জুন ২২, ২০২১ ০৯:১৫ Asia/Dhaka

শ্রোতা/পাঠক!২২ জুন মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের শিরোনাম:

  • ক্যাসিনোতে প্রাইভেট কক্ষ ভাড়া নিয়ে সাজানো জুয়া খেলেছিল হ্যাকাররা-প্রথম আলো
  • ৭ জেলায় লকডাউন শুরু, দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজধানী-ইত্তেফাক
  • হুইপ সামশুলসহ ৬ জনের দেশত্যাগে নিষধাজ্ঞা-কালের কণ্ঠ
  • ৩ খুনের দায় একাই নিচ্ছেন মেহজাবিন, মানতে নারাজ স্বজনরা-যুগান্তর
  • বাংলাদেশসহ দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার সঙ্কট কঠিন আকার নিয়েছে-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা–মানবজমিন
  • ঢাকায় ৭১ , চ্ট্গ্রামে ৫৫ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি-বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার ভারতের কয়েকটি খবরের শিরোনাম:

  • মোদী-যোগী স্নায়ুযুদ্ধ প্রকাশ্যে, বিজেপির অন্দরের টানাপড়েনে আশায় বিরোধীরা-আনন্দবাজার
  • তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন প্রণব-পুত্র অভিজিৎ?অভিষেকের সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা-আজকাল
  • নারদা মামলা এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা-সংবাদ প্রতিদিন

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু’টি বিষয়ের বিশ্লেষণে যাব।

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. হুইপ সামশুল হকের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা... এমন একটি খবর দিয়েছে দৈনিক মানবজমিন। কেন এই নিষেধাজ্ঞা? বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
২. চার বছর পর কাতারে আবার রাষ্ট্রদূত ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছে সৌদি আরব। এ ঘটনা আসলে কি বার্তা দিচ্ছে?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

রাজধানীর সঙ্গে লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ

ঢাকার প্রধান প্রধান দৈনিকের গুরুত্বপূর্ণ খবর- ইত্তেফাক লিখেছে, ৭ জেলায় লকডাউন শুরু, দেশে থেকে বিচ্ছিন্ন রাজধানী। করোনার বিস্তার রোধে দেশের ৭ টি জেলায় আজ থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। আজ থেকে  রাজধানীর সঙ্গে বাস-ট্রেন-লঞ্চ যোগাযোগ বন্ধ। রামেক হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গে আরও ১৩ জন মারা গেছেন। দৈনিকটির অন্য একটি খবরে লেখা হয়েছে-টিকা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে- গরীব দেশগুলোর টিকা ফুরিয়ে আসছে।যুগান্তরের খবর-ঢাকায়৭১ এবং চ্ট্গ্রামে ৫৫ শতাংশ মানুষের দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

সুন্দর এই ঢাকা শহরে জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর ভোগান্তির শেষ নেই

আর বৃষ্টি-জলাবদ্ধতায় রাজধানী ঢাকা। ভোগান্তিতে নগরবাসী। এ খবরটিও প্রায় সব দৈনিকে পরিবেশিত  হয়েছে।

খালেদা জিয়ার চেয়েও বিএনপির কাছে পরীমণির গুরুত্ব বেশি: তথ্যমন্ত্রী-ইত্তেফাক

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

পরীমণিকে নিয়ে সংসদে আলোচনার বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘সংসদে বিএনপি দলীয় নেতা পরীমণিকে নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে বক্তব্য রেখেছেন। আমার কাছে মনে হলো তার কাছে বেগম খালেদা জিয়ার চেয়েও ঐ চিত্রনায়িকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে, সেজন্যই এটা নিয়ে তিনি বেশ কয়েকদিন বক্তব্য দিয়েছেন।’

সোমবার ( ২১ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকা শহরে কে কোথায় মদ্যপান করলো, সেখানে ভাংচুর হলো আর তার প্রেক্ষিতে সেখানে কিছু ঘটনা ঘটলো তাতে যেভাবে সবাই মত্ত হয়ে গেল, অথচ বিষয়টা জাতির জন্য মোটেও কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়। আমি এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে কেউ হেনস্তার শিকার হওয়াও ঠিক নয়, কেউ অহেতুক হয়রানি হওয়াও ঠিক নয়।’

তথ্যমন্ত্রী মনে করেন, ‘সরকারের দক্ষ পরিচালনাতেই দেশ মধ্যম আয়ে উন্নীত হয়েছে, মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে’। সরকার দক্ষভাবে দেশ পরিচালনা করতে পেরেছে বলেও এটি সম্ভবপর হয়েছে। করোনার মধ্যেও মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। করোনার মধ্যেও আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

ক্যাসিনোতে প্রাইভেট কক্ষ ভাড়া নিয়ে সাজানো জুয়া খেলেছিল হ্যাকাররা-প্রথম আলো

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা

২০১৬ সালের ৪ ডিসেম্বর রাতে (সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ চুরি করতে সাইবার হামলা চালায় হ্যাকাররা। ওই ঘটনায় নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার লাপাত্তা হয়ে যায়। ৬ ডিসেম্বর বা সেই সপ্তাহের শেষ ভাগে এসে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা খোয়া গেছে বুঝতে পারে। গতকাল সোমবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার একদিন পরই বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি আঁচ করতে পারে তবে  তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারছিল না, ঠিক কী হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাকেশ আস্তানাকে চিনতেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সহায়তার জন্য রাকেশকে ডেকে পাঠান। তখন রাকেশ বলেন, গভর্নর মনে করেছিলেন যে খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত আনতে পারবেন তিনি। সে জন্য ঘটনাটি তিনি প্রকাশ করেননি। শুধু গণমাধ্যম নয়, সরকারকেও জানাননি তিনি।

এই সময় রাকেশ আস্তানা ঘটনার কূলকিনারা খুঁজতে গিয়ে দেখেন, এর শিকড় কতটা গভীরে। তিনি দেখলেন, হ্যাকাররা বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সুইফটে ঢুকে পড়েছিলেন। সুইফটের মাধ্যমে বিশ্বের তাবৎ তাবৎ ব্যাংক নিজেদের মধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন করে থাকে। সুইফটের দুর্বল জায়গা দিয়ে হ্যাকাররা ঢোকেননি। তাঁদের সেটা প্রয়োজনও ছিল না। কারণ, সুইফটের সফটওয়্যার মনে করেছিল, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মীরা এই অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।বাংলাদেশ ব্যাংক শিগগিরই বুঝে যায়, এই টাকা ফেরত আনা যাবে না। টাকার একটি অংশ ততক্ষণে ফিলিপাইনে চলে গেছে। সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানায়, আদালতের আদেশ ছাড়া তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি দল এই ঘটনায় ফিলিপাইনে যায়। এই ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে গেলে গভর্নর আতিউর রহমান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বাংলাদেশ ব্যাংক যত দিনে নড়েচড়ে বসতে শুরু করে, তত দিনে হ্যাকাররা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যান।

টিকা পাঠায়নি দিল্লি, ইলিশও আসছে না ঢাকা থেকে, প্রশ্নের মুখে মোদীর ‘সোনালি অধ্যায়’-মানবজমিন

দিল্লির টিকা নেই, ঢাকার ইলিশও যায়নি

শুরুটা হয়েছিল ভালোই। কিন্তু ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় বাংলাদেশে করোনা টিকাদান কর্মসূচিতে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। ১৪ লাখের বেশি মানুষের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায়। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর বিদেশ মন্ত্রকের বহু বিজ্ঞাপিত ‘ভারত-বাংলাদেশ সোনালি অধ্যায়’-এর রং এই মুহূর্তে যথেষ্ট ফিকে। বাংলাদেশের প্রায় ১৬ লাখ মানুষ ভারতীয় করোনা প্রতিষেধকের প্রথম ডোজ নিয়ে বসে রয়েছেন। সময় পেরিয়ে গিয়েছে। ভারত জানাচ্ছে, আপাতত ভ্যাকসিনের আর একটি ডোজ়ও পাঠানো সম্ভব নয়।

ঢাকা সূত্রের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ আর চাপা থাকছে না সে দেশে। যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বাঙালির প্রিয় মাছ ইলিশ প্রসঙ্গে।

দীর্ঘদিন ধরেই ভারতে ইলিশ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বাংলাদেশের। তা সত্ত্বেও গত বছর জামাইষষ্ঠীর সময়ে পশ্চিমবঙ্গে দু’হাজার টন ইলিশ রফতানিতে ছাড়পত্র দিয়েছিল হাসিনা সরকার। কিন্তু এ বছর পশ্চিমবঙ্গের পাতে পড়েনি পদ্মার ইলিশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সরলীকরণ করাটাও ঠিক হবে-না যে প্রতিশ্রুত টিকা পাঠানো হয়নি বলেই ইলিশ রফতানি বন্ধ থাকল। কিন্তু এটাও ঠিক, দু’পক্ষের সম্পর্ক এতটাই আড়ষ্ট হয়ে গিয়েছে, ইলিশ-কূটনীতির আবহাওয়াটাই আর নেই। প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ওঠাপড়ায় ইলিশ এক কূটনৈতিক প্রতীকও বটে। এর আগে স্থলসীমান্ত চুক্তি সই করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ঢাকায় গিয়েছিলেন, ইলিশ নিয়ে কিছুটা রসিকতার ঢংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয়েছিল তাঁর। ভোজের তালিকায় ইলিশের পঞ্চপদ দেখে মমতা হাসিনাকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন তাঁরা ইলিশ আটকে রেখেছেন? হাসিনার জবাব ছিল, “তিস্তার পানি এলেই মাছ সাঁতার কেটে চলে যাবে ও পারে!”

তিস্তা চুক্তি রূপায়ণ নিয়ে সেই আবেগ আপাতত সংযত রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু সে দেশের রাজনৈতিক সূত্রের মতে, গত এক বছরে পর পর এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যে বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী মেজাজকে সামলানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে হাসিনা সরকারের পক্ষে। ঘরোয়া ভাবে স্বীকার করে নেওয়া হচ্ছে, ইচ্ছা না-থাকলেও চিনকে প্রতিষেধক ক্ষেত্র খুলে দিতে বাধ্য হচ্ছে ঢাকা। ইতিমধ্যেই বেজিং-এর উপহার হিসাবে প্রায় ১১ লক্ষ ডোজ় চিনা প্রতিষেধক ঢাকায় পৌঁছে গিয়েছে। আরও ৩০ লক্ষ ডোজের দাম দেওয়া হয়ে গিয়েছে। সেটাও পৌঁছবে শীঘ্রই।

৩ খুনের দায় একাই নিচ্ছেন মেহজাবিন, মানতে নারাজ স্বজনরা-যুগান্তর

মেহজাবিন- ও তার স্বামী শফিকুল

রাজধানীর কদমতলীতে মা, বাবা ও বোনকে হত্যায় আর কারও সম্পৃক্ততার তথ্য দেননি গ্রেফতার মেহজাবিন ইসলাম মুন। তিনি একাই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে দাবি করছেন। তবে তার স্বজনরা মেহজাবিনের এমন দাবি মানতে চাইছেন না। তারা বলছেন, মেহজাবিন ও তার স্বামী মিলেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। আর খুনের পরিকল্পনা করেছেন শফিকুল।

গত শনিবার সকালে কