ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০ ১৩:৫২ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: রেডিও তেহরানের প্রাত্যহিক আয়োজন কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি রোববারের কথাবার্তার আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • অনলাইনে টিকিট বিক্রি করে কয়েকশ কোটি টাকা পাচার-দৈনিক ইত্তেফাক
  • ক্যাসিনো খালেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট-দৈনিক যুগান্তর
  • খালেদার চিকিৎসার তিন অবস্থার তথ্য চেয়েছেন আদালত -দৈনিক প্রথম আলো
  • করোনাভাইরাস-বিদেশ ভ্রমণে সতর্ক থাকার পরামর্শ -দৈনিক মানবজমিন খালেদা জিয়াকে জামিন পাওয়া অধিকার
  • থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে: ফখরুল-বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • বিটিআরসিকে ১০০০ কোটি টাকা দিল গ্রামীণফোন-দৈনিক সমকাল

ভারতের শিরোনাম:

  • মোদি-ট্রাম্প জোট বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের প্রতিবাদে বিদ্বজ্জনরা -দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
  • ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বড়াই জিইয়ে রাখতে ফের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন মোদী-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • চন্দন দস্যু বীরাপ্পনের মেয়ে যোগ দিলেন বিজেপিতে!‌ জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে জোর চর্চা শুরু-দৈনিক আজকাল

পাঠক/শ্রোতা ! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক। প্রথমেই বাংলাদেশের কয়েকটি খবরের দিকে নজর দেব।

খালেদার চিকিৎসার তিন অবস্থার তথ্য চেয়েছেন আদালত-দৈনিক প্রথম আলো

Image Caption

বিএনপির কারাবন্দী চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা–সম্পর্কিত তিন অবস্থার তথ্য জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুসারে খালেদা জিয়া অ্যাডভান্স থেরাপির জন্য সম্মতি দিয়েছেন কি না, দিলে সেই চিকিৎসা শুরু হয়েছে কি না, চিকিৎসা শুরু হলে এখন কী অবস্থা, তা জানিয়ে আগামী বুধবারের মধ্যে আদালতে এ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়াই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে ওই প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী বৃহস্পতিবার তা কার্যতালিকায় আসবে।

করোনাভাইরাস-বিদেশ ভ্রমণে সতর্ক থাকার পরামর্শ-দৈনিক মানবজমিন

আইইডিসিআর এর পরিচালক মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা

চীনের বাইরে বেশ কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এই অবস্থায় বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। তবে এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা বা নিষেধাজ্ঞা নয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির  পরিচালক মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, যেহেতু করোনাভাইরাস বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে, তাই খুব প্রয়োজন না হলে বিদেশ ভ্রমণ করাকে নিরুৎসাহিত করছি আমরা, তবে নিষেধ করছি না। বলেন, কিছু কিছু দেশে এই ভাইরাসের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেক্ষেত্রে সেরকম কোনো জায়গায় গিয়ে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক যদি সংক্রমিত হন, তাহলে বাংলাদেশে ভাইরাস প্রবেশ করা ঠেকানো আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

অনলাইনে টিকিট বিক্রি করে কয়েকশ কোটি টাকা পাচার-দৈনিক ইত্তেফাক

অনলাইনে এয়ারলাইন্সের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বছরে কয়েকশ কোটি টাকা পাচার করছে একটি চক্র। বাংলাদেশের কিছু ট্রাভেল এজেন্ট বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সির পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দেদারসে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অনলাইনে টিকিট বিক্রির এ টাকা সরাসরি চলে যাচ্ছে বিদেশের ট্রাভেল এজেন্সির একাউন্টে। শুধু তাই নয়, অনলাইনে টিকিট বিক্রির ফলে সরকার বিভিন্ন প্রকার কর থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, টিকিট বিক্রির জন্য বিভিন্ন এয়ারলাইন্স বাংলাদেশে জেনারেল সেলস এজেন্ট (জিএসএ) নিয়োগ দিয়ে থাকে। তারা এয়ারলাইন্সের পক্ষে যাত্রীদের কাছে টিকিট বিক্রি করে থাকে। টিকিট বিক্রির পর কমিশনের টাকা দেশে রেখে বাকী টাকা বিদেশি এয়ারলাইন্সের একাউন্টে পাঠিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে জিএসএগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে থাকে। এছাড়া জিএসএগুলো টিকিট বিক্রির অর্থের ওপর সরকারকে নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট ট্যাক্স দিয়ে থাকে। কিন্তু অনলাইন ট্রাভেল এজেন্টগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ কোনো অর্থ গ্রহণ করে না। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের অর্থ সরাসরি চলে যায় বিদেশি এয়ারলাইন্সের অ্যাকাউন্টে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ ভ্যাট-ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

কয়েকদিনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি বিদেশি ট্রাভেল এজেন্টের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে বাংলাদেশের ট্রাভেল এজেন্টগুলো টিকিট বিক্রি করছে। এসব দেশি এজেন্ট এবং তাদের ব্যবহার করা ওয়েবসাইট হচ্ছে- ট্রিপ অ্যান্ড কেয়ার (ট্রিপএনকেয়ার ডটকম), জিটিআরআর( জিটিআরআরট্রাভেলস ডটকম), আকবর ট্রাভেলস(এক্সইন্ডিয়া ডট আকবরট্রাভেলসঅনলাইন ডট কম), স্টার ডিএমসি (স্টারডিএমসি ডটকম), নিড৮২(নিড৮২ ডটকম), ভিয়া ডটকম (ইন ডট ভিয়া ডটকম), টিভিও হলিডেজ (ট্রাভেলবুটিকঅনলাইন ডটকম), মাইসটিফ্লাই (মাইসটিফ্লাই ডটকম)।

কাদের-ফখরুলের টেলিকথনে যা ছিল-দৈনিক মানবজমিন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি টেলিফোন নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ১৩ই ফেব্রুয়ারি টেলিফোনে কথা বলেন ফখরুল। পরের দিন ওবায়দুল কাদের নিজেই ওই টেলিকথনের     

 বিষয় প্রকাশ করেন। এরপর থেকে এ নিয়ে আলোচনা সর্বত্র। ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কথা বলেছেন ফখরুল। বিএনপি চেয়ারপারসনের প্যারোলের বিষয়টিও এসেছে আলোচনায়। পরে বিএনপি মহাসচিব অবশ্য দাবি করেছেন তিনি দলীয় চেয়ারপারসনের প্যারোল নিয়ে কথা বলেননি। আসলে কী কথা হয়েছিল দুই নেতার মধ্যে।

এ নিয়ে কৌতুহল সর্বত্র। সেদিন দুই নেতার মধ্যে সাত মিনিটের মতো কথা হয়। তাদের সেই টেলিকথনের একটি নথি মানবজমিন-এর হাতে এসেছে। তাদের কথোপথনের বিষয়টি হুবহু তুলে ধরা হল।

মির্জা ফখরুল: কাদের ভাই আসসালামুআলাইকুম।

ওবাদুল কাদের: ওলাইকুম আসসালাম।

মির্জা ফখরুল: ভাই কেমন আছেন..?

ওবায়দুল কাদের: হুম, আছি মোটামোটি ভাল।

মির্জা ফখরুল: আপনার শরীরের অবস্থা এখন কেমন আছে?

ওবায়দুল কাদের: আছে মোটামোটি ভাল। কয়েকদিন ধরে শরীরটা ভাল যাচ্ছে না।

মির্জা ফখরুল: চেকাপ করবেন, অসুখের ওপর খেয়াল রাখবেন:

ওবায়দুল কাদের: হুম, নিয়মিত চেকআপ করাচ্ছি। ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ আছে।

মির্জা ফখরুল: আপনাকে একটি বিষয় অবহিত করার জন্য ফোন দিয়েছি। আপনি জানেন, আমাদের ম্যাডাম খুবই অসুস্থ। দুইদিন আগে তার পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। তাদের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। তারা আমাকে বলেছেন, ম্যাডামের শারীরিক অবস্থা খুবই সংকটজনক। যা আপনাকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

ওবায়দুল কাদের: হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলেছেন যে, তার অবস্থা স্থিতিশীল। আপনারা বলছেন, অন্য কথা। তাহলে কার কথা শুনবো। মেডিকেলের রিপোর্টের বাইরে যাওয়ার আমাদের কোন সুযোগ নেই। তার বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। আদালতের ওপরতো আমাদের কোন হস্তক্ষেপ করার নাই। এটা আমরা বার বার বলছি এবং এখনও বলছি।

মির্জা ফখরুল: জি.., আপনি, আমি, জানি যে, কী মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের: কী মামলা মানে? এটাতো আমাদের আমলের সময় মামলা নয়, এই মামলাটি হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। মামলাটি পুরনো। দীর্ঘদিন ধরে বিচার চলছে। একদিনেও বিচার হয়নি। দীর্ঘদিন বিচার চলার পর ওই মামলার রায় হয়েছে। আদালত রায় দিয়েছে, বিষয়টি আদালতের ব্যাপার। এখানে সরকারের কিছু করার নেই। আর যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চিকিৎসা চলছে সেটি বিশ্বমানের চিকিৎসা। আমার চিকিৎসাও সেখানে হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল: আমরা আদালতে বার বার জামিনের জন্য আবেদন চাইতে গেছি। আদালত দেয়নি। আপনি বলেন, বিচার বিভাগ কী পুরোপুরি স্বাধীন?

ওবায়দুল কাদের: বিচার বিভাগ পুরোপুরি স্বাধীন রয়েছে। এই বিচার বিভাগের প্রতি দেশের মানুষের আস্থা রয়েছে। আদালত স্বাধীন।

মির্জা ফখরুল: হুম...., আমরা বার বার আদালতে গেছি....কিন্তু, আদালত ম্যাডামকে জামিন দেয়নি। বিষয়টি আপনারা মানবিক দৃষ্টিতে দেখেন। তিনি তিন বারের প্রধানমন্ত্রী। সাবেক রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। বাংলাদেশের বড় দলের সর্বোচ্চ নেতা। আপনারা মানবিক দৃষ্টিতে দেখেন। আপনাদের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

ওবায়দুল কাদের: হুম.., আমরাতো বলেছি যে, আমরা আদালতের বাইরে যেতে পারবো না। এর বাইরে যাওয়া সরকার ও দলের কোন এখতিয়ার নেই। আপনারা আদালতে যান। আদালতেই আপনাদের সামনের শেষ রাস্তা।

আরেকটি রাস্তা আছে যে, তাকে প্যারোল চাইতে হলে আইন অনুযায়ী তাকে দোষ স্বীকার করে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। প্যারোলের আবেদন আসলে সরকার বিষয়টি ভেবে দেখবে। আমাদের গন্ডির মধ্যে থাকতে হবে....। এর বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

মির্জা ফখরুল: আমরা যে, প্যারোল চাইবো তা আপনাদের এই মামলা নিয়ে যে সব কাণ্ড করলেন তা ভরসা করতে পারছি না। প্যারোল চাইলেই যে, তিনি মুক্তি পাবেন তা ভরসা করা যাচ্ছে না। তার দল থেকে প্যারোল চাইতে পারে। তবে আমরা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে দেখার জন্য আপনাদের কাছে দাবি করছি। আপনারা বিষয়টি মানবিক হিসাবে দেখেন। ম্যাডাম খুব অসুস্থ। হঠাৎ একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেলে এর দায় কে নিবে বলেন? আপনারা বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোনে দেখেন।

ওবায়দুল কাদের: বিষয়টিতো মানবিক ভাবেই দেখা হচ্ছে। তার ভাল চিকিৎসা হচ্ছে, উন্নত হাসপাতালে। আপনারা আদালতে যান। আদালতেই এর সমাধান দিবে।

মির্জা ফখরুল: ওকে, কাদের ভাই ভাল থাকেন।

ওবায়দুল কাদের: আপনিও ভাল থাকেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে। এই মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে দায়ের করা আপিলে সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। উচ্চ আদালতে প্রথম বার জামিন আবেদন করেও খালেদা জিয়ার জামিন মেলেনি। পরে গুরুতর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে আবারও জামিন আবেদন করা হয়েছে। আজ এ আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

ঢাকায় একটা দমবন্ধ অবস্থার মধ্যে আছি: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান-দৈনিক প্রথম আলো

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নির্বাহী প্রধান। তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে ঢাকার পরিবেশ, নগরজীবনসহ নানা সমস্যা ও সেগুলো সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে কথা বলেন।

ঢাকায় একটা দমবন্ধ অবস্থার মধ্যে আছি। প্রচণ্ড অস্বস্তিকর অবস্থায় আছি। যতক্ষণ বাসার মধ্যে থাকি, ততক্ষণ তা–ও একটু স্বস্তি; কিন্তু বাসা থেকে বের হলেই অস্বস্তি, দুর্ভোগ। কোথাও যাব, সেটার জন্য দু-তিন দিন আগেই পরিকল্পনা করতে হয়। আমরা যারা কর্মজীবী, আমাদের একই দিনে দুটি মিটিং থাকতে পারে। যদি এমন হয়, একই দিনে আমাকে হাইকোর্টে একটি মামলার শুনানি করতে যেতে হবে, আবার গুলশানে একটি মিটিং করতে যেতে হবে, তাহলে আমাকে গুলশানের মিটিংয়ের সময়টা নিতে হয় সকাল ৯টায়; যাতে করে সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে মিটিংটা শেষ করে হাইকোর্টে চলে আসতে পারি। কখনোই আমার মিটিংটা বেলা দুইটার পরে নেওয়ার সুযোগ নেই; যদিও আমি জানি যে হাইকোর্টে আমার শুনানি শেষ হয়ে যাবে। কারণ, হাইকোর্ট থেকে রওনা হয়ে কখন গুলশান পৌঁছাতে পারব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ক্যাসিনো খালেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট-দৈনিক যুগান্তর

ক্যাসিনো খালেদ

মানিলন্ডারিং মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।রোববার নিম্নআদালতে এই চার্জশিট জমা দেয় সিআইডি। সিআইডির মুখপাত্র ফারুক হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।চার্জশিটে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, তার ভাই মাসুদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও হাসান মাহমুদ ভূঁইয়া, খালেদের ম্যানেজার হারুন রশিদ, শাহাদৎ হোসেন উজ্জ্বল ও মোহাম্মদ উল্লাহ খানের নাম উল্লেখ রয়েছে।এ ছাড়া আসামিদের বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজির প্রমাণ পাওয়া যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে চার্জশিটে। ক্যাসিনো মামলায় সিআইডি তদন্তাধীন এটিই হবে প্রথম চার্জশিট। খালেদ ছাড়াও ক্যাসিনো বস ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, টেন্ডার কিং জিকে শামীম ও কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজিবসহ একাধিক অর্থপাচার মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী ঝটিকা অভিযানের প্রথম শিকার খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অস্ত্র ও মাদকসহ র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। তার বিরুদ্ধে একে একে ৫টি মামলা করা হয়।

সিআইডি সূত্র বলছে, রাজনৈতিক সাইনবোর্ড কাজে লাগিয়ে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা কামান। কিন্তু এ টাকা এখন তার গলার কাঁটা।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশে টাকা পাচারের ক্ষেত্রে খালেদ অভিনব কৌশল বেছে নেন। তিনি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড ভ্রমণের সময় বিপুল পরিমাণ ডলার সঙ্গে নিয়ে যান। এসব দেশে ঘন ঘন যাতায়াত করলেও তার পাসপোর্টে বিদেশি মুদ্রার কোনো এনডোর্সমেন্ট নেই।

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

মোদি-ট্রাম্প জোট বিশ্বের জন্য বিপজ্জনক, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের প্রতিবাদে বিদ্বজ্জনরা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার ভারতের মাটিতে পা রাখবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু তার আগেই ট্রাম্প সফর নিয়ে শুরু প্রতিবাদ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ট্রাম্পের সাক্ষাৎকে ‘স্বৈরাচারী জোট’ বা ফ্যাসিস্ট অ্যালায়েন্স বলেই ব্যাখ্যা করছেন গুজরাটের বিদ্বজ্জনরা। সমাজকর্মী, বিদ্বজ্জন এবং পড়ুয়াদের ১৬০ জন একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। যেখানে তাঁরা উল্লেখ করেছেন, মোদি-ট্রাম্প জোট শুধু ভারতের জন্যই নয়, গোটা বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর। এই সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট মূলত আমেদাবাদ এবং উত্তরপ্রদেশে সময় কাটাবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বড়াই জিইয়ে রাখতে ফের বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন মোদী-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফর ঘিরে, সামান্য হলেও, আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু জনমানসে তা নিয়ে আবেগের আতিশয্য কিছু নেই, প্রত্যাশাও নেহাতই কম। বিশেষ করে, সফরের আগেই ট্রাম্প যখন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দীর্ঘ দিন ধরে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি এই সফরেও বাস্তবায়িত করা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু তা হলেও ভারত-মার্কিন সম্পর্কের ক্রমোন্নতির যে ধারা গত দু’দশক ধরে ফুটে উঠছে, তার প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই ভারত সফর একটি সদর্থক পদক্ষেপ।

চন্দন দস্যু বীরাপ্পনের মেয়ে যোগ দিলেন বিজেপিতে!‌ জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে জোর চর্চা শুরু-দৈনিক আজকাল

আশি-নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণ ভারতের ত্রাস ছিল চন্দনদস্যু বীরাপ্পন। তাকে ধরতে কালঘাম ছুটেছিল পুলিশের। তবে স্রেফ ডাকাতি বা চন্দনকাঠ পাচার নয়, তার গোঁফের জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছিল সে। এবার তারই বড় মেয়ে বিদ্যা রানি যোগ দিলেন বিজেপিতে।শনিবার তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলার দলীয় অনুষ্ঠানে বিজেপি সাধারণ সম্পাদক মুরলীধর রাও এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পন রাধাকৃষ্ণণের হাত ধরে পদ্মশিবিরে যোগ দেন তিনি। বিদ্যাদেবীর কথায়, “আমজনতার জন্য কাজ করতে চাই। দরিদ্রদের প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রকল্প আমাকে আকর্ষণ করেছে। তাই গেরুয়া শিবিরে যোগ দিলাম।”

বিদ্যাদেবী পেশায় আইনজীবী। সক্রিয় সমাজকর্মীও তিনি। বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর বিদ্যাদেবী জানিয়েছেন, “আমার বাবাও আমজনতার সেবা করতে চাইতেন। তবে তিনি ভুল পথ বেছে নিয়েছিলেন। আমি সাধারণ মানুষ ও দেশের সেবা করার জন্য বিজেপি-তে যোগ দিয়েছি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গরীব মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গরীব মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প চালু করেছেন। আমি সেই প্রকল্পগুলির সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’ এদিন তাঁর সঙ্গে আরও হাজার জন সদস্য বিজেপিতে যোগ দেয়। এর ফলে তামিলনাড়ুতে গেরুয়া শিবিরের ঘাঁটি বেশকিছুটা শক্ত হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এর আগেও বীরাপ্পনের বড় মেয়ে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। সেসময় নিজের প্রেমিককে বিয়ে করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। তাঁর মা মুত্থুলক্ষ্মীদেবী তাঁদের বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। শেষঅবধি তামিলনাড়ু হাই কোর্টের হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হয়।

উল্লেখ্য, আগামী ২০২১ সালে তামিলনাড়ু বিধানসভার নির্বাচন। তাই দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজে নেমে পড়েছে বিজেপি। শাসক দল এআইএডিএমকের সঙ্গে লোকসভা ভোটে জোট করেও ততটা সুবিধা হয়নি গেরুয়া শিবিরের। তাই নতুন করে ময়দানে নামছে তারা।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৩