ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০ ১৩:১৮ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।

বাংলাদেশের শিরোনাম :

  • করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ-দৈনিক প্রথম আলো
  • মুশফিক-নাঈম তাণ্ডবে ইনিংস ব্যবধানে জয় টাইগারদের -দৈনিক ইত্তেফাক
  • প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে কাদের যাতায়াত ছিল? -দৈনিক মানবজমিন
  • এনু-রুপনের সিন্দুকে মিলল সাড়ে ২৬ কোটি টাকা ও ১ কেজি সোনা-দৈনিক যুগান্তর
  • অনেক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের নাম বলেছেন পাপিয়া-দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন
  • দুই দালালসহ মালয়েশিয়াগামী ২০ রোহিঙ্গা আটক-দৈনিক সমকাল

ভারতের শিরোনাম:

  • ‘প্রয়োজনে নামবে সেনা’, অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক শেষে বললেন কেজরীবাল -দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
  • হিংসার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুললেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বৈঠকে বসলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে-দৈনিক আজকাল
  • আগামী মাসেই রাজ্যসভার ৫৫ আসনের নির্বাচন, নজরে বাংলার পাঁচ-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন

পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

করোনাভাইরাস এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে

করোনাভাইরাস সম্পর্কিত খবর বিশেষ গুরুত্বসহ পরিবেশিত হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারতের দৈনিকগুলোতে। এ সম্পর্কে দৈনিক যুগান্তরেরর একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম, রুদ্রমূর্তি কোভিড-১৯ রোখার দায় এখন বিজ্ঞানীদের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. ফখরুল ইসলাম তার লেখা বিস্তারিত প্রতিবেদনে লিখেছেন, রুদ্রমূর্তি কোভিড-১৯ এখন সারা বিশ্বের মানব স্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কোভিড-১৯ হচ্ছে করোনাভাইরাস থেকে উদ্ভূত এক ধরনের ‘ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন শ্বাসকষ্টজনিত মহামারী’। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের থেকে বড় হুমকি এখন এই মারাত্মক মহামারী।

বর্তমানে চীন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালালেও তাদের জন্য মৃত্যুর মিছিল ঠেকানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সেখানে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থেকে রোগীদের প্রতি মানবসেবা কমে গেছে।

চীনের হনঝাউয়ের হোটেলে ‘রিটল পিনাট’ নামক রোবট রুমে রুমে খাবার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছে। গুয়াংজুর একটি বাজার এলাকায় যন্ত্রমানব নিয়োগ করা হয়েছে। এসব রোবট কেউ মাস্ক পরে না হাঁটলে তাকে বকুনি দিয়ে সাবধান করে দিচ্ছে।

২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চীনে করোনাভাইরাসের ছোবলে মারা গেছেন ২ হাজার ৪৬১ জন। বিশ্বজুড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ। হুবেই প্রদেশে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

ক’দিন আগে হংকংয়ের প্রধান জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও চিকিৎসক অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল লুয়াং জানিয়েছেন- যদি আক্রান্ত লোকের এক শতাংশও মারা যায়, তাহলে সেই সংখ্যা সাড়ে চার কোটি ছাড়িয়ে যাবে! চীনের বাইরে ৩০টি দেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। হংকং, ফিলিপাইন, ফ্রান্স ও জাপানে কয়েকজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন।

চীনের লি ওয়েনলিয়াং নামের যে চিকিৎসক সর্বপ্রথম প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সম্পর্কে বিপদের সতর্কবাণী করেছিলেন, তিনিও এ ভয়ংকর ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন। পুলিশ ডাক্তার লি’কে করোনাভাইরাস সম্পর্কে মুখ বন্ধ করে রাখতে বলেছিলেন।

তিনি মুখ খুলে গণমাধ্যমে করোনার সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে দেওয়ায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এজন্য তার কারাবাসও হয়। কেউ কেউ বলছেন, করোনাভাইরাস ভয়ংকর রূপে প্রকাশ পাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে!

