কথাবার্তা: করোনাভাইরাস-দ.কোরিয়ায় রেড অ্যালার্ট জারি
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।
বাংলাদেশের শিরোনাম:
- যে পাঁচ কারণে সালমান শাহর ‘আত্মহত্যা’-দৈনিক ইত্তেফাক
- পাপিয়া আবিষ্কার–কাহিনি ‘--দৈনিক প্রথম আলো
- ৫ দিনের রিমান্ডে পাপিয়া-দৈনিক মানবজমিন
- রিজভীসহ ৬৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা-দৈনিক যুগান্তর
- ওয়াশিংটন পোস্ট'র-করোনা পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি, দক্ষিণ কোরিয়ায় 'রেড অ্যালার্ট' জারি-বাংলাদেশ প্রতিদিন
ভারতের শিরোনাম:
- ভারত-আমেরকিা একসঙ্গে মিলে তাদের স্বপ্ন পূরণ করবে: মোদী-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- জঙ্গি তৎপরতা কমাতে হবে পাকিস্তানকে, বার্তা দিলেন ট্রাম্প-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারত সফরে আসতেই ধপাস করে পড়ে গেল সেনসেক্স, সাতসকালেই ধস নামায় ভাঁজ কপালে-দৈনিক আজকাল
- প্রতিরক্ষায় ভারতই বড় সঙ্গী, রেকর্ড ৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাব।
কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:
১. নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর ওরফে পাপিয়াকে আটকের পর গত কয়েকদিন ধরে নানা আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও যোগাযোগ ছিল। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
২. এক ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর বুলডোজার দিয়ে পিষে দিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। কী বলবেন এই বর্বরতা সম্পর্কে?তো জনাব সিরাজুল ইসলাম আপনাকেও আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:
পাপিয়া আবিষ্কার–কাহিনি-দৈনিক প্রথম আলো
লেখক ও সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ তার মন্তব্যধর্মী এ লেখা শুরু করেছেন এভাবে, সময়ের কী সুন্দর সব নাম। সম্রাট থেকে পাপিয়া। ঢাকাই সিনেমার কী সুন্দর প্লট। গতকাল যিনি সম্রাট, আজ তিনি কারাগারে। গতকাল যিনি আদরণীয়–বরণীয় নেত্রী, আজ তিনি আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত। যেসব গল্প বিনোদন পাতায় ছাপা হতো, সিনেমায় দেখা যেত, সেসব এখন তাজা বাস্তব খবর। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা কাহিনির চেয়ে রঙিন। কয়েক দিন এসব নিয়ে মেতে থাকবে সংবাদমাধ্যম, মেতে থাকবে ফেসবুক, জমে উঠবে চায়ের আড্ডা। ঢাকা পড়ে থাকবে আরও কঠিন করুণ বাস্তবতা। মানুষের মনোভাব যা বুঝছি তা এই, খেপে লাভ নেই, তার চেয়ে দেখে নিই।
সব দেখে–শুনে কবি জীবনানন্দ দাশের বিখ্যাত একটি কবিতার লাইন মনে পড়ছে, ‘এত দিন কোথায় ছিলেন?’ পাপিয়ার আগেও ছিলেন, পরেও আশা করি থাকবেন। যাঁদের জানার তাঁরা জানতেন। জানতেন বলেই পাপিয়ারা কুঁড়ি থেকে ফুল হয়ে ফোটেন, কর্মী থেকে বড় নেত্রী হয়ে ওঠেন। ওপরে ওঠার এই সিঁড়িতে তাঁর সঙ্গে ওপরমহলের অনেকেরই দেখা হয়েছে। রাষ্ট্রের শীর্ষ থেকে বড়-মেজ অনেকের সঙ্গেই তাঁর ঝলমলে ছবি আছে। পাপিয়াই এসব তাঁর ফেসবুক ওয়ালে দিয়ে কতজনের মনে হিংসার আগুন জ্বালিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যে নিশ্চয়ই তাঁর কাছের মানুষেরা একসময় গর্বিত হয়েছে। বড় বড় মানুষের আশে-পাশে-কাছে-নিবিড়ে যাঁর এমন ছবি থাকে, তাঁর হাত কতটা লম্বা ছিল, তা অনুমান করা যায়। সেই হাতগুলো কি তাঁকে বাঁচাবে না?
২০১০ সালে নরসিংদী শহর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক করা হয় পাপিয়াকে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে তাঁকে জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। নরসিংদীর মেয়র কামরুজ্জামান কামরুল সমকালকে বলেন, পাপিয়াকে যুবলীগ নেত্রী বানানোর সময় স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিরোধিতা করেছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা তা আমলে নেননি। কাউন্সিল শেষে এলাকায় নয়, পাপিয়ার নাম ঘোষিত হয় ঢাকা থেকে। অতএব পাপিয়া হঠাৎ আসা নেত্রী নন, ওপরের হাত অনেক দিন ধরেই তাঁকে ধাপের পর ধাপে টেনে তুলেছেন। হঠাৎ কী এমন ভুল করে ফেললেন যে তাঁকে রসাতলে পড়তে হলো?
যে পাপিয়া আনন্দের, সাফল্যের ছবি হয়ে ভাসতেন, তিনিই কিনা অপরাধের খবরের ছবি হয়ে এলেন। এখন কেউ তাঁকে চিনবেন না। তা তো হতেই পারে। কতজনই তো কতজনের সঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ নিয়ে আসেন। সব কি আর ‘না’ করা যায়? ভদ্রতা-সভ্যতা বলে তো একটা ব্যাপার আছে। তারপর যেই গুমর ফাঁস হলো, অমনি সবার বোধোদয় হবে। ক্ষমতার তারকারাজির মধ্যে ঝলমল করতে থাকা এই নারীকে এখন কেউই চিনবেন না। বলবেন, আমরা এসব জানতাম না। কেউ কেউ বলবেন, তাঁরা ভুল বুঝেছিলেন। আমরাও বিশ্বাস করব সব দোষ পাপিয়ার। এই অবস্থায় আমরা অনুমান করতে পারি পাপিয়ার মনের কথা: ‘তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে’।
এই রকম দিনে ঘুম ভেঙে উঠে জাতি যখন পাপিয়া পাপিয়া করছে, তখন মনে পড়ছে ক্যাসিনো–কাণ্ডে কুখ্যাতি কুড়ানো যুবলীগের সাবেক নেতা সম্রাটের কথা। মনে পড়ছে সম্রাটের পৃষ্ঠপোষক যুবলীগের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর কথা। বেশি করে মনে পড়ছে তাঁর সেই বিখ্যাত উক্তি, সম্রাটেরা যখন এত কিছু করছিল ‘তখন কি আপনারা আঙুল চুষছিলেন?’ আফসোস আজ, তিনি সে রকম কথা বলার জায়গায় নেই। তবে ইতিহাস শূন্যতা পছন্দ করে না। ওমর ফারুক সাহেব না থাকলেও যুব মহিলা লীগের আরেক নেত্রী তুহিন আছেন। তাঁর সঙ্গে পাপিয়ার ঘনিষ্ঠতার কথাবার্তা সংবাদমাধ্যমে আসায় তিনি মুখ খুলেছেন। ভালো কথাই তিনি বলেছেন, ‘তাদের পেছনে কে কে আছে, তাও বের করা হোক।’
তাদের পেছনে কে কে আছে, তা বের হোক, তা সবাই চায়। কতটা হবে, তা সময়ই বলবে। পাকেচক্রে সবাই যেখানে একাকার, সেখানে এক অঙ্গ আরেক অঙ্গকে পাকড়াও করবে, অতি বড় আশাবাদীও সেটা ভাববেন না। কিন্তু ভাবছি সেসব মেয়ের কথা, চাকরি দেওয়ার নাম করে পাপিয়া যাঁদের তাঁর ক্ষমতাশালী খদ্দরদের কাছে সরবরাহ করেছিলেন। সেই খদ্দেরদের নামধাম জানবে বা জানাবে, সেই সাধ্য এমনকি সাংবাদিকদেরও নেই। থাকলেও বলার পথ নেই। কিন্তু চোখ খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট একেকটি ঘটনা। নারী, মাদক, অস্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতা মিলিয়ে একটা চক্র। প্রতিটি বড় অপরাধের তলায় হাত দিলেই দেখা যায় কী সব ভয়ংকর খেলা সেখানে চলছে। কোনো একটি ঘটনার এই জগৎকে আড়াল করা পর্দাটা বাতাসে দুলে উঠলে ভেতরের ছায়াছবিটা সামান্য দেখা যায়। এই গল্পে নারীদের যেমন অপরাধী হিসেবে পাওয়া যায়, একই সঙ্গে তাঁদের দেখি ভিকটিম হিসেবেও। পাপিয়া একটা রাজনৈতিক অর্থনীতির ফল। অন্যায়, দুর্নীতি, অনাচারের যে বিষবৃক্ষ রাজনীতির মাটি থেকে মাথা তুলে পুরো সমাজটাকেই ছেয়ে ফেলেছে, পাপিয়ারা তার ডালপালা মাত্র। বেদিকে বেশি বেড়ে গেলে অথবা ভুল জায়গায় খোঁচা দিয়ে ফেললে তাদের ঝেড়ে ফেলা হয়। এদের নিকাশের মাধ্যমে পাপচক্র দুর্বল হয় না, বরং আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়। মাদকবিরোধী অভিযান, শুদ্ধি অভিযান ইত্যাদি দেখে তাই আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই।
ব্যাপারটা খুব মজার। ক্যাসিনো-কাণ্ডের আগে যেমন কেউ জানত না যুবলীগের কিছু কিছু নেতা–নেত্রীর চরিত্র। তারপর একদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচমকা অভিযান, অনেক হইচই অনেক আলোচনা। আবার সব চুপ। তারপর আবার কোথাও ধর্মের কল রহস্যজনক কারণে নড়ে ওঠে, মনে হয় এবার বুঝি দুর্নীতির ঝাড়বংশ সব ওপড়ানো হবে। সরল–সিধা মানুষেরা অনেক আশাবাদী হয়ে ওঠেন। ইয়াবাবিরোধী দেশময় অভিযানের সময় এই আশা করা হয়েছে। কয়েকজন ধর্ষককে বিনা বিচারে হত্যার পরেও এমন আশা জেগেছে। পাপিয়ার গ্রেপ্তারের পরও কেউ কেউ বলছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান বন্ধ হয়নি। চলছে চলবে।
কিন্তু সম্রাট যেমন একা অপকর্ম করেননি, পাপিয়াও একা ছিলেন না। নারী ব্যবসা, প্রভাবশালীদের বিনোদনের খোরাক জোগানো, তাঁদের দিয়ে অবৈধ কাজ করিয়ে নেওয়া আবার তাঁদের গোপন সময়ের দৃশ্য ভিডিও করে ব্ল্যাকমেল করার মেলা অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। কোটি কোটি টাকা, গাড়ির ব্যবসা, ফ্ল্যাট-বাড়ি-গাড়ির খবর আসছে। এত কিছু পাপিয়া করে ফেললেন সবার অজান্তে? যাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১৯ লাখ টাকা, তিনি কী করে এত কিছু করলেন যদি না এই অবৈধ কাজকর্মে ক্ষমতার পাহারা না থাকত? পাপিয়া বা সম্রাটেরা হিমবাহের ভাসমান চূড়ামাত্র। তলায় রয়েছে আরও বড় ও গভীর এক জগৎ। এটাই বাংলাদেশের দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক অর্থনীতির অন্দরমহল।
সম্রাট বা পাপিয়ারা এই অন্দরমহলের টুকিটাকির নায়েব-গোমস্তামাত্র। বোকার মতো তাই প্রশ্ন করে লাভ নেই যে ‘এত দিন কোথায় ছিলেন?’
ছাত্রলীগ-যুবলীগের অপকর্মে সমালোচনা হচ্ছে সরকারের-দৈনিক ইত্তেফাক
প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় পাপিয়াদের উত্থান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
কোনো কিছুতেই থামছে না ছাত্রলীগ-যুবলীগ। ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, ক্যাসিনো, জুয়া, চাঁদাবাজি, জমি দখল, নারী নির্যাতন, টেন্ডারবাজি আর নির্মাণকাজ থেকে কমিশন দাবিসহ নানা অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ এ দুই সংগঠনের একশ্রেণির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে উঠে এসেছে, যুবলীগ-ছাত্রলীগে পাপিয়াদের সংখ্যা কম নয়। সারাদেশে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে রয়েছেন অসংখ্য বিতর্কিত নেতাকর্মী। তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সরকারের ব্যাপক অর্জনের মধ্যেও সমালোচনা হচ্ছে। বিতর্কিত এসব নেতার পৃষ্ঠপোষকতা করছেন একশ্রেণির সংসদ সদস্য।
এ কারণে তাদের দাপট অনেক বেশি। স্থানীয় থানা ও প্রশাসন যুবলীগ-ছাত্রলীগের এ ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পাচ্ছে না। কোনো কোনো কর্মকর্তা ব্যবস্থা নিতে গেলে ঐ কর্মকর্তাকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত কর্মকর্তা বলে বদলিসহ নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। সরকারের সমালোচনা ঠেকাতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ক্লিন ইমেজের নেতাকর্মীরা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ক্যাসিনো, জুয়া, অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এতদিন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। একে একে সব বিতর্কিত নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
যুব মহিলা লীগের পদ বাগিয়ে অভিজাত এলাকায় জমজমাট নারী ব্যবসাসহ ভয়ংকর সব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। নিজেকে পরিচয় দিতেন ক্ষমতাধর রাঘববোয়ালদের কর্মী হিসেবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গিয়ে নেতাদের ফুল দিয়ে সেই ছবিরও অপব্যবহার করতেন তার সব খারাপ কাজে। শুধু গত এক মাসেই এই নারী রাজধানীর অভিজাত এক পাঁচতারকা হোটেলে বিশাল অঙ্কের বিল পরিশোধ করেছেন। আর এই অর্থ খরচের কারণেই গোয়েন্দাদের চোখ পড়ে পাপিয়ার ওপর। একের পর এক বেরিয়ে আসতে থাকে তার সব অপকর্মের কাহিনি। সব পাঁচতারকা হোটেলেই ছিল পাপিয়ার এসকর্ট ব্যবসা। আলোচিত নারী পাপিয়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবেও পরিচয় দিতেন। সর্বশেষ প্রচার করতেন সংরক্ষিত এমপি পদ পাচ্ছেন। কিন্তু তা না পেলেও থেমে ছিল না তার অপরাধমূলক কাজকর্ম।
পাপিয়ার মতো ছাত্রলীগ ও যুবলীগে একশ্রেণির অসংখ্য নেতা আছেন, যারা নানা অপকর্মে জড়িত। বর্তমান সরকার এত উন্নয়ন করেছে, যা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু গুটি কয়েক নেতার অপকর্মে এসব অর্জন ম্লান হচ্ছে। ছিনতাই করার সময় পুলিশের কাছে হাতেনাতে আটক হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই নেতা। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হাইকোর্ট মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করে শাহবাগ থানার পুলিশ। এরপর ছিনতাইয়ের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধ মামলা দায়ের করেন সোহেল নামে এক ট্রাকচালক। আটক হওয়া দুজন ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জোবায়ের আহমেদ শান্ত এবং অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আল আমিন। তারা দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। খুলনায় মহানগর যুবলীগের শীর্ষ এক নেতা একটি পরিবারের ৮ কোটি টাকার সম্পত্তি দুই বছর ধরে ভোগদখল করছেন। সম্পত্তির প্রকৃত মালিক এখন পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমন অসংখ্য ঘটনা ঘটাচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। প্রায় ১১ বছর ধরে ছাত্রলীগ-যুবলীগ মূলত আলোচনায় এসেছে ইয়াবা ব্যবসা, হত্যা, জমি দখল, চাঁদাবাজি, ছিনতাই কিংবা টেন্ডারবাজির কারণে। একইভাবে মেধাবী শিক্ষার্থী আবরারকে হত্যা করে আবারও শিরোনামে এসেছে ছাত্রলীগ। ভালো কাজের জন্য ছাত্রলীগ-যুবলীগ গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে এমন নজির নিকট অতীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বেশ কয়েকটি নিষ্ঠুর ও নৃশংস ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ছাত্রলীগের নাম। ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে ছাত্রলীগের নিজেদের কোন্দলে নিহত হন ৪৫ জন। আর এই সময়ে ছাত্রলীগের হাতে প্রাণ হারান অন্য সংগঠনের ১৮ জন। ২০০৯ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রলীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আসাদ ওরফে রাজীবকে হত্যা করে লাশ বহুতল ভবন থেকে ফেলে দেওয়া হয়। ২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী নাসরুল্লাহ নাসিমকে নিজ সংগঠনের কর্মীরাই মারধর করে বহুতল ভবন থেকে ছুড়ে ফেলে হত্যা করেন। ২০১০ সালে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবুবকর সিদ্দিক। একই বছর ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মারা যান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ। ২০১২ সালে ছাত্রলীগের নেতাদের চাপাতির কোপে প্রাণ হারান পুরান ঢাকার দরজি বিশ্বজিত্ দাস। গত বছর ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে যুবলীগের অনেক নেতাকর্মীর নাম চলে এসেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ কারাগারেও আছেন।
ওয়াশিংটন পোস্ট'র-করোনা পরিস্থিতির চূড়ান্ত অবনতি, দক্ষিণ কোরিয়ায় 'রেড অ্যালার্ট' জারি-বাংলাদেশ প্রতিদিন
দক্ষিণ কোরিয়ায় ক্রমেই বাড়ছে নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্ক। দেশটিতে নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৯ জন। যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬০২ দাঁড়িয়েছে। আর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ৬ জন। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতা জারি করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া যায়। গত ৫ দিনের মধ্যে সেই সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশটির প্রশাসনিক স্তরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল রবিবার এ নিয়ে সরকারের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন সে দেশের প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা খারাপ দিকে মোড় নিচ্ছে। সরকারি স্তরে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।'
দক্ষিণ কোরিয়ার দেগু শহর থেকে এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা সামনে এসেছে। যার জেরে এই শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শহরের পথঘাট জনমানবশূন্য। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছেন না। অজানা আশঙ্কায় ঘরে খাবার মজুত করে রাখছেন লোকজন। প্রশাসনের তরফে নিয়মিত বাসিন্দাদের মোবাইলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দেশিকা দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত সফরে এসেছেন। তার সফর নিয়ে কোলকাতার বাংলা দৈনিকগুলোতে নানা খবর পরিবেশিত হয়েছে। এ সম্পর্কে
দৈনিক আজকালের শিরোনাম এরকম-কাঁটায় কাঁটায় ১১.৪০ মিনিট, ভারতে পৌঁছলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, ঘড়ির কাঁটায় ১১.৪০ মিনিট। আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের মাটি ছুঁল আমেরিকার প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে সকালেই সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দরে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমানবন্দরে রয়েছেন বিভিন্ন প্রশাসনিক অফিসাররা। রয়েছেন মার্কিন দূতাবাসের অফিসাররাও। বিমানবন্দরজুড়ে ভারত এবং আমেরিকার জাতীয় পতাকা।
এয়ারফোর্স ওয়ানের দরজা খোলার পর কিছুক্ষণ পর প্রথমে নেমে আসেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প এবং জামাই জ্যারেড কুশনার। করমর্দন করে তাঁদের স্বাগত জানান মোদি। তারও কিছুক্ষণ পর নামেন ডোনাল্ড এবং মেলানিয়া ট্রাম্প। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে জড়িয়ে ধরে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদি। ভারতীয় সংস্কৃতি মেনে নাচ, বাজনার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়।
লাল কার্পেটের উপর দিয়ে হেঁটে এরপর ট্রাম্প গাড়িতে উঠে রওনা দেন মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতি বিজরিত সবরমতী আশ্রমের উদ্দেশ্যে।
এই ২২ কিলোমিটার রাস্তা সড়কপথে রোডশো করেন ট্রাম্প। সেখান থেকে মোতেরায় নতুন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্টেডিয়াম যৌথভাবে উদ্বোধনের কর্মসূচি মোদি এবং ট্রাম্পের। সেখানে তাঁর সম্মানে ‘নমস্তে ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্টেডিয়ামে একলক্ষেরও বেশি সাধারণ মানুষ ট্রাম্পকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছেন।
সোমবার বিকেলেই আগ্রায় সস্ত্রীক তাজমহল দর্শন সেরে দিল্লি পৌঁছে সেখানেই রাত কাটাবেন। মঙ্গলবার দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক রয়েছে। সেদিনই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, উপ রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই সফরে কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলেও নৌবাহিনীর জন্য ২৪টা অত্যাধুনিক সামরিক যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
ভারত-আমেরকিা একসঙ্গে মিলে তাদের স্বপ্ন পূরণ করবে: মোদী-দৈনিক আনন্দবাজার
মোদী যা বললেন—
• ভারত-আমেরকিা একসঙ্গে মিলে তাদের স্বপ্ন পূরণ করবে।
• ১৩০ কোটি ভারতবাসী মিলে নতুন ভারতের সূচনা করছে।
• আজ ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্যানিটেশন প্রোগ্রাম চালাচ্ছে।
• ভারত-আমেরিকার সম্পর্কের আধার বিশ্বাস।
• দু’দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে।
• ভারতকে ডিজিটাল বানাতে আমেরিকার সহযোগিতা অনস্বীকার্য।
ট্রাম্প যা বললেন—
• ভারতকে সাঁজোয়া কপ্টার দেবে আমেরিকা।
• আধুনিকতম অস্ত্র সরবরাহ করবে।
• পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছি। সন্ত্রাস দমনে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছি।
• সন্ত্রাসে মদত দিলে বড় মূল্য চোকাতে হবে।
• বিনিয়োগের পথে বাধা দূর করতে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তিতে জোর দেওয়া হবে।
• ভারতকে অ্যাডভান্সড এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দেবে আমেরিকা।
• আগামিকাল ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে।
• আপনাদের একতাই বিশ্বের কাছে অনুপ্রেরণা।
• সবার সম্মান রক্ষা করে চলেছে ভারত।
• মানুষের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিয়েছে ভারত।
• গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সহিষ্ণু দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে ভারত।
• এখানে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন।
• আমেরিকা ভারতের সদা বিশ্বস্ত বন্ধু।
• মোদীকে সবাই ভালবাসেন।
• বিশ্বের সমস্ত মানবতাকে ভরসা দেয় ভারত।
• এক জন চা-ওয়ালা দেশকে নেতৃত্ব ডিচ্ছেন: ট্রাম্প।
• বন্ধু নরেন্দ্র মোদীর জন্য গর্বিত: ট্রাম্প।
• এমন একটা সুন্দর স্টেডিয়ামে আপনাদের মধ্যে এসে আমার খুব ভাল লাগছে: ট্রাম্প।
• ৮০০০ মাইল পেরিয়ে এখানে এসেছি একটা বার্তা দিতেই যে আমেরিকা ভারত এবং ভারতবাসীকে ভালবাসে: ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারত সফরে আসতেই ধপাস করে পড়ে গেল সেনসেক্স, সাতসকালেই ধস নামায় ভাঁজ কপালে-দৈনিক আজকাল
বিজেপি’র রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এবং সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি ঠিকই বলেছিলেন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ভারত সফরে এলে ভারতের কোনও লাভ হবে না। হলও তাই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতে পা রাখতে চললেন আর সপ্তাহের শুরুতেই সোমবার বড় পতনের সঙ্গে খুলল শেয়ার বাজার। আজ সকালে শেয়ার বাজার খুলতেই সেনসেক্স পড়ে যায় ৪৫০ পয়েন্ট।
ভারতের অর্থনীতির যা সর্বনাশ হওয়ার তা তো হয়েছিলই এবার বাড়তি সর্বনাশ হিসাবে দেখা গেল শেয়ার সূচকের পতন। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তাও সেনসেক্সের উপর প্রভাব ফেলেছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। আজ এশিয়ার সব বড় শেয়ারবাজার খোলে নিম্নমুখী গ্রাফে। সেই মতো ভারতের শেয়ারবাজার খুলতেই নামে চূড়ান্ত পতন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তারা স্বীকার করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরকালে কোনও বাণিজ্য চুক্তি নাও হতে পারে। কারণ হিসাবে তাঁরা জানিয়েছেন, এখনও বাণিজ্য খাতে ভারতের আরোপিত বিধি নিষেধ নিয়ে বড় উদ্বেগে রয়েছে আমেরিকা।
অন্যদিকে আমেরিকা থেকে আরও ৫–৬ বিলিয়ন ডলারের কৃষি পণ্য কিনুক ভারত বলে দাবি আমেরিকার। যদিও নয়াদিল্লি মার্কিন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পাওয়া তাদের ছাড় পুনর্বহাল করতে চায় এবং আমেরিকার সঙ্গে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করতে চায়। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারতের উপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমেরিকা। এমনকী আমেরিকা ভারতকে তাদের জেনারেল সিস্টেম অফ প্রেফারেন্স প্রোগ্রাম থেকে বাদ দেয়। ফলে বিনা শুল্কে ৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিমাণ পর্যন্ত যে রপ্তানি করতে পারত তা বন্ধ হয়ে যায়। ভারত পাল্টা আমেরিকার বেশ কয়েকটি পণ্যের উপর শুল্ক বাড়িয়ে দেয়। এবার দেখা যাক সাতসমুদ্র পেরিয়ে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কোন বার্তা দেয়।
