কথাবার্তা: করোনা নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
-
পত্রপত্রিকার পাতার গুরুত্বপূর্ণ খবর
সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা: ৬ মার্চ শুক্রবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের শিরোনাম :
- আউয়াল দম্পতির জামিন: বিচারিক আদেশে নির্বাহী ছায়া-দৈনিক প্রথম আলো
- ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব : তথ্যমন্ত্রী-দৈনিক ইত্তেফাক
- মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, উত্তাল বায়তুল মোকাররম-দৈনিক মানবজমিন
- সালাম দেওয়া, হিজাব পরা বন্ধ, নাম পরিবর্তন দিল্লির মুসলমানদের-দৈনিক মানবজমিন
- মুজিববর্ষ উপলক্ষে যেন কেউ চাঁদাবাজির দোকান না খোলে: কাদের-দৈনিক যুগান্তর
- মোবাইলে করোনা ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে ৪ দিন-বাংলাদেশ প্রতিদিন
- গত ১২ ঘন্টায় সড়কে ঝরল ১৯ প্রাণ-দৈনিক সমকাল
ভারতের শিরোনাম:
- করোনা, ইয়েস ব্যাঙ্কের খবরে প্রভাব শেয়ার বাজারে, সেনসেক্স পড়ল ১০০০ পয়েন্ট-দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা
- দেহে করোনা বাসা বাধেনি, ডাক্তারি শংসাপত্র দেখালে তবেই দেশে ঢোকার অনুমতি, জানাল কেন্দ্র-দৈনিক আজকাল
- দেউলিয়ার পথে ইয়েস ব্যাংক! ৫০ হাজার টাকার বেশি তোলার উপর জারি নিষেধাজ্ঞা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
পাঠক/শ্রোতা! এবারে চলুন, বাছাইকৃত কয়েকটি খবরের বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।
করোনাভাইরাস সম্পর্কিত খবর বিশেষ গুরুত্বসহ পরিবেশিত হয়েছে বাংলাদেশ,ভারতসহ বিশ্ব মিডিয়ায়।
করোনাভাইরাস নিয়ে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-দৈনিক যুগান্তর
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে আরও ভয়ঙ্কর তথ্য দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীনে যে গতিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, চীনের বাইরে এই সংক্রমণ ১৭ গুণ বেশি। পরিস্থিতির ভয়াবহতা প্রসঙ্গে হুর ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রস অ্যাডানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, মারণ এই ভাইরাসকে যেভাবেই হোক ঠেকাতে হবে। এটি আত্মসমর্পণের সময় নয়। কোনো অজুহাতের সময় নয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই কঠিন পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সবাইকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
প্রসঙ্গত গত বছরের শেষ দিকে চীনের মধ্য শহর উহানের একটি সামুদ্রিক খাদ্যবাজার থেকে করোনাভাইরাস ছড়ায়। এর পর বেইজিং ও সাংহাইসহ চীনা শহরগুলো এবং বিশ্বের কমপক্ষে ৮৫ দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে। দিন দিন ভয়াবহ থেকে ক্রমশ অতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে করোনাভাইরাস। চীনে ইতিমধ্যে তিন হাজার ৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক লাখ।
মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। চীনে নতুন করে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আমেরিকাতেও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সেখানে এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃতের সংখ্যা ৪২। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যাও হু হু করে বাড়ছে। ইতিমধ্যে সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার। করোনার হানায় ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৮ জনে। ইউরোপের মধ্যে প্রথম এই দেশে এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজারের গণ্ডি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন লিখেছে, মোবাইলে করোনা ভাইরাস সক্রিয় থাকতে পারে ৪ দিন। দৈনিকটি আরও লিখেছে, চীনে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি, উহানে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়নি একজনও।
করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ব্যর্থ হচ্ছে গোটা বিশ্ব-দৈনিক মানবজমিন
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গোটা ইউরোপসহ বিশ্ব যখন কাঁপছে তখন প্রশ্ন দাঁড়ায় বাংলাদেশ কী প্রস্তুতি নিয়েছে এটি মোকাবেলার জন্য। যে জায়গায় বাংলাদেশের এমপি-মন্ত্রীদের আস্থা নেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর, একটু অসুস্থ হলেই বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাতে চান, সেই দেশে কী করে সম্ভব করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সুচিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা! যে দেশে একটি ভ্যাকসিন আবিষ্কার করার জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসাসরঞ্জাম নেই, যে দেশের সাধারণ রোগীরা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে সুচিকিৎসার অভাবে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। যেখানে রোড এক্সিডেন্ট এর নামে প্রতিনিয়ত প্রাণ দিতে হয় সাধারণ নাগরিককে, যেখানে রোগীর তুলনায় হাসপাতাল বা বা চিকিৎসার সরঞ্জাম পর্যাপ্ত না। যে দেশে ভয়াবহ ডেঙ্গু মহামারী রূপ নেয়ার পরও এর নিধনের ঔষুধ বিদেশ থেকে আনতে গড়িমসি করে সিটি করপোরেশনগুলো । যে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে পর্যাপ্ত স্ক্যানিং মেশিন নেই করোনা ভাইরাসটিকে সনাক্ত করার জন্য। তাই সাধারণ জনগণের প্রশ্ন? চীন ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী এখন করোনা ভাইরাস উদ্বেগ; মারাত্মক সংক্রামক এই ভাইরাস নির্ণয়ে সত্যিই কতটা পদক্ষেপ নিতে পারছে বাংলাদেশ ? চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বাংলাদেশের করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে অবৈজ্ঞানিক এবং করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং পরীক্ষা পর্যাপ্ত নয় জানিয়েছেন। এতে কি টনক নড়লো কর্তৃপক্ষের। ইতিমধ্যে ভারতে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা ভাইরাস।এখনও পর্যন্ত প্রায় আঠাশ জন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যায় ।
মানবজমিন আরও লিখেছে, ঢাকায় ১০৮ জনের নমুনা পরীক্ষা-করোনায় স্বাস্থ্য সনদ নিয়ে বিপাকে কুয়েত প্রবাসীরা। দৈনিকটি আরও লিখেছে, করোনা ভাইরাসে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। পর্যাপ্ত করোনা ভাইরাস ‘টেস্ট কিট’ নেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।
মুজিববর্ষ উপলক্ষে যেন কেউ চাঁদাবাজির দোকান না খোলে: কাদের-দৈনিক যুগান্তর
মুজিববর্ষে দলের নেতাকর্মীদের ক্ষমতার দাপট না দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পাশাপাশি চাঁদাবাজি করে মুজিববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠান না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের এক যৌথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ওবায়দুল কাদের বলেন, মুজিববর্ষের কোনো অনুষ্ঠান নিয়ে কেউ যেন চাঁদাবাজির দোকান না খোলে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। চাঁদাবাজি করে এই অনুষ্ঠান যেন কেউ না করে। চাঁদা দিতে হবে, এত টাকা হবে ধার্য করেন, অমুক দোকানদারকে এত দিতে হবে, অমুক ব্যবসায়ীকে এত দিতে হবে, অমুক বাড়িওয়ালাকে এত দিতে হবে- এসব বাড়াবাড়ি কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না।
মোদিবিরোধী বিক্ষোভ, উত্তাল বায়তুল মোকাররম-দৈনিক মানবজমিন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ঢাকা সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল বায়তুল মোকাররম এলাকা। আজ জুমার নামাজের পরপর কয়েক হাজার মুসল্লি বিক্ষোভে যোগ দেন। বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেট থেকে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। মোদিকে প্রতিহতের ঘোষণাও দেন তারা। এরআগে জুমার আগ থেকে পুরো বায়তুল মোকাররম এলাকায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়।