হুবেই প্রদেশের ৮০ শতাংশ মানুষ করোনাভাইরাসের দ্বারা সংক্রমিত হয়ে পড়েছে। ডাক্তার ও নার্সদের অমানুষিক পরিশ্রমের পরও সংক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না। অধিকন্তু নার্সরা নিজেরাই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন চিকিৎসক মারা গেছেন।একজন নার্স বলেছেন, চারদিকে আমার সহকর্মীরাই রোগী! এখনও করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এর প্রতিষেধক হাতে পেতে আরও ১৮ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

করোনাভাইরাসের জেনেটিক কোড জানা হলেও ক্ষেত্রভেদে এর বৈশিষ্ট্য দ্রুত রূপ পরিবর্তন করতে পারে। তাই রুদ্রমূর্তি কোভিড-১৯ এখন একটি মহা আতঙ্কের নাম। সার্বিক অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে- এ যেন এক মহামানবিক বিপর্যয়। উত্তর কোরিয়ায় চীনফেরত একজন করোনা আক্রান্ত রোগীকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে বলে সংবাদে জানা গেছে। চীন সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে লুকোচুরি করছে বলে জানা গেছে।

হুয়ান প্রদেশে করোনায় মৃত ১০ হাজার মানুষের লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে বলে সংবাদে এসেছে। জিআইএসের মাধ্যমে হুয়ানের বাতাসে উচ্চমাত্রার সালফার ডাইঅক্সাইডের পরিমাপ পর্যবেক্ষণ করে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।চীনের মতো একটি গবেষণাসমৃদ্ধ দেশ যেখানে করোনা সংক্রমণ নিয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে পড়েছে, সেখানে তৃতীয় বিশ্বের গরিব, জনবহুল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যেন এটি আঘাত হানতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকা বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। চীনের পক্ষে এমডিজি অর্জন যেমন সহজ হয়েছে, এখন সেটি টিকিয়ে রাখতে ততটাই কঠিন হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে।

সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের কাঁকড়া চাষীরা উৎপাদিত কাঁকড়া রফতানি করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উল্লেখ্য, আমাদের দেশের উৎপাদিত ৮০ শতাংশ কাঁকড়া চীনে রফতানি করা হয়ে থাকে। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষীরা কাঁকড়া আবাদ করে থাকেন। ফলে দ্রুত নতুন বাজার ধরতে না পারলে পুঁজি হারিয়ে তাদের পথে বসতে হবে।

করোনা সংক্রমণের আতঙ্ক সারা বিশ্বে যেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য বন্ধ দুয়ার নীতি ডেকে আনছে তাতে উদারীকরণের খোলা দুয়ার এ মহাআতঙ্কের বিষবাষ্পের কাছে মাথানত করে প্রকৃতির প্রতিশোধের কাছে মানুষের অসহায়ত্ব আবারও প্রমাণ করছে।

রুদ্রমূর্তি কোভিড-১৯ এখন একটি মহাদুর্যোগেরও নাম। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে করোনা ভয়াবহতার সতর্কবার্তা প্রচারিত হচ্ছে। চীনের করোনা দুর্যোগ গোটা এশিয়াকে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দুর্যোগের ঘনঘটায় ফেলে দিয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাব রুখতে সারা বিশ্বের ডাক্তার, জীবাণুবিজ্ঞানীরা রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।

চীনের এ বিপর্যয় তাদের শুধু একার- এটি ভাবলে আমাদের সবার ভুল হবে। এ সবুজ সুশোভিত বিশ্বটা সবার বাড়ি। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলা উষ্ণতা নিত্যনতুন প্রাণঘাতী ভাইরাসের জাগরণ সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। শতাব্দীপ্রাচীন ভাইরাসগুলো মানুষের কুৎসিত জীবনাচার ও অসতর্কতায় জীবনসংহারী হিসেবে পুনরাবির্ভূত হয়ে ঘাতকের ভূমিকা পালনে প্রতিনিয়ত অশুভ তৎপরতা চালাতে কুণ্ঠিত হচ্ছে না।

ভাবতে দেরি করলে চলবে না যে, এ বিশ্ববাড়ির সব বাসিন্দার জীবন আজ হুমকির মুখে। এ মহাদুর্যোগে সুখ-দুঃখের ভাগীদার হয়ে সবার জীবন রক্ষা করা আমাদের সমষ্টিগত দায়িত্ব। আধুনিক সভ্যতার চরম শিখরে এসেও মানুষকে ভাবতে হচ্ছে তারা প্রকৃতির প্রতিশোধের কাছে কত অসহায়। তাই জেগে উঠুন জ্ঞানী মানুষ, জেগে উঠুন তামাম বিশ্বের অগ্রগামী গবেষকরা! প্রাণসংহারী রুদ্রমূর্তি কোভিড-১৯ রুখতে হবে আপনাদের মতো নিবেদিতপ্রাণ বিজ্ঞানীদেরই।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ-দৈনিক প্রথম আলো

করোনাভাইরাস

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও ‘কোভিড-১৯’ চিকিৎসায় পরিকল্পনা তৈরি করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। খুব শিগগির তিন স্তরবিশিষ্ট এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে। আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনটি ধাপের মধ্যে আছে সতর্কতামূলক পর্যায় (অ্যালার্ট লেভেল), মারাত্মক পর্যায় (সিরিয়াস লেভেল) ও জরুরি পর্যায় (ইমার্জেন্সি লেভেল)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন নির্দেশিকা অনুসরণ করে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের পরামর্শে এই পরিকল্পনা দলিল তৈরি করছেন আইইডিসিআরের কর্মকর্তারা। এখন পরিকল্পনা দলিল সম্পাদনার কাজ চলছে।

করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন সরকারি কর্মকর্তারা। চীনে সংক্রমণ কিছুটা কমলেও দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি ও ইরানে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ কমছে না। আক্রান্ত দেশের সংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে নতুন এই ভাইরাসের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে অনেক কিছুই অজানা। এই পরিপ্রেক্ষিতে পরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছে বলে সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন। নতুন রোগের বড় ধরনের প্রকোপ মোকাবিলায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহামারি প্রস্তুতিবিষয়ক পরিষদের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি কী হতে পারে, সেটা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার। বাজেট বরাদ্দের বিষয়টিও গুরুত্বের মধ্যে রাখা উচিত। সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুত থাকলে পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হয়।’

একজন রোগী শনাক্ত হলে কী করা হবে, পাঁচজন শনাক্ত হলে কী করা হবে, রোগীর সংখ্যা বাড়লে কী করা হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে পরিকল্পনা দলিলে বলা হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে চাইলে আইইডিসিআরের পরিচালক বলেন, বিভিন্ন ধরনের বন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, মানুষকে সচেতন করা—এগুলো প্রথম বা সতর্কতামূলক ধাপের মধ্যেই পড়ে।

রোগী শনাক্ত হলে, রোগীর সংখ্যা কম থাকলে ব্যবস্থাপনা কী হবে—এসব নিয়ে বিস্তারিত থাকছে দ্বিতীয় ধাপে। রোগীর সংখ্যা বহুগুণ বাড়লে ব্যবস্থাপনা কী হবে, পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সমন্বয় কীভাবে হবে, কার কী দায়িত্ব—বিস্তারিত থাকবে জরুরি পর্যায়ের পরিকল্পনায়।

বর্তমানে বিমান, সমুদ্র ও স্থলবন্দরে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়া সরকারের বিশেষ কোনো কাজ দৃশ্যমান নয়। তবে এ পর্যন্ত ৩০ টির বেশি দেশে করোনাভাইরাস ছড়ালেও দেশের কোনো বন্দরে একজনও রোগী শনাক্ত হয়নি।

পরিকল্পনা প্রণয়নের ব্যাপারে ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা প্রণয়নে রোগতত্ত্ববিদ, ভাইরোলজিস্ট, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের যেমন সম্পৃক্ত করা দরকার, তেমনি অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা দরকার।

পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে জানতে চাইলে মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, জাতীয় পর্যায়ে ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে কমিটি থাকবে, থাকবে কারিগরি কমিটি। এ ক্ষেত্রে সংক্রামক ব্যাধি আইন (২০১৮) অনুসরণ করা হবে। আইনে কমিটির গঠন বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা আছে।

