ-সম্পদ। দেশের মানুষ ফৌত হয়ে গেছে। আওয়ামী লুটপাটের বড় খাত কেবল শেয়ার বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাংকগুলো একটির পর একটি দেউলিয়া করার পর এখন জনগণের পকেট কাটতে সরকার একটির পর একটি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দিচ্ছে। ব্যাংকে ব্যাংকে সয়লাব এখন দেশ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন সরকারের রাঘব-বোয়ালদের জন্য লুটপাটের সব অর্গল উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী কোনো রকমের যাচাই-বাছাই ছাড়া এক ব্যাংকের পরিচালকরা আরেক ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন ইচ্ছামতো। নামমাত্র ব্যবসায়ী, ব্যাংক পরিচালক, ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা ও আওয়ামী রাজনীতিকের সংঘবন্ধ চক্র সুকৌশলে লুট করছে ব্যাংকের টাকা।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক স্ট্যান্ডবাজি করতে গিয়ে এই নিশিরাতের লুটেরা সরকার যে বিশাল বাজেট তৈরি করেছিল, তার জন্য অর্থের সংস্থান করতে পারছে না। আমদানি-রপ্তানি মুখ থুবড়ে পড়েছে, রাজস্ব আয় কম হচ্ছে, সঞ্চয়পত্র থেকে আয় চলে এসেছে নগণ্য পর্যায়ে, ফলে সরকার চলছে ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ভাঁওতাবাজির সরকার চাই না, আমি প্রতিবাদ করতে চাই: মান্না-দৈনিক যুগান্তর
বর্তমান সরকারকে ভাঁওতাবাজ ও প্রতারক আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা এবং নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
তিনি বলেছেন, আমি এ সরকার, এ নির্বাচন চাই না। কারণ এ সরকার আমার ভোট কেড়ে নিয়েছে। এ সরকার আমার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এ সরকার উন্নয়নের নামে ভাঁওতাবাজি করছে। এ সরকার পণ্যের দাম বাড়িয়ে নিজেরা লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছে। আমি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চাই।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আদর্শ নাগরিক আন্দোলন আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বাতিল, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও নতুন নির্বাচনের দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
উন্নয়নের নামে দেশের মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে সরকার এমন মন্তব্য করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এ দেশের মানুষের এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে, মানুষ পেঁয়াজ, আদা, লবণ, তেল কিনতে দাম নিয়ে চিন্তা করতে হয়। সরকার টেলিভিশনে পদ্মা সেতুর স্প্যান দেখিয়ে বলে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। আমার পেটে খিদের আগুন, আমার জীবন ওষ্ঠাগত। ওনারা শুধু পদ্মা সেতু আর ফ্লাইওভার দেখান। মনে হয় আমরা ফ্লাইওভার খেয়ে বেঁচে থাকব। এত বড় প্রতারণার রাজনীতি গত ৪৯ বছরে আমরা দেখিনি।
ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ তুলে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, এখন প্রতিদিন খবরের কাগজে ছাপা হচ্ছে কত লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। কই কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে?