আগামী ১৭ই মার্চ নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে মুসলিমদের ওপর হামলায় মোদির সরকার জড়িত এ অভিযোগ এনে ইসলামী দলগুলো মোদিকে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে না আনার দাবি জানিয়ে আসছিল। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য এ দাবি নাকচ করে দিয়েছে।
সালাম দেওয়া, হিজাব পরা বন্ধ, নাম পরিবর্তন দিল্লির মুসলমানদের-দৈনিক মানবজমিন
গত রোববার রাত সাড়ে ১১টায় দিল্লি মেট্রো দিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে শাহীনবাগের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি। পাশে এক তরুণকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘এই মেট্রো কি শাহীনবাগ যাচ্ছে?’ শাহবাজ রিজবি নামে ওই তরুণ জবাবে বলেন, ‘হ্যাঁ, ৩ স্টেশন পরেই।’ শাহবাজ খেয়াল করলেন যে, ওই লোক বেশ অস্বস্তিতে ছিলেন। পুরো পথে তাকে আতঙ্কিত দেখাচ্ছিল। এ দেখে শাহবাজ কৌতুহলী হলেন। তবে কারণ বোঝার জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না। ওই লোক যখন জসোলাবিহার-শাহীনবাগ স্টেশনে নেমে গেলেন, শাহবাজ দেখতে পেলেন যে তিনি প্যান্টের পকেট থেকে টুপি বের করলেন। নেমে শাহীনবাগে ঢুকে তিনি টুপিটি পরলেন। ওই রোববারই দিল্লির পূর্বাঞ্চলে দাঙ্গা শুরু হয়। মেট্রোর ওই লোকের কথা স্মরণ করে রিজবি বলেন, ‘ওই ঘটনা থেকে আমি খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।
এক বুড়ো মানুষ, হয়তো ধর্মকর্ম করেন, তিনি প্রকাশ্য স্থানে ঝামেলা এড়াতে টুপি পরা থেকে বিরত ছিলেন। দিল্লির পরিবেশ মুসলিমদের প্রতি শত্রু ভাবাপন্ন হয়ে উঠেছে। দিল্লির সাম্প্রতিক দাঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়কে ভয় পাইয়ে দিয়েছে ভীষণ।’
রিজবি নিজে জামিয়ানগর এলাকায় এক কোচিং সেন্টারে পদার্থ বিজ্ঞান পড়াতেন। গত বছরের নভেম্বরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের পর, তিনি আর পড়াতে যান না। তার ভাষ্য, ‘আমার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই জামিয়ার ছাত্র ছিল। তাদের মুখোমুখি হওয়ার সাহস আমার ছিল না।’
‘মুসলিমদের মতো পোশাক পরো না, মুসলিমদের মতো কথা বলো না’-দৈনিক মানবজমিন
এখন অনেক মুসলিমের অবস্থা মেট্রোর ওই বৃদ্ধ লোক, বা শাহবাজের চেয়েও করুণ। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খান সাফাহাদ হিজাব পরেন। নিয়মিত ধর্ম পালন করেন। কিন্তু এখন তাকে ঘরেই থাকতে হয়। অন্যথায় বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি মেনে নিতে হয়। অর্থাৎ, হিজাব পরা থেকে বিরত থাকতে হবে। দিল্লির দাঙ্গার পর বাসা থেকে আর বের হননি তিনি। নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নেতিবাচক পরিণতির শঙ্কা তার আগেও হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি যখন ইন্টার্নশিপের জন্য আবেদন করছিলাম, আমি চিন্তিত ছিলাম যে, যদি আমার হিজাব পরিহিত অবস্থায় তোলা ছবি সিভিতে ব্যবহার করি, তাহলে হয়তো আমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে। আমি অতীতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে কাজ করেছি। কিন্তু সিভিতে তাদের নাম উল্লেখ করিনি। শুধু লিখেছি অবহেলিত মানুষের সঙ্গে সামাজিক কাজ। আমি সব সময়ই চরমপন্থী হিসেবে পরিচিত হওয়ার আশঙ্কায় থাকি। শুধু ডানপন্থীদের কাছ থেকে নয়, আমার নিজের সম্প্রদায়ের লোকদের থেকেও।’ তিনি আরও যোগ করেন, সাম্প্রতিক দাঙ্গা তার চোখ খুলে দিয়েছে। নিজের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে তিনি অনেক সচেতন হয়েছেন এখন। সচেতন হয়েছেন বছরের পর বছর ধরে তার সম্প্রদায়ের ওপর চলা পদ্ধতিগত নির্যাতন নিয়েও।