পরিকল্পনায় বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ব্যাপারে সরকার কোন ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা–ও উল্লেখ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত পাঁচ বাংলাদেশি ও আরব আমিরাতে আক্রান্ত এক বাংলাদেশির ব্যাপারে সরকার ওই দুই দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব: ঋণখেলাপি হওয়ার শঙ্কা ব্যবসায়ীদের-দৈনিক যুগান্তর

সময়মতো চীন থেকে পণ্য জাহাজীকরণ না হওয়ায় ঋণের বাড়তি ও দণ্ডসুদ * বাণিজ্যিক কার্যক্রমে স্থবিরতা * ব্যাংকের সহযোগিতা চায় এফবিসিসিআই এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে চীনের সঙ্গে মাসখানেক ধরে পণ্য সরবরাহে (সাপ্লাই চেইনে) বিঘ্ন ঘটছে। সময়মতো চীন থেকে পণ্য জাহাজীকরণ না হওয়ায় ঋণের বাড়তি সুদ ও দণ্ডসুদ দিতে হবে। এতে ঋণখেলাপি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ঋণ সহায়তা ও এলসি মূল্য পরিশোধের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। ব্যবসা-বাণিজ্যে করোনাভাইরাসের ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ ফজলে ফাহিম এসব তথ্য জানান। মতিঝিলের এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে শেখ ফাহিম বলেন, ব্যাংকিং খাতে পেমেন্ট ওভারডিউ (যথাসময়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পারা) হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় আমদানি-রফতানি কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য ঋণ সহায়তা ও ঋণপত্রের মূল্য পরিশোধের বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ব্যাংকে সরবরাহ করলে তাদের অ্যাকাউন্ট যাতে ক্লাসিফাইড (খেলাপি) না হয় এবং অতিরিক্ত চার্জ, দণ্ডসুদ (ইন্টারেস্ট পেনালাইজড) না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন।

যেসব ঋণপত্র খোলা আছে, শিপমেন্ট হচ্ছে না এবং শিপমেন্টে সময় লাগছে- সেসব ক্ষেত্রে অন্য কোনো সোর্স থেকে আমদানির সুযোগ থেকে থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের এসব প্রতিষ্ঠানকে এলসি লিমিটের বাইরে স্বল্পমেয়াদি ঋণ সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবেলায় সরবরাহ চেইনের নিরাপত্তার স্বার্থে ন্যাশনাল সাপ্লাই চেইন স্ট্র্যাটেজি করারও প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

এনু-রুপনের বাসার ভান্ডারে নগদই সাড়ে ২৬ কোটি টাকা-দৈনিক মানবজমিন

টাকার কুমির এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূঁইয়ার বাসার ভান্ডারে নগদই মিললো সাড়ে ২৬ কোটি টাকা। এছাড়া পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ মার্কিন ডলারসহ বিভিন্ন দেশে মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। এর আগে সোমবার রাতে ক্যাসিনোকাণ্ডে বহিস্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা এই সহোদরের ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে টাকাভর্তি কয়েকটি সিন্দুক উদ্ধার করে র‌্যাব। ৬ তলা বাড়িটি ১১৯ লালমোহন সাহা স্ট্রিটে অবস্থিত। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে এ বাড়ির নিচ তলায় অভিযান চালানো হয়। পরে সকালে টাকা গুনতে আনা হয় মেশিন।

দুপুরে দিকে গণনা শেষ হয়। হিসাব অনুযায়ী, ২৬  কোটি ৫৫ লাখ ৬০০ নগদ টাকা, ১  কেজি স্বর্ণ, ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার এফডিআর, ৯৬০০ ইউএস ডলার, ১৭৪ মালেয়শিয়ান রিঙ্গিত, ৫৩৫০ ভারতীয় রুপি, ১১৯৫ চাইনিজ ইয়ানসহ আরও কিছু বিদেশি মুদ্রা পাওয়া গেছে।