মানুষের দুর্বিষহ অবস্থার সমালোচনা করে মান্না বলেন, দুর্নীতি হয় ব্যাংকে, ব্যাংকগুলো নিঃস্ব। দুর্নীতি হয়েছে শেয়ারবাজারে। শেয়ারবাজারের মানুষ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমাকে বলেন তো, সামরিক বাহিনী কী করবে? সামরিক বাহিনীকে বলেন, এই যে ইব্রাহিম খালেদের রিপোর্ট। এই যে লাখ লাখ কোটি টাকা চুরি করেছে। শেয়ারবাজার ধ্বংস করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।
আদর্শ নাগরিক আন্দোলনের সভাপতি মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, কৃষক দল নেতা লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কেএম রকিবুল হাসান রিপন, জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
করোনাভাইরাস: চীনে শত শত কর্মকর্তাকে ‘শাস্তি-দৈনিক ইত্তেফাক
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ব্যর্থতার দায়ে শত শত কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে অনেক সিনিয়র কর্মকর্তারাও আছেন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে হুবেই প্রদেশের স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান ও ডেপুটি ডিরেক্টরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির স্থানীয় রেড ক্রসের ডেপুটি ডিরেক্টরকেও পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলা ব্যর্থতার দায়ে শতশত কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, এদের অনেকের বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছে এবং সেইসঙ্গে সতর্কও করা হয়েছে।
সোমবার দেশটিতে করোনাভাইরাসে রেকর্ড সংখ্যক লোকের মৃত্যু হয়েছে। এদিন করোনাভাইরাসে ১০৮ জনের মৃত্যু হয়। এতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ালো।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি দল চীনে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যে ২০০২-০৩ সালে বিশ্বে আতঙ্ক সৃষ্টি করা সার্স ভাইরাসকেও হার মানিয়েছে করোনাভাইরাস।
এছাড়া চীনের বাইরে এই ভাইরাসে ফিলিপাইনে একজন এবং হংকংয়ে আরেক জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় ২৫ টি দেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।
গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মত সমস্যা দেখা দেয়
৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাস পায়নি আইইডিসিআর-দৈনিক মানবজমিন
তাপমাত্রার সঙ্গে ভাইরাসের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইসস্টিটিউটরে (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। সবসময় সাবধানতা অবলম্বন করলে যেকোনো ভাইরাস মোকাবিলা করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য ও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান তিনি। আজ মহাখালীতে আইইডিসিআর’র কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক। তিনি বলেন, মানের তারতম্য থাকলেও দেশের হাসপাতালগুলোতে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দেয়া হবে মূল চিকিৎসা। সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি একজন নাগরিকের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাকে সেখানে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সিঙ্গাপুরকে বিশেষ নজরে রেখেছে বলে জানান পরিচালক। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চীন ফেরত শিক্ষার্থীর মধ্যে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়নি বলেও তথ্য দেন তিনি। ডা. ফ্লোরা বলেন, এখন পর্যন্ত দেশে ৫৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। কারও মধ্যেই করোনা ভাইরাসের জীবাণু পাওয়া যায়নি।