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক মেহরিন ফাতিমা। তিনি প্রতিদিন যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, তিনি প্রকাশ্যে ‘আল্লাহ হাফেজ’ বা ‘সালাম’ বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে যখন, আশেপাশের লোকজন মুসলিম-বিরোধী মন্তব্য করে। তিনি বলেন, ‘মানুষ মুসলিম নারী হিসেবে যেই বেশভূষা ভাবে, আমি হয়তো তেমন নই। ফলে আমি প্রায়ই শুনে যাই যে, মানুষ কী ভয়ানকভাবে মুসলিম-বিদ্বেষ ছড়ায়, তা-ও হয়তো আমার সামনেই। এ কারণেই বাইরে থাকলে ফোনালাপে সালাম বা আল্লাহ হাফেজ শব্দ বলি না। পাছে যদি কেউ শুনে ফেলে, তাহলে হয়তো বিপদ ডেকে আনবো।’ তিনি আরও বলেন, এখন আমি বাইরে থাকলে হোয়্যাটসঅ্যাপও খুলিনা। কারণ সেখানে কনট্যাক্ট লিস্টের বেশিরভাগ মানুষই মুসলিম আত্মীয়। তিনি বলেন, ‘আমি এখন নিজের নাম যখনই বলি, তখনই মনে হয় যে আমার প্রতি ওই ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যাবে। সব সময় যে ঘটে তা নয়, কিন্তু আমি এখন নিজের নাম উল্লেখ করা নিয়ে দ্বিধায় ভুিগ। একেবারে প্রয়োজন না হলে, নিজের পারিবারিক নাম উল্লেখ করি না। কারণ, পারিবারিক নাম তো মুসলিম। এই দাঙ্গা এতটাই ক্ষতি করেছে আমাদের।’ সম্প্রতি সিনেমা হলে এক ঘটনা চোখে পড়ে তার। তার ভাষ্য, ‘আমরা সবাই জাতীয় সঙ্গীতের সময় উঠে দাঁড়ালাম। শেষ হলে, আমার পেছনে বসা একদল লোক জোরে বলে উঠলো জয় শ্রী রাম। আশেপাশের সবাই তেমন গা করলো না। যেন এটাই স্বাভাবিক। এই দেশ কি সত্যিই ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, যেখানে আমি ফোন শেষে সালাম বলতে অনিরাপদ বোধ করি, কিন্তু অন্যরা কোনো ভয় ছাড়া প্রকাশ্যে চিৎকার করে তাদের ধর্মীয় স্লোগান দিতে পারে? কিন্তু আমি বুঝি যে, আমরা আসলে হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ধর্মনিরপেক্ষতার ভুয়া মুখোস ইতিমধ্যে খসে পড়েছে।’
সাইমা রেহমান হলেন দিল্লির সুভদ্র কলোনির বাসিন্দা। তার বোন আদিবা স্কুলে পড়ে। একদিন মেট্রোতে তারা এক সঙ্গে যাচ্ছিলেন। আদিবা তখন তার কানে কানে বললো, ‘আপু, আমার মেট্রোর নাম হলো অঞ্জলি। ঘরের নাম আদিবা।’ এমনকি, একবার মেট্রোতে থাকা অবস্থায় ফোনে কথা বলতে গিয়ে সে বলে উঠে, ‘জয় শ্রী রাম! আমি মেট্রোতে আছি।’ সাইমা বলেন, ‘স্কুলে থাকা অবস্থায় আমরাও ইসলাম-বিদ্বেষ দেখেছি। কিন্তু যখন দেখলাম আমার নিজের ছোট বোন নিজেকে বাঁচাতে তার পরিচয়ের অংশই লুকিয়ে ফেলছে, তাও এত ছোট বয়সে, তখন খুব যন্ত্রণা লাগলো। আমার ভাই বহুদিন ধরে সংশয়বাদী। কিন্তু দাঙ্গার পর সে-ও আল্লাহর কাছে প্রার্থণা শুরু করেছে শান্তির জন্য।’ সাইমার বসবাস মূলত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায়। দাঙ্গার পর ৩ দিন ধরে বাসা তালাবদ্ধ রেখেছেন তার বাবা। তিনি বলেন, বাবা সব সময় ভাবতেন যে, মিশ্র এলাকায় থাকাটাই বাচ্চাদের জন্য ভালো। কিন্তু প্রতিবেশীদের প্রতি তার আস্থা এখন শূন্যের কোঠায়। অথচ, গত ১৫ বছর ধরে তাদের সঙ্গে একই এলাকায় থাকছেন তিনি। তিনি অবশেষে বন্ধুবান্ধব আর পরিবারের দীর্ঘদিনের পরামর্শ মেনে নিয়ে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় যাওয়ার কথা ভাবছেন। নাস্তিক হয়েও শান্তি নেই।
ওয়ামিক গাজধার একজন ডাক্তার। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ঘোরতর নাস্তিক। কিন্তু আমি এত বেশি বিদ্বেষ পেয়েছি স্রেফ শুধু নামে মুসলিম হওয়ার কারণে। আমার ভালো বন্ধুরা পর্যন্ত আমার বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সহজে নেয় না। তাদের ধারণা আমার হয়তো মৌলবাদীদের প্রতি সহানুভূতি থাকতে পারে!’ দিল্লিতে বসবাস করেন হাকিম আফজাল। তার মূল নিবাস কাশ্মীর। তিনি বলেন, অনেক মুসলিম ভয়ে শুধু নিজের পোশাক-আসাক বা চেহারাই পাল্টাননি। অনেকে নিজেদের কথা বলার ধরণও পাল্টিয়েছেন। আফজাল একজন ইতিহাসবিদ। তিনি ২০১৭ সালে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া থেকে রাজনীতি বিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘কথা বলার সময় মানুষ এখন সালাম বা খোদা হাফেজ- এই শব্দগুলো ব্যবহার করেন না। মেট্রোতে বা অন্য প্রকাশ্য স্থানগুলোতে বই পড়া নিয়েও আমি সতর্ক থাকি। আমি পাকিস্তান নিয়ে বিভিন্ন সাহিত্য পড়ি। কিন্তু ভেবে দেখুন এসব যদি আমি প্রকাশ্যে পড়ি, তাহলে কী হতে পারে! যদিও এটি আমার সিলেবাসের অংশ। আমি এখন প্রকাশ্যে হাঁচি দেয়া নিয়েও ভয়ে থাকি। কারণ, হাঁচি দিলে সহজাতভাবেই মুখ দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বের হয়ে আসে।’
গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট নয়: পাপিয়াকাণ্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-দৈনিক যুগান্তর
সদ্য বহিষ্কৃত নরসিংদী যুব মহিলা লীগ নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার গ্রেফতার প্রসঙ্গে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া, স্বামী মফিজুর রহমান সুমনসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ও উৎস উল্লেখ করে বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও সম্মানহানিকর সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। যা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে এবং এতে সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের’ নাম জড়িয়ে অযথা সম্মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য সংবাদ প্রচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাম ও উৎস উল্লেখ করে বিভিন্ন পর্যায়ের ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের’ নামে সম্মানহানিকর, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হল।
পাপিয়াকাণ্ডে নেতৃত্ব হারাচ্ছেন নাজমা-অপু-দৈনিক ইত্তেফাক
শামীমা নূর পাপিয়ার অপকর্ম আঘাত হানছে যুব মহিলা লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে। পাপিয়াকে নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রদান এবং তার কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আশ্রয়-প্রশ্রয়ের দায়ে নেতৃত্ব হারাতে পারেন যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমা আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল।
এবার ভারতের কয়েকটি খবর তুলে ধরছি
মৃত্যু বেড়ে সাড়ে তিন হাজার, চিনের বাইরে ১৭ গুণ দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাস, রিপোর্ট হু-র-দৈনিক মানবজমিন
ভয়াবহ থেকে ক্রমশ অতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে করোনাভাইরাস। চার দিকে হাহাকার পড়ে গিয়েছে কী ভাবে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যায়। চিনে যে গতিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে, চিনের বাইরে এই সংক্রমণ ১৭ গুণ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র সাম্প্রতিক রিপোর্ট তেমনটাই বলছে। সেই সঙ্গে এই ভাইরাসের প্রতিরোধে সমস্ত দেশকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেছে হু।
দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, প্রতিদিন বাড়ছে নোভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা। বাড়ছে আতঙ্ক। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে এই নির্দেশিকায় বড় কোনও জমায়েত এড়িয়ে চলতে বা স্থগিত রাখতে বলা হয়েছে। অন্য দিকে ভারতীয় সেনার তরফেও তাদের সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশিকা পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গাজিয়াবাদের এক ব্যক্তির পর শুক্রবার দিল্লিতে আরও এক জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনা ভাইরাসে। দিল্লিতে সব প্রাথমিক স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহেরা যোগ দিচ্ছেন না কোনও হোলি উৎসবে। রাষ্ট্রপতি ভবনেও প্রথাগত হোলি উৎসব স্থগিত রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে চিনা মারণ ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের আশঙ্কায় সারা দেশেই বাড়ছে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা, উদ্বেগ।
দেহে করোনা বাসা বাধেনি, ডাক্তারি শংসাপত্র দেখালে তবেই দেশে ঢোকার অনুমতি, জানাল কেন্দ্র-দৈনিক আজকাল
ইতালি ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ভারতে আসতে গেলে সঙ্গে রাখতে হবে চিকিৎসকের থেকে প্রাপ্ত ‘করোনা–মুক্ত’ শংসাপত্র। বৃহস্পতিবার এই নতুন যাত্রা–সংক্রান্ত সংযোজিত নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র। নতুন নিয়ম আগামী ১০ তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই, এই তিন দেশের ভিসা ও ই–ভিসা বাতিল করেছে কেন্দ্র। আর দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন লিখেছে, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ভারতীয়দের! করোনা আতঙ্কে সংসদে ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।
করোনা, ইয়েস ব্যাঙ্কের খবরে প্রভাব শেয়ার বাজারে, সেনসেক্স পড়ল ১০০০ পয়েন্ট-দৈনিক আনন্দবাজার
এক দিকে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক, অন্য দিকে ইয়েস ব্যাঙ্ক নিয়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্তের জেরে ব্যাপক প্রভাব পড়ল শেয়ার বাজারের উপর। শুক্রবার দিনের শুরুতেই ধস নামে শেয়ার বাজারে। সেনসেক্স এক ধাক্কায় ১৪৫৯.৫২ পয়েন্ট নেমে দাঁড়ায় ৩৭,০১১.০৯ পয়েন্টে। অন্য দিকে, নিফটি ৪৪১.৬০ পয়েন্ট পড়ে দাঁড়ায় ১০,৮২৭.৪০-এ।
করোনা ভাইরাসের জেরে বিশ্বের অর্থনৈতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই। টালমাটাল বিভিন্ন দেশের শেয়ার বাজার। এমন পরিস্থিতিতে লগ্নিকারীরাও সংশয়ে ভুগছেন। যার জেরে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে শেয়ার বাজারগুলোতে। আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নজর রেখে মঙ্গলবারই পরিস্থিতির মোকাবিলায় আশ্বাস দিয়েছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক-সহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কগুলো। সেই বার্তার পরে ভারতের শেয়ার বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ঠিকই, কিন্তু শুক্রবার ফের পতনে অশনিসঙ্কেত দেখছেন লগ্নিকারীরা।
দেউলিয়ার পথে ইয়েস ব্যাংক! ৫০ হাজার টাকার বেশি তোলার উপর জারি নিষেধাজ্ঞা-দৈনিক সংবাদ প্রতিদিন
মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের আগে গন্ডগোল দেখা দিয়েছিল মুম্বইভিত্তিক সমবায় ব্যাংক পিএমসি(PMC)-তে। উঠেছিল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। এর ফলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকার অতিরিক্ত তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে রিজার্ভ ব্যাংক। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেল এবার ইয়েস ব্যাংকের ক্ষেত্রেও। এর ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা। শুক্রবার সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ইয়েস ব্যাংকের এটিএম(ATM) কাউন্টারগুলিতে লাইন দিতে দেখা যায় প্রচুর মানুষকে। যদিও বেশিরভাগ কাউন্টার গতকাল রাত ১০টার পর থেকে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তরফে। এদিকে এই ঘটনার জেরে শুক্রবার সকাল থেকেই হু হু করে পড়তে শুরু করে ইয়েস ব্যাংকের শেয়ারের দাম। বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ৮০ শতাংশ কমে যায়। এর ফলে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠকে বসেছেন অর্থ মন্ত্রকের আধিকারিকরা।#
পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/৬