এ তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল রাকিবুল হাসান। এসব টাকা ৫টি সিন্দুকে গচ্ছিত ছিলো।  

র‌্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম ফয়জুল ইসলাম বলেন, নিচতলার ওই বাসায় কেউ থাকতো না। বেশ সুরক্ষিত অবস্থায় রাখা ছিলো সবকিছু। এনু-রুপনের দুই ডজন বাড়ির বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে আমরা এ বাসার সন্ধান পাই।

এছাড়া ওই বাড়িতে বেশ কিছু ক্যাসিনো সরঞ্জামও পাওয়া গেছে, যেগুলোতে ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সিল লাগানো ছিলো বলে ফয়জুল ইসলাম জানান।

ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের পরিচালক এনু ছিলেন গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। আর তার ভাই রুপন ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত বছর ১৮ই সেপ্টেম্বর ঢাকার কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে ওয়ান্ডারার্সে অভিযান চালিয়ে জুয়ার সরঞ্জাম, কয়েক লাখ টাকা ও মদ উদ্ধার করে র‌্যাব। ওই ঘটনার পর  মোট সাতটি মামলার করা হয়, যার মধ্যে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়া পরিচালনা এবং অর্থ-পাচারের অভিযোগে চারটি মামলার তদন্ত করছে সিআইডি।

প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে কাদের যাতায়াত ছিল?-দৈনিক মানবজমিন

পাপিয়া নূর

খুজিস্তা নূর-ই নাহারিন এর-ফেসবুক ডায়েরি থেকে নেয়া তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাঁচ তারকা হোটেলে প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুটে কাদের যাতায়াত ছিল ? কারা ছিল তাঁর খদ্দের ? কৌতূহলী সবাই জানার অপেক্ষায় । এমন অবয়বের নারী নেত্রী মানে দেশটা পচে গেছে। ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা তা যেন আজ এই সব বেশ্যা আর দালালদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

আমরা রাজনীতি করেছিলাম আদর্শ থেকে, শোষণ-বৈষম্যহীন শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য । ২০০৮ এর পরে যারা রাজনীতিতে এসেছে তাঁদের কোন নীতি আদর্শের বালাই নেই, যেন তেন উপায়ে টাকার পাহাড় গড়াই একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য। রাজনীতি আজ কেবলই টাকা বানানোর মেশিন। একবার নাম লেখাতে পারলেই রাস্তার পাশে কুঁড়েঘর থেকে সরাসরি রাজপ্রাসাদে। স্বল্প সময়ে অঢেল বিত্ত বৈভবের মালিক, তাঁদের কথা বার্তা হালচাল দেখলে অবাক হতে হয়।

পাপিয়া নূর রিমাণ্ডে

শুনা যাচ্ছে বিশাল অংকের টাকা, উপঢৌকন আর যুবতী নারী দিয়ে এরা প্রভাব বিস্তার করে, সবাইকে কিনে নেয়। কারা কারা তাঁর অর্থের অংশ পেয়েছে ? নারী পেয়েছে? বিদেশের টিকেট পেয়েছে ? দামী শাড়ি আর হীরার নেকলেস পেয়েছে ? কাদের ছত্র ছায়ায় দীর্ঘদিনের এই অপকর্ম ?  \বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা আজ কেবল স্বার্থান্বেষী শকুন আর হায়েনায় ভরপুর । ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থাকা এইসব দেহ পসারিণীদের তাড়াতে না পারলে দল ধ্বংস হবে একদিন।

পাপিয়ার টাকার নেশা, প্রতারণার অভিনব কৌশল-দৈনিক মানবজমিন

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়াকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। এবার আলোচনায় এসেছে তার ধর্ম পালন। এক র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, পাপিয়া শিবলিঙ্গের পূজা করতেন, কালী পূজা করতেন নিয়মিত। আবার খ্রিস্টান ধর্মের প্রতীক ক্রুসও ব্যবহার করতেন। কাবা শরিফের লোগোও নিজের কাছে রাখতেন। খাজা মঈনুদ্দিন চিশতীর (রহ) নামের অদ্যাক্ষর দিয়ে নিজেদের দেহে ট্যাটুও করিয়েছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধভাবে অর্থ আয়ের জন্য প্রতিটি ধর্মের লোকদের বিশ্বাস স্থাপন করতে এটা তার কৌশল। এমনটায় জানিয়েছেন ওই র‌্যাব কর্মকর্তা।

শুধু তাই নয়, পাঁচ তারকা হোটেলের বিশালবহুল কক্ষ থেকে শুরু গাড়ি বাড়ি কোনো কিছুর অভাব ছিলো না তার।

খরচ করতেন কোটি কোটি টাকা। হোটেল বয়দের টিপস দিতেন ১০-১২ হাজার টাকা। সবই করতেন নগদে। তবে এসব টাকার উৎস পায়নি র‍্যাব। তাদের ধরাণা মাদক-অস্ত্র চোরাচালান, জমি দখল করিয়ে দেয়া, হোটেলে নারীদের দিয়ে যৌন বাণিজ্য থেকে  মোটা অঙ্কের অর্থ আসত ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের বহিস্কৃত এই নেত্রীর হাতে।

এসব অভিযোগে ভারত যাওয়া সময় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন পাপিয়া, তার স্বামী নরসিংদীর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন এবং তাদের সহযোগী আরও দু’জন। ভারতে যাওয়ার সময়ও পাপিয়া ওয়েস্টিন হোটেলের প্রেসিডেনসিয়াল  স্যুইটের বুকিং বাতিল করেননি বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর উপ অধিনায়ক সাফাত জামিল ফাহিম। যার একটি কক্ষের প্রতি দিনের ভাড়া ২০ হাজার টাকার বেশি। গত বছরের ১২ই অক্টোবর সে প্রথম হোটেল ওয়েস্টিনের প্রেসিডেন্টসিয়াল স্যুইটটি ভাড়া নেয়। গ্রেপ্তারের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তার নামেই ছিল এই স্যুইট। তবে মাঝে বেশ কিছুদিন ছিলেন না। সাফাত জামিল জানান, এই  স্যুটের মোট চারটি কক্ষ। তবে আরও দুটো কক্ষ ভাড়া নেয়া ছিল পাপিয়ার নামে।

নয়া সম্রাট ও নয়া সম্রাজ্ঞী বা পাপিয়া-কাহিনি-দৈনিক প্রথম আলো 

প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক ও কবি সোহরাব হাসান তার এ কলামে লিখেছেন, বাংলাদেশ হলো খবরের কারখানা। যাঁরা মনে করেন দেশে রাজনীতি নেই বলে খবরও নেই, তাঁরা ভুল করেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন খবর পাওয়া যায়। আগের খবরটি থেকে পরের খবরটিতে আরও বেশি চমক থাকে।

গত বছর সেপ্টেম্বরে যখন ক্যাসিনো-রাজা ইসমাইল হোসেন সম্রাট ধরা পড়লেন, তখন অনেকেই অবাক হয়েছিলেন, নিষিদ্ধ ক্যাসিনোর দেশে ক্যাসিনো-সম্রাট। তিনি আবার যুবলীগের নেতাও। এরপর আরও ক্যাসিনো-মোগল ধরা পড়লেন। কিন্তু কয়েক দিন পরই আবিষ্কৃত হলো বাংলাদেশে শুধু ক্যাসিনো-সম্রাট নেই, টেন্ডার-সম্রাটও আছেন। এক জি কে শামীম সরকারের গণপূর্ত বিভাগের প্রায় অর্ধেক কাজ বাগিয়ে নিয়ে গেছেন। এ কারণে সরকারের মন্ত্রী-নেতাদের সঙ্গে তাঁর দহরম-মহরমের কথাও চাউর হয়ে যায়। পরে আরও জানা গেল, কেবল আওয়ামী লীগ সরকার নয়, বিএনপির সরকারের হোমরাচোমরাদের সঙ্গেও তাঁর দারুণ মহব্বত ছিল। সরকার বদলায়, এঁরা বদলান না। সে সময়ে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে বাহবা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সরকার। বলা হয়েছিল, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগকে এবার তারা পূতপবিত্র করে ছাড়বে।