ফান্ডে পয়সা নাই, চীন থেকে ফিরতে হবে ব্যক্তিগত খরচে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ফান্ডে পয়সা নাই, এখন চীন থেকে কেউ ফিরতে চাইলে ব্যক্তিগত খরচে ফিরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। মঙ্গরবার রাজধানীতে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চীন থেকে বাংলাদেশি কাউকে এই মূহূর্তে সরকারিভাবে দেশে ফেরানো হচ্ছে না জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ব্যক্তিগত খরচে কেউ ফিরলে পরবর্তী ব্যবস্থা সরকার নেবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে আমরা প্লেন পাঠিয়ে ওদের আনব কি-না, জনগণের টাকা খরচ করে ওদেরকে আনব কি-না। আমরা খুব সংবেদনশীল, তাদের বাবা-মা অনেকে বলছেন তাদেরকে নিয়ে আসার জন্য। আমরা তাদেরকে বলেছি, আপনারা যদি নিয়ে আসেন, আমাদের কোনো আপত্তি নাই। তারা আসলে আসতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু যে জিনিসটি, আগে আমরা যাদের এনেছি, তিন কোটি টাকা আমার প্লেন ভাড়া দিতে হয়েছে, আমার ফান্ডে আর কোনো পয়সা নাই। সরকার দেবে অবশ্যই। যে জিনিসটি হচ্ছে, তারা আসতে পারে চাইলে।’
করোনাভাইরাস চীনের যে নগরী থেকে ছড়িয়েছিল সেই উহান থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩১২ বাংলাদেশিকে বিমানের একটি উড়োজাহাজ গিয়ে দেশে ফেরত আনে। কিন্তু তারপর ওই পাইলটদের অন্য দেশ ঢুকতে দিতে না চাওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিমান।
এই পরিস্থিতিতে অন্য কোনো পাইলটকে আর চীনে পাঠানোর ঝুঁকি নিতে পারছেন না বাংলাদেশ। চীনা কোনো বিমান পরিবহন সংস্থার উড়োজাহাজ ভাড়া করে উহানে আটকে থাকা আরও ১৭১ বাংলাদেশিকে আনার কথা বলা হলেও তাতে চীনা কর্তৃপক্ষের সাড়া পাওয়া যায়নি। উহানের পাশের শহর ইচাংয়েও আটকে আছেন ১৭২ জন, তারাও দেশে ফিরতে আগ্রহী।
যেসব বাবা-মা যোগাযোগ করেছেন, তাদের সন্তানদের নিজ উদ্যোগে দেশে ফেরানোর কথা বলা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলেছি আপনারা যদি আনতে চান… দেখেন আমরা এখনো ফ্লাইট ক্যানসেল করিনি। বিশেষ করে কুনিমং এবং গুয়াংজু থেকে চায়নিজ ফ্লাইট আসছে।’
উহান থেকে প্রথম দফায় ফেরা বাংলাদেশিদের কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা না গেলেও সতর্কতার অংশ হিসেবে তাদের ১৪ দিন আলাদা করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদের বেশিরভাগ রয়েছেন আশকোনার হজক্যাম্পে, বাকিরা হাসপাতালে।
চীনে আটকে থাকা বাকিদের ফেরানোর ক্ষেত্রে টাকাই একমাত্র সঙ্কট কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘নট নেসেসারিলি। এরা যদি হজ্জক্যাম্প থেকে বের না হয়, বাকিদের কোথায় রাখব?’
‘আমরা বলেছি, তোমরা যদি আসতে চাও, ডেফিনিটলি আমরা চেক করে, কোয়ারেন্টিনে পৌঁছায়ে দেব।’
কোয়ারেন্টিনে রাখার ক্ষেত্রেও জটিলতা হচ্ছে জানিয়ে মোমেন বলেন, ‘আমাদের দেশ খুব ঘনবসতিপূর্ণ, আমাদের কোয়ারেন্টিনেও কিছু সমস্যা হয়। কারণ মা, বাবা, আত্মীয়স্বজন, আশেপাশের লোক দেখা করতে চলে যায়। কোয়ারেন্টিনের লোক কেউ নামাজ পড়তে গেলেতো আমরা তাকে আটকাতে পারি না। নামাজে গেলে স্পর্শ থেকেও সেটা ছড়াতে পারে।’
নভেল করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে আপাতত নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং কিছু স্বাস্থ্য বিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম মেনে চলা।
চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ার পর গত ছয় সপ্তাহে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
নতুন করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ২৫ দেশে। সিঙ্গাপুরপ্রবাসী এক বাংলাদেশির শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ায় গত রোববার তাকে নেওয়া হয়েছে আইসোলেশন ইউনিটে। তবে বাংলাদেশে কারও মধ্যে অথবা চীনে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশির মধ্যে এ ভাইরাস সংক্রমণের খবর আসেনি এখনও।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘খুব কম দেশ- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত, সিঙ্গাপুর- এরকম কয়েকটি দেশ তাদের লোকদের ফিরিয়ে নিয়েছে। বাকি শত শত দেশের লোকেরা তাদের ওখানে আছে। চায়নিজরা ওদেরকে সাবধান করে দিয়েছে এবং দে আর টেকিং কেয়ার অব ইট।’
‘আমাদের ছেলেমেয়ে যারা আছে, তারা অভিযোগ করেছে, তাদের নাকি খাবার দেয়া হয় না। কিন্তু আমরা তথ্য নেয়ার পর দেখেছি, চায়নিজরা বলেছে তাদেরকে পানি দেয়, খাবার দেয়, যথাসময়ে পৌঁছে দেয়। দুজন চায়নিজ সিনিয়র অফিসিয়াল নিয়োগ করেছে তাদের দেখভাল করার জন্য। ওখানে তারা মোটামুটি ভালো আছে।’
সৌদি আরব ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায় বলে সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সে বিষয়ে কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই বলে জানান করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব আমাদের বলেনি কখনো এবং বলার কারণও নাই। রোহিঙ্গা হলে তাদেরকে তাদের দেশে পাঠাবে, আমাদের এখানে কেন? এগুলো মাঝেমধ্যে পত্রিকা চমক দেয় আর কি। এটাও একটা চমক।’
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার আগে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী এবং নবীন বরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি
কাজ দেখেই ভোট’, বিজেপির নাম মুখেও আনলেন না কেজরীবালদৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
শাহিন বাগ নিয়ে বিজেপিকে জবাব দিতে গিয়েও শেষ মুহূর্তে সামলে নিয়েছিলেন নিজেদের। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর সে পথ মাড়ালেন না অরবিন্দ কেজরীবাল। মঙ্গলবার বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর একবারও প্রতিপক্ষ বিজেপির নাম শোনা গেল না তাঁর মুখে। বরং কাজ দেখেই মানুষ তাদের ভোট দিয়েছেন, বার বার এমনটাই বলতে শোনা গেল তাঁকে।
এ দিন ভোটগণনা শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যেই আম আদমি পার্টির (আপ) জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। বেলা যত বাড়তে থাকে বিজেপির সঙ্গে জয়ের ব্যবধানও ততই চওড়া হতে থাকে। বিকাল ৪টের মধ্যে আপের আসন সংখ্যা যেখানে ৬৩-তে গিয়ে ঠেকে। সেখানে কমতে কমতে বিজেপির আসন সংখ্যা এসে ঠেকে সাতে।
তার পরই দিল্লিতে সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বার্তা দিতে আসেন কেজরীবাল। সেখানে তিনি বলেন, ‘‘এই জয় মানুষের জয়। কাজে বিশ্বাস রেখে ভোট দিয়েছেন সকলে। নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করেছেন।’’
দিল্লিবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘তৃতীয় বার আম আদমি পার্টির উপর ভরসা রাখার জন্য দিল্লিবাসীকে ধন্যবাদ। যাঁরা আমাকে নিজের ছেলে বলে মনে করেন, যাঁরা আমাদের ভোট দিয়েছেন, আজকের এই জয় তাঁদের জয়।’’
কেজরীবালের টুইট
