'পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ২৯৭ শতাংশ'
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহষ্কপতিবারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- পরিবার চায় প্যারোল বিএনপির না-দৈনিক ইত্তেফাক
- গণআন্দোলন শুরু করতে আর দেরি নয়: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
- গরিবের পকেটে হাত কেন?-দৈনিক প্রথম আলো
- সাউথ এশিয়ান মনিটরের রিপোর্ট-পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ২৯৭ শতাংশ-দৈনিক মানবজমিন
- একুশের গৌরবের ইতিহাস সব প্রজন্মকে জানতে হবে: প্রধানমন্ত্রী-বাংলাদেশ প্রতিদিন
- সোমবারের মধ্যে গ্রামীণফোনকে ১০০০ কোটি টাকা দিতে নির্দেশ-দৈনিক সমকাল
ভারতের শিরোনাম:
- গান্ধীদের সরানোর ডাক! কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে বদল চেয়ে সরব দুই শীর্ষ নেতা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
- পাক সন্ত্রাস ইস্যুতে ভারতের দলে এল চিন, ইমরানকে কড়া বার্তা দিচ্ছে এফএটিএফ-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- এনআরসি ও সিএএ বিরোধিতা অমর্ত্য সেনের-দৈনিক আজকাল
পাঠক/শ্রোতা ! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের দিকে নজর দেব।
পরিবার চায় প্যারোল বিএনপির না-দৈনিক ইত্তেফাক
দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য রক্ষায় সরকারি নির্বাহী আদেশ বা প্যারোলে মুক্ত করাতে দল ও পরিবার একমত হতে পারছে না। পরিবার চাইছে, তারা যে কোনো উপায়ে বেগম জিয়াকে মুক্ত করিয়ে বিদেশে নিয়ে চিকিত্সা করাবে। অপর পক্ষের দলের নীতিনির্ধারকেরা চান আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে জামিন অথবা কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে কারাগার থেকে বের করতে। এ নিয়ে মতানৈক্য চলছে।
তার পরিবারের সদস্যরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে প্যারোলে হলেও খালেদা জিয়ার মুক্তি চান তারা। খালেদা জিয়ারও প্যারোলের বিষয়ে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন তারা। গত ১১ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বোন সেলিমা ইসলাম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাত্ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে তার মুক্তির জন্য আবেদন পেশ করেন।
সেলিমা ইসলাম বোনের মুক্তির বিষয়ে বলেন, ‘বিদেশে উন্নত চিকিত্সার জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হোক। তার শরীরের যে ভয়াবহ অবস্থা, তাতে যে কোনো সময় একটি অঘটন ঘটে যেতে পারে। তাই প্যারোলে হলেও তার মুক্তি চাই। তাকে আগে বাঁচাতে হবে। আমরা তাকে বিদেশে নিয়ে সুচিকিত্সা করাতে চাই।’
গণআন্দোলন শুরু করতে আর দেরি নয়: রিজভী-দৈনিক যুগান্তর
দুর্বার গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, এই গণআন্দোলন গড়ে তোলতে আর দেরি করা হবে না।
কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে মিছিল শেষে সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য আমাদের দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এই গণআন্দোলন শুরু করতে আর বিলম্ব করা যাবে না, এ মূহুর্তে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কারণ বর্তমান সরকার অগণতান্ত্রিক সরকার, অনির্বাচিত সরকার।
‘এই সরকারের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের অধিকার ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তির মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে, মানুষের ব্যক্তিস্বাধীনতা ফিরে আসবে। দেশে যে গুম-খুনের আতঙ্ক বিরাজ করছে, সেই ভয়াল পরিস্থিতি থেকে মানুষ উদ্ধার হবে’-যোগ করেন বিএনপির এই নেতা। সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এই সরকার দেশের অর্থনীতিটা ধ্বংস করে দিয়েছে।
সাউথ এশিয়ান মনিটরের রিপোর্ট- পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে ২৯৭ শতাংশ-দৈনিক মানবজমিন
ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্মা সেতু। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ২৪তম স্প্যানটি বসানো হয়েছে। তাতে দৃশ্যমান হয়েছে সেতুর ৩.৬ কিলোমিটার। এভাবে ৪২টি খুঁটির ওপর ৪১টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হলে দৃশ্যমান হবে ৬.১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পদ্মা সেতুর শতভাগ। কিন্তু সেতুটির শতভাগ শেষ হওয়ার পথে সময় যেমন বাড়ছে, সঙ্গে বেড়েছে নির্মাণ খরচও। ১১ বছরে তিন ধাপে ব্যয় বেড়েছে ২৯৭ শতাংশ। ২০১৩ সালে যে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল তা এখন ঠেকেছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। গত ৩ নভেম্বর সর্বশেষ দেড় বছর সময় বাড়িয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল গত ৩০ ডিসেম্বর।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এ যাত্রায় ‘শূন্য খরচে’ প্রকল্পটির মেয়াদ বেড়েছে। তবে পরবর্তীতে ‘মেয়াদ আর বাড়ানোর অবকাশ থাকবে না’সহ সাতটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। বাকি শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ওয়ার্ক প্ল্যান এবং ব্যয়ের প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত নিয়মিত আইএমইডিতে (বাস্তবায়ন পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) পাঠাতে হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
আর তিন ধাপে এই ব্যয় বাড়াতে কখনও নদী শাসন, কখনও জমি অধিগ্রহণ বা কখনও পুনর্বাসনের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রকল্প ব্যয়ের বড় অংকটি যুক্ত হয় ২০১১ সালে। ওই বছরের ১১ জানুয়ারি সেতুর সঙ্গে রেলপথ সংযুক্ত করে প্রথম দফায় ব্যয় সংশোধন করে নির্ধারণ করা হয় ২০ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। এর আগে ২০০৭ সালের ২৮ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করে প্রকল্পটি যাত্রা শুরু করে।
তবে ২০০১ সালে প্রথম প্রকল্পটি বাস্তবায়নে হাত দেয় আওয়ামী লীগ সরকার। ওই বছরের ৪ জুলাই এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে ওই বছরের অক্টোবরের নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হয় এবং ২০০৮ সালে ফের আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়ার কার্যক্রম হাতে নেয়। বিশেষ করে ২০০৯ সালের ২৯ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফেবার মানসেল লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। খরচ কমাতে সেতুর সঙ্গে রেলপথ যুক্ত করে দ্বিতল সেতুর ডিজাইন করে ফেবার মানসেল লিমিটেড।
অপরদিকে সরকার ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করে এবং এতে উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে যোগ দেয় বিশ্বব্যাংক, এশীয় ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংক, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন (জেবিআইসি) এবং আবুধাবি ডেভলপমেন্ট গ্রুপ। এদের মধ্যে প্রধান অংশীধার ছিল বিশ্বব্যাংকের। কিন্তু ‘দুর্নীতির চেষ্টার’ অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন থেকে সরে যায় এবং একে একে সরে পড়ে এশীয় ডেভলপমেন্ট ব্যাংক ও ইসলামিক ডেভলপমেন্ট ব্যাংকও। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কিছু দিন ধরে চলতে থাকা ধীর গতি হঠাৎই স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর সরকার নিজস্ব অর্থেই এ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সেতু বিভাগের আওতায় ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্প’টিকে অনুমোদন দেয় এবং একই সঙ্গে বাস্তবায়ন ব্যয় আরও ৮ হাজার ২৮৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এছাড়া বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
ওই সময়ে সেতু নির্মাণের খরচ ১২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা ঠিক রেখে আট হাজার কোটি টাকার মধ্যে পাঁচ হাজার কোটি টাকাই ধরা হয় নদী শাসনের কাজে। জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ৮ কিলোমিটার নদীশাসনের কথা ছিল এবং ওই খাতে ২০১১ সালে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল চার হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। পরে এতে যুক্ত করা হয় আরও ১.৩ কিলোমিটার (সব মিলিয়ে ৯.৩ কিলোমিটার) এবং বাড়তি ওই ১.৩ কিলোমিটার নদীশাসনের জন্য ব্যয় বাড়ানো হয় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে নদীশাসন কাজে বরাদ্দ ছিল মাত্র দুই হাজার ৬১২ কোটি টাকা।
এরপরে তৃতীয় দফায় ২০১৮ ব্যয় বাড়ানো হয় ভূমি অধিগ্রহণ খাতে। ওই বছরের ২১ জুন এ খাতে ১৪০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব অনুমোদন দেয় একনেক। তাতে পদ্মা সেতুর মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকায়।
২০০৭ সালে ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩০৬ কোটি টাকা এবং ২০১১ সালে তা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা।
নদীশাসন আর ভূমি অধিগ্রহণের এই খাত দুটিকেই ‘দুর্নীতি যুক্ত’ খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি ব্যয় সংশোধনীতে ২০১১ সালে বড় একটি অংক যুক্ত হয়েছে। তার যৌক্তিকতাও আছে। কারণ ২০০৭ সালের ডিজাইনের থেকে পরেরটা একেবারেই ভিন্ন। কিন্তু এর পরে যে দুটি খাতে খরচ বাড়ানো হয়েছে সেখানে সন্দেহের বেশ অবকাশ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতুর (যমুনা সেতুর) প্রসঙ্গ টেনে আহসান এইচ মনসুর বলেন, ওখানে বিশ্বব্যাংকের একটি তদারকি ছিল। কিন্তু পদ্মা সেতুতে আন্তর্জাতিক কোন তদারকি নেই। তাছাড়া যমুনায় কয়েকটি কারণে সময় বেশি লেগেছিল কিন্তু ব্যয় বাড়ার তেমন কোন খবর আমরা পাইনি। ফলে ওর নির্মাণ খরচ কিন্তু আমরা ৮/৯ বছরের মধ্যেই তুলে ফেলেছিলাম। পদ্মা সেতুতে এখন যে ব্যয় ও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে তার মধ্যেও শেষ করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সন্দিহান মনসুর বলেন, এই পর্যায়ে থামা উচিত। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মূল সেতুর প্রথম স্প্যান স্থাপন করা হয়। এখনও নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার সময় যতটা দীর্ঘ হচ্ছে ততোটাই যেন দীর্ঘ হচ্ছে মানুষের স্বপ্ন পুরণের অপেক্ষা।
গরিবের পকেটে হাত কেন?-দৈনিক প্রথম আলো
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি সোহরাব হাসান তার মন্তব্য প্রতিবেদনে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের নেতা শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার সংসদের সমাপনী ভাষণে বলেছেন, ব্যাংকে টাকার কোনো সমস্যা নেই। টাকা আছে বলেই সেবা খাত, সামাজিক নিরাপত্তা, অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়নের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ এখন সিঙ্গাপুরের চেয়েও শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই কথায় সবার খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু একই সঙ্গে যখন দেখি সরকার টাকা সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং ডাকঘর সঞ্চয় প্রকল্পে জমা রাখা টাকার সুদ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে, তখন সেই খুশি বিষাদে পরিণত হয়। সরকার ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে না পেরে গ্রামাঞ্চলের গরিব মানুষগুলোর পকেটে হাত দিয়েছে। ফলে সরকার যত আশ্বাসই দিক না কেন, অন্যান্য সঞ্চয় প্রকল্পের জামানতকারীরাও দুশ্চিন্তায় আছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকে টাকার অভাব নেই। কিন্তু সেটি গরিব, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য নয়। ব্যাংকে টাকার অভাব নেই বড় বড় ঋণখেলাপিদের জন্য। তাঁরা এক ব্যাংকের ঋণ শোধ না করেই হরেক রকম কৌশলে আরেক ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেন। অনেকে ব্যাংকের টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। আবার অনেকে ব্যাংকই খোলেন টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য। এসব খেলাপিদের সঙ্গে না পেরে গরিব সঞ্চয়কারীদের পকেটে হাত দেওয়া কতটা যৌক্তিক হয়েছে সেটি একবার অর্থমন্ত্রী ভেবে দেখবেন কি?
সঞ্চয়ের বিকল্প ছিল শেয়ারবাজার। কিন্তু লুটেরাদের খপ্পরে পড়ে সেই শেয়ারবাজার এখন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো খুদে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করে না। কথিত সার্ভিস চার্জেই সুদের একাংশ চলে যায়। এ কারণে খুদে সঞ্চয়কারীরা জাতীয় সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকেছেন। সরকারও এত দিন উৎসাহিত করে এসেছিল।
দেশের অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার জন্য খুদে বিনিয়োগকারীরা দায়ী নয়। দায়ী হলো লুটেরারা। এই লুটেরারা জাতীয় সঞ্চয়েও হাত দিয়েছে। তারা বেনামে বিপুল অঙ্কের অর্থ সঞ্চয়পত্র কিনেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করলেও তা কাজে লাগেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর ইব্রাহিম খালেদ সরকারের এই পদক্ষেপকে সংবিধানবিরোধী বলে অভিহিত করেছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে দেশে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। সঞ্চয়পত্রে মুনাফা ৬ শতাংশ হলে মূল্যস্ফীতি ও ট্যাক্স বাদ দিলে তো কোনো লাভই পাবে না বিনিয়োগকরী। এ অবস্থায় সঞ্চয়পত্রে সুদহার ৬ শতাংশ কতটুকু যৌক্তিক তা ভাবার বিষয়।
সরকার সব ক্ষেত্রেই যে একযাত্রায় ভিন্ন ভিন্ন ফলের নীতি অনুসরণ করে চলেছে, ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো তার বড় উদাহরণ। ব্যাংক থেকে যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে না পেরে খুদে সঞ্চয়কারীদের পকেটে হাত দিয়েছে।
সর্বশেষ খবর হলো, প্রতিবাদ ও আপত্তির মুখে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত বুধবার বলেছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যার কথা মাথায় রেখে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে সুদের হার পুনর্বিবেচনা করা হবে। মন্ত্রী পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিলেও তাঁর মন্ত্রণালয় থেকে কোনো পরিপত্র জারি না হওয়া পর্যন্ত ডাকঘরের সঞ্চয়কারীদের আমানতের সুদের হার ৬ শতাংশই থেকে যাচ্ছে। পুনর্বিবেচনার পর হারটি কী দাঁড়াবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
একুশের গৌরবের ইতিহাস সব প্রজন্মকে জানতে হবে: প্রধানমন্ত্রী-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একুশের গৌরবের ইতিহাস সব প্রজন্মকে জানতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদকপ্রাপ্তদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের বিষয়ে তিনি তার অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখে গেছেন। কিন্তু বার বার তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ইতিহাস-ইতিহাসই। দেশের ইতিহাস বারবার বিকৃত হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না।
তিনি বলেন, একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করতে। একুশের রক্তে লেখা হয়েছিল স্বাধীনতা। আমাদের জন্য এ দিনটি অত্যন্ত গৌরবের।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন অবদানের কথা স্মরণ করেন।
এরআগে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২০ সালের একুশে পদক বিজয়ী হিসেবে ২০ ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে।
একুশে পদক ২০২০ প্রাপ্তরা হলেন- ভাষা আন্দোলনে প্রয়াত আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন, শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে প্রয়াত হাজি আক্তার সরদার (মরণোত্তর), প্রয়াত আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), প্রয়াত ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ কারী আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে ড. নুরুন নবী, প্রয়াত সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি এবং চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। পাশাপাশি ‘গবেষণা’য় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
২০ ফেব্রুয়ারি অগ্নিঝরা ‘একুশে’র প্রতীক্ষায় ছিল পুরো জাতি-দৈনিক ইত্তেফাক
১৯৫২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অগ্নিঝরা ‘একুশে’র প্রতীক্ষায় ছিল পুরো জাতি। সারাদেশে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরদিন প্রতিবাদের রূপ কী হয় তা নিয়ে একটা তুমুল আলোড়ন চলছিল মানুষের মনে। আর ছাত্র যারা এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তারা ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আজ রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন ভাষা আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া অকুতোভয় সৈনিকদের। এরপর সাধারণ জনগণ আসবে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।
১৯৫২ সালের এই দিনে ছাত্রদের আন্দোলনের প্রস্তুতির তীব্রতা ও অনমনীয় ভাব দেখে পূর্ববঙ্গ সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে ঢাকা শহরে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করে দেয়। মূলত জনমনে ভীতি ও ত্রাস সঞ্চারের চিরাচরিত পন্থাই সরকার গ্রহণ করেছিল। তবে এসব ভয়ভীতিতেও দমানো যায়নি ছাত্রদের।
সরকারের ১৪৪ ধারা প্রবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১-এর কর্মসূচি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্মপরিষদের যে বৈঠক হয়, সেখানে ১১-৪ ভোটে ১৪৪ ধারা না ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ছাত্ররা, বিশেষ করে অলি আহাদের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ এর বিরোধিতা করে। অলি আহাদ বলেছিলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত আমরা মানি না। আগামীকাল (২১ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় যে ছাত্রসভা হবে, তাতে ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে যদি রায় হয় তবে আমরা ভাঙার পক্ষে।’
এ প্রসঙ্গে গাজীউল হক বলেন, অলি আহাদ, মেডিক্যাল কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি গোলাম মওলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মতিন ১৪৪ ধারা ভাঙার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। ফজলুল হক হলের সহসভাপতি শামসুল আলম এদের সমর্থক ছিলেন।
সোমবারের মধ্যে গ্রামীণফোনকে ১০০০ কোটি টাকা দিতে নির্দেশ-দৈনিক আনন্দবাজার
আগামী সোমবারের মধ্যে গ্রামীণফোনকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নিরীক্ষা দাবির পাওনা এক হাজার কোটি টাকা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
গ্রামীণফোনের করা রিভিউ আবেদনের শুনানি করে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। গ্রামীণফোনের পক্ষে শুনানি করেন এ এম আমিন উদ্দিন ও মোহাম্মদ মেহেদী হাসান চৌধুরী। গত ২৪ নভেম্বর আপিল বিভাগ প্রায় ১২ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পাওনার মধ্যে বিটিআরসিকে তিন মাসের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা দিতে গ্রামীণফোনকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ। এ আদেশ রিভিউ চেয়ে আবেদন করে গ্রামীণফোন। পরে ব্যারিস্টার মেহেদী হাসান চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার আদালত বলেছেন সোমবারের মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে আসতে। ওইদিন রিভিউ আবেদনের ওপর আদেশর জন্য দিন রেখেছেন আদালত।
চীনে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,১২১-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২,১২১ জনে দাঁড়িয়েছে। আজকের হিসাব অনুসারে আরো ১১৪ জন মারা গেছেন। গত এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে এটি একদিনে সবচেয়ে কম মৃত্যুর সংখ্যা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের হার কমা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, ভাইরাস সংক্রমিত সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের আজকের (বৃহস্পতিবার) তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ১৬৯ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।
চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, আজ মাত্র ৩৯৪ জন নতুন করে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। গত ২৯ জানুয়ারির পর থেকে এটি একদিনে সবচেয়ে কম সংখ্যক মানুষের সংক্রমিত হওয়ার রেকর্ড। গতকাল আক্রান্ত হয়েছিলেন ১,৭৪৯ জন এবং সেটিই ছিল কম সংক্রমেনর রেকর্ড। ফলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে। চীনে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ৭৪ হাজার ৬৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথমবারের মতো ধরা পড়ে নভেল করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত এটি বিশ্বের অন্তত ২৮টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। চীনের হুবেই প্রদেশের উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজার থেকে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায় নি। তবে সিঙ্গাপুরে পাঁচ বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
পাক সন্ত্রাস ইস্যুতে ভারতের দলে এল চিন, ইমরানকে কড়া বার্তা দিচ্ছে এফএটিএফ-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
আন্তর্জাতিক মঞ্চে যত বারই পাক সন্ত্রাসের প্রসঙ্গ উঠেছে, ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। কিন্তু, এ বার সেই বেজিংই নিজেদের অবস্থান থেকে কার্যত ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে নয়াদিল্লির পাশে দাঁড়াল বেজিং। ভারত-সহ আমেরিকা ও ইউরোপিয়ান দেশগুলি সন্ত্রাস দমনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে যে বার্তা দিতে চলেছে, সেই তালিকায় এ বার যোগ দিচ্ছে চিনও। দলে যোগদান সৌদি আরবও। জুন মাসে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের প্লেনারি সেশনের আগে দুই দেশ এবং বিশেষ করে চিনের এই অবস্থান বদল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। চিনে নোভেল করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের পর ভারতীয়দের উদ্ধার করে দেশে ফেরানোয় যথাসাধ্য সহযোগিতা করেছিল শি চিনফিংয়ের প্রশাসন।
এনআরসি ও সিএএ বিরোধিতা অমর্ত্য সেনের-দৈনিক আজকাল
নতুন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের সঙ্গে এনপিআর, এনআরসি নিয়ে আবার কেন্দ্রের মোদি সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বুধবার এ সম্পর্কে কলকাতায় একটি অনুষ্ঠানের পর অমর্ত্যবাবু বলেন, ‘যা হচ্ছে, তা অসাংবিধানিক। নাগরিক অধিকার খর্ব হচ্ছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘আমার বাবা–মায়েরও সার্টিফিকেট চাইলে কোথা থেকে দেব?’
এদিন কলকাতায় এসে সকাল এবং সন্ধেয় দুটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন অমর্ত্যবাবু। সকালে শিশির মঞ্চে ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। পরে সন্ধ্যায় প্রতীচী ইনস্টিটিউটের পক্ষে আদিবাসীদের নিয়ে একটি সমীক্ষা রিপোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন তিনি এশিয়াটিক সোসাইটির হলে। দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি এবং প্রতীচী ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় ‘লিভিং ওয়ার্ল্ড অফ দি আদিবাসিজ অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল: অ্যান এথনোগ্রাফিক এক্সপ্লোরেশন’ নামে ওই সমীক্ষা রিপোর্টে মূলত পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসীদের অবস্থান নিয়ে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রে মোদি সরকারের বিভিন্ন কাজকর্মের বিরুদ্ধে এর আগেও সমালোচনা করেছেন বিশ্বজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্যবাবু। পাল্টা তাঁকে কু–ভাষায় আক্রমণ করতে ছাড়েনি গেরুয়া শিবিরের প্রতিনিধিরা। দেশের সাম্প্রতিক ক্যা, এনপিআর, এনআরসি প্রসঙ্গে কোনও রকম রাখঢাক না রেখেই এদিনও সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন বিজেপি–কে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ভারতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আসছেন তাই গুজরাটে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আবার অর্থনীতির অগ্রগতিতেও ভারতকে প্রথমদিকে রাখা হচ্ছে। এ সম্পর্কে আপনার মত কী? জবাবে অমর্ত্যবাবু বলেন, ‘এটা চিন্তার বিষয়। রাস্তার পাশে যারা থাকে, তাদের উৎখাত করা হচ্ছে। আমাদের দেশকে অর্থনীতিতে বড় করে দেখানো হচ্ছে। কিন্তু, বাংলাদেশ বহুক্ষেত্রে এখন এগিয়ে রয়েছে। তাছাড়া লোকসংখ্যাও একটা বড় সমস্যা আমাদের দেশে।’ পশ্চিমবঙ্গের আদিবাসীদের সম্পর্কে প্রতীচী ও দ্য এশিয়াটিক সোসাইটির সমীক্ষা রিপোর্টটি এদিন প্রকাশ করা হয় অমর্ত্যবাবুর হাত দিয়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতি ঈশা মহম্মদ, সাধারণ সম্পাদক সত্যব্রত চক্রবর্তী, প্রতীচীর ডিরেক্টর মানবী মজুমদার–সহ কুমার রানা, সুজিতকুমার দাস প্রমুখ।
গান্ধীদের সরানোর ডাক! কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে বদল চেয়ে সরব দুই শীর্ষ নেতা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
টানা দুটি লোকসভা নির্বাচনে ল্যাজে গোবরে পরিস্থিতি হয়েছে। বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করা তো দূর, প্রধান বিরোধী দলেরও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি কংগ্রেস। সংগঠন নামের শব্দটিই কংগ্রেসের অন্দরে এখন একপ্রকার অবলুপ্ত। অথচ, এতকিছুর পরও হেলদোল নেই শীর্ষ নেতৃত্বের। দলের অন্দরে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আছে। দল স্পষ্টতই দুটি শিবিরে বিভক্ত। যাঁরা দিল্লিতে বসে কংগ্রেসের নীতি নির্ধারণ করেন, তাঁদের কাজে চরম অখুশি নিচুস্তরের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু, এতদিন কিছুই প্রকাশ্যে আসছিল না। দিল্লি নির্বাচনে ভরাডুবির পর সেই ক্ষোভের আঁচ এবার টের পেতে শুরু করল কংগ্রেস। দলের অন্দরেই শুরু বিদ্রোহ। প্রকাশ্যে গান্ধীদের নাম না নিলেও তাঁদের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করলেন শীর্ষ নেতারাই। #
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২০