প্রতিরক্ষায় ভারতই বড় সঙ্গী, রেকর্ড ৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প-দৈনিক আজকাল
ভারত সফরে এসেই একগুচ্ছ অত্যাধুনিক অস্ত্রের ঝাঁপি খুলে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অত্যাধুনিক ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ থেকে শুরু করে সাজোয়া হেলিকপ্টার পর্যন্ত বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি। ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মেঘ জমলেও নিজের ভাষণে উচ্ছ্বাস উজাড় করে দিলেন ট্রাম্প।
সোমবার, দু’দিনের ভারত সফরে সোমবার আহমেদাবাদে সস্ত্রীক পা রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সকাল ১১.৩০ নগদ বিমানবন্দরে নামে ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’।সেখানে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অবতরণের পর মোতেরা স্টেডিয়ামে ‘নমস্তে ট্রাম্প’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুরুতেই ‘বন্ধু’ মোদির ‘চায়ওয়ালা’ জীবনের সংঘর্ষের কথা তুলে ধরে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তবে মুখে যাই বলুন না কেন, হাড়েমজ্জায় ব্যবসায়ী তিনি। সেই পথে হেঁটেই, নিজের ভাষণের মধ্যে ভারতে ‘অস্ত্রের বেসাতি’ নিয়ে একগুচ্ছ ‘লোভনীয়’ সমরাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব দেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। উল্লেখ্য, রাশিয়া থেকে ‘S-400’ মিসাইল সিস্টেম কিনতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ঠ আপত্তি রয়েছে ওয়াশিংটনের। এবার ভারতের প্রতিরক্ষা বাজারে রুশ প্রভাব খর্ব করতে ফের চেষ্টা চালালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এদিন, ট্রাম্পের অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব সন্ত্রাসবাদ বিরোধী লড়াইয়ের মোড়কে ঢাকা ছিল।ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ভারতকে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিতে তৈরি। দু’দেশ একসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। ইসলামিক স্টেট-এর মতো জঙ্গি সংগঠনকে আমরা ১০০ শতাংশ খতম করেছি। শেষ করা হয়েছে কুখ্যাত বাগদাদিকে।” এদিন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ভারতের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি স্বাক্ষর করতে চলেছে আমেরিকা। ভারতের মূল উদ্বেগ নিয়ে ট্রাম্প আরও জানান, সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া থামাতে পাকিস্তানকে বাধ্য করেছে ভারত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি না হলেও। বয়াশিংটনে প্রভাবশালী ‘আর্মস লবি’র জন্য সুখবর বয়ে নিয়ে যাবেন ট্রাম্প। কাশ্মীর ও আফগানিস্তানে পাক সন্ত্রাস বন্ধ করতে ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনা আগ্রাসন রোধ করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বোঝাপড়া রয়েছে নয়াদিল্লির। তবে কয়েক দশকের রুশ মদত ও বন্ধুত্বও কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ভারতকে মাথায় রাখতে হবে। ফলে গোটা প্রক্রিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখাই নমোর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
ভারতে বিনামূল্যে ওয়াইফাই পরিষেবা বন্ধ করছে গুগল্, উদ্বিগ্ন আমজনতা-দৈনিক আজকাল
রেলযাত্রীদের চক্ষু চড়কগাছ। দেশের প্রতিটি স্টেশনে এই বছরের মধ্যেই বিনামূল্যে ওয়াইফাই পরিষেবা বা ‘স্টেশন প্রকল্প’ বন্ধ করতে চলেছে গুগল্। গত পাঁচ বছর ধরে দেশের ৪০০টি স্টেশনে এই পরিষেবা দিয়ে আসছে গুগল্। সোমবারই নিজেদের ব্লগে গুগল্ পোস্ট করে বলেছে যে পাঁচ বছর আগে যা শুরু হয়েছিল তার থেকে এখন অনলাইন হওয়া অনেকটাই সস্তা হয়ে গিয়েছে। ভারতে গুগল্–এর পেমেন্টস্ অ্যান্ড নেক্সট বিলিয়ন ইউজার্স শাখার ভিপি সিজার সেনগুপ্ত বললেন, ‘আজকের দিনে সারা বিশ্বের মধ্যে বিশেষত ভারতেই প্রতি জিবি–তে সব থেকে কম টাকায় মোবাইল ডেটা পাওয়া যায়। ২০১৯–এ ট্রাইয়ের নিয়মানুযায়ী, গত পাঁচ বছরে মোবাইল ডেটার মূল্য ৯৫ শতাংশ কমেছে।’#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৪