এর পর নিজের টুইটার হ্যান্ডল থেকেও দিল্লিবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন কেজরীবাল। তিনি লেখেন, ‘‘ছেলেকে এত ভালবাসা দেওয়ার জন্য মন থেকে দিল্লিবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। আজ নতুন ধরনের রাজনীতির জন্ম দিয়েছেন দিল্লির মানুষ, যা হল কাম কি রাজনীতি। এই জয় ভারত মাতার জয়। জয় হিন্দ।’’
জন্মদিনে এর চেয়ে বড় উপহার আর কখনও পাননি বলে এ দিন মন্তব্য করেন অরবিন্দ কেজরীবালের স্ত্রী সুনীতাও। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘জন্মদিনে আমার কাছে এটাই সবচেয়ে বড় উপহার। সত্যের জয় হয়েছে। আমার মনে হয়, নানারকমের সমস্যা নিয়েই রাজনীতি হওয়া উচিত। কোথায় কেমন মন্তব্য করা উচিত, তা শেখা উচিত রাজনৈতিক দলগুলির।’’
• দিল্লির মানুষের উপর হনুমানজির আশীর্বাদ রয়েছে। পরবর্তী পাঁচ বছরেও হনুমানজিই রাস্তা দেখাবেন।
• যাঁরা আমাকে নিজের ছেলে মনে করেছেন, আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ।
• তৃতীয় বার আম আদমি পার্টির উপর ভরসা রাখার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
• দিল্লিতে নতুন রাজনীতির সূচনা হল। আজকের এই জয় তারই ইঙ্গিত।
• দারুণ কাজ করে দেখিয়েছেন দিল্লিবাসী। আপনাদের খুব ভালবাসি আমি।
‘উন্নয়নই শেষ কথা বলবে’, দিল্লি বিধানসভা জয়ে কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন জানিয়ে মন্তব্য মমতার-দৈনিক আজকাল
তৃতীয়বারের জন্য দিল্লি বিধানসভার ক্ষমতা দখলের জন্য অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ফোন করে অভিনন্দন জানালেন মমতা ব্যানার্জি। আপের জয়ের ইঙ্গিত পেতেই মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বললেন, ‘আমি অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে অভিনন্দন জানিয়েছি। মানুষ বিজেপিকে বাতিল করেছে। উন্নয়নই শেষ পর্যন্ত কাজ দেয়। মানুষ এখন রুটি, কাপড় আর বাড়ি চায়। মানুষ বিভাজনের রাজনীতি চায় না। আমরা খুব খুশি যে এতো ধর্মের রাজনীতি সত্ত্বেও সংকীর্ণতা জেতেনি। ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষের রাজনীতি করেছে বিজেপি। মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ডে হেরেছে। যেখানেই ভোট হচ্ছে সেখানেই হারছে বিজেপি।’মমতা আরও বলেন, ‘আপের জয় এবং বিজেপির পরাজয়ে আমি খুশি। ঘৃণার রাজনীতির কোনও জায়গা নেই। দিল্লিতে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। বিজেপি ঝুরি ঝুরি মিথ্যা বলেছে। গুজব আর মিথ্যা প্রচারের জন্য টাকা ছড়িয়েছে। কোনও ব্যবস্থা বাকি রাখেনি প্রচারের জন্য। আমি নিশ্চিত সিএএ বাতিল করবেন মানুষই। এই সব জিনিসগুলো ভোটে অর্থহীন। আশা করছি দিল্লি ভোটের পর সিএএ, এনআরসি, এনপিআর প্রত্যাহার করবে কেন্দ্র এবং দেশের অর্থনীতির দিকে নজর দেবে।’প্রসঙ্গত, তৃণমূলই একমাত্র দল, যারা ঘোষিতভাবে দিল্লি ভোটে আপকে সমর্থন করেছিল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন দিল্লির প্রবাসী বাঙালির আপকে ভোট দিতে আবেদন করেছিলেন। এদিন ভোটবাক্সের ট্রেন্ড পরিষ্কার হতেই দিল্লিতে সংসদের বাইরে তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ সৌগত রায় বিজেপিকে এই বলে কটাক্ষ করেন যে, দিল্লি বিধানসভা ভোটে হাই ভোল্টেজ প্রচার করলেও তা কাজে দেয়নি বিজেপির।
নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গ’, দিল্লিতে বিজেপির হারেই খুশি কংগ্রেস-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
আমরা জিতিনি তাতে কি, বিজেপিও তো জেতেনি! দিল্লি নির্বাচনের পর এমনটাই নাকি বলছেন কংগ্রেস (Congress) কর্মীরা। তাঁদের হাবভাবে স্পষ্ট নিজেদের জয়ের থেকেও তাঁদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিজেপির হার। আম আদমি পার্টির এই সাফল্যে তাই খুব একটা অখুশি নয় কংগ্রেস। হোক না নিজেদের ভাঁড়ার শূন্য। তাঁদের ভোটেই তো জিতছে আপ। এটা ভেবেই খুশি কংগ্রেস শিবির। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরি তো বলেই দিলেন, “সবাই জানত কেজরিওয়াল জিতবেন। তাঁর এই জয় বিজেপির ধর্মীয় রাজনীতির বিরুদ্ধে জয়।”
ভোটের ফলপ্রকাশের আগেই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কেটিএস তুলসী (KTS Tulsi) ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, আম আদমি পার্টিকে জেতাতে নির্বাচনী লড়াই থেকে নিজেদের অনেকটাই সরিয়ে নিয়েছিল কংগ্রেস। কারণ, কংগ্রেস ভোট বেশি পেলে, ভোট কাটাকাটির অঙ্কে আসলে সুবিধা পেয়ে যেত বিজেপিই। ভোটের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে তুলসীর ভবিষ্যদ্বাণী অনেকাংশে সত্যি। যে যে জায়গাগুলিতে কংগ্রেস মোটামুটি ভাল ফল করেছে সেইসব জায়গাগুলিতে বিজেপি কঠিন লড়াই দিচ্ছে আপকে। যদিও, এই সংখ্যাটা ভীষণ কম। গান্ধীনগর কেন্দ্রে কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে কংগ্রেসের ভোট কাটার জেরে গান্ধীনগর কেন্দ্রটি আপের হাতছাড়া হয়ে গেল। সেখানে এখনও এগিয়ে বিজেপি প্রার্থী। অন্য কোথাও কংগ্রেস প্রার্থী তেমন ভোট কাটেননি।
এখন প্রশ্ন হল, কংগ্রেস কি সত্যিই নিজেদের নির্বাচন থেকে সরিয়ে রেখেছিল, নাকি মানুষই তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছে? দিল্লি নির্বাচনের প্রচার পর্বের দিকে তাকালে দেখা যাবে, কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় কোনও নেতা ভোট চাইতেই যাননি মানুষের কাছে। রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী একেবারে শেষবেলায় দুটি জনসভা করলেন। সোনিয়া তো সেটাও করেননি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তো দূরের কথা, রাজ্যস্তরের শীর্ষনেতারাও সেভাবে ভোটের প্রচারে আসেননি। কপিল সিব্বল, সন্দীপ দীক্ষিত, অজয় মাকেনদের সেভাবে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই সংখ্যালঘুরা কংগ্রেসের থেকে আম আদমি পার্টিকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার উপযুক্ত দল বলে মনে করেছে। সেকারণেই কংগ্রেসের পুরো সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক চলে গিয়েছে আম আদমি পার্টির দখলে। সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনেই যেখানে কংগ্রেস ২২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল, সেখানে এবারে মাত্র সাড়ে চার শতাংশ ভোট গিয়েছে কংগ্রেসের দখলে। কংগ্রেসের ভোটব্যাংকে ধস নামিয়েই প্রায় ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে আম আদমি পার্টি।
ওয়াকিবহাল মহলের মত, বিজেপিকে হারাতে কংগ্রেসের নীচুতলার কর্মীরাই আম আদমি পার্টির হয়ে ভোট করিয়েছেন। নতুবা, এত বেশি ভোট রাতারাতি কংগ্রেস থেকে আপে ট্রান্সাফার হওয়া সম্ভব ছিল না। বিজেপিকে হারাতেই এই কৌশল নিয়েছিল রাহুল গান্ধীর দল। এখন প্রশ্ন হল, এই রণকৌশলে কি কংগ্রেসের আদৌ কোনও লাভ হল। বিজেপি তো হারল, কিন্তু হাত শিবির নিজেরাও তো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। একটি সর্বভারতীয় দল দেশের রাজধানীতে সাড়ে ৪ শতাংশ ভোট পাচ্ছে, সেটা কি আদৌ গোটা দেশের কর্মীদের জন্য ভাল বার্তা দেয়? এ প্রশ্নের উত্তর জানেন রাহুল গান্ধীরাই।#
পার্সটুডে/বাবুল আখতার/১১
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।