কিন্তু পাঁচ মাস না যেতেই ক্ষমতাসীনদের ডেরা থেকে আরেক সম্রাজ্ঞী আবির্ভূত হলেন। তাঁর কাহিনি অতীতের যেকোনো রোমাঞ্চকর কাহিনিকে ছাড়িয়ে যাবে। আমরা আরব্য উপন্যাসে নানা অবিশ্বাস্য কাহিনির কথা শুনেছি। সেখানে দৈত্যদানো, রাজা-রানির বিচিত্র ঘটনা দেখে যাঁরা বিস্মিত হতেন, তাঁরা বাংলাদেশের নতুন সম্রাজ্ঞী শামীমা নূর পাপিয়ার কাহিনি দেখে ভিরমি খাবেন। আরব্য উপন্যাস হাজার বছর আগের। আর ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে যে সম্রাজ্ঞীর কাহিনি বের হলো, তার কাছে আরব্য উপন্যাস কিছুই না। কেননা, আরব্য রূপকথাকে আমরা রূপকথা হিসেবেই জানি।

কিন্তু বাংলাদেশের সম্রাজ্ঞীর কাহিনি কোনো রূপকথা নয়; নিরেট বাস্তব। পত্রিকায় ও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে তাঁর যেসব ছবি প্রকাশিত হয়েছে, তার কোনোটিতে দেখা যায় তিনি চুল উঁচু করে বেঁধে নরম সোফায় লাঠি হাতে বসে আছেন। আবার কোনো ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে আছেন। গত শনিবার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া (২৮), তাঁর স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), তাঁদের সহযোগী সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২) গ্রেপ্তার হন। র‍্যাবের দাবি, তাঁরা পালিয়ে যাচ্ছিলেন।

তাহলে কি কোনো মহল তাঁকে বিদেশে পার করে দেওয়ার চেষ্টা করছিল? না হলে যে সম্রাজ্ঞী পাঁচতারা হোটেলে মাসের পর মাস থাকতেন, তাঁকে ধরতে বিমানবন্দর পর্যন্ত যেতে হলো কেন?

এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি

সিএএবিরোধী বিক্ষোভে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭ জনে পৌঁছেছে-এনডিটিভি
খবরে লেখা হয়েছে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরোধিতায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দিল্লিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার থেকে চলা এই বিক্ষোভে এক পুলিশসহ এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বহু। সোমবার পাথর ছোঁড়া, যানবাহনে অগ্নিসংযোদগ এবং দোকানে দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় দিল্লি। মঙ্গলবারও উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে বিক্ষোভ চলছে। মৌজপুরসহ উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। 

হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুললেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বৈঠকে বসলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে-দৈনিক আজকাল
বিস্তারিত খবরে লেখা হয়েছে, দিল্লি পুলিশের ব্যর্থতার ভূমিকা নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি জানান, কম সংখ্যক পুলিশ থাকায় হিংসা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে তারা। উপরতলা থেকে নির্দেশ না আসা পর্যন্ত পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারছে না। দিল্লির পুলিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে। ফলে কেজরিওয়ালের মন্তব্য তাঁকেই নিশানা করে বলে মনে করা হচ্ছে। 
এদিকে  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সাথে বৈঠক শেষে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, ‘প্রয়োজনে নামবে সেনা নামানো হবে।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ৩০০ কোটি ডলারের চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্প-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আলোচনা হয়েছে বলে প্রেস বিবৃতিতে জানালেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও  বলেন, ‘‘এই সফর দু’দেশের কাছেই অত্যন্ত ফলপ্রসূ। আমাদের মধ্যে অ্যাপাশে ও এমএইচ-৬০ হেলিকপ্টার কেনা-বেচার চুক্তি হয়েছে। এই হেলিকপ্টারগুলি বিশ্বের মধ্যে উন্নততম। ইসলামি সন্ত্রাসবাদ রুখতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানের সঙ্গেও নিরন্তর আলোচনা চালাচ্ছে আমেরিকা।’’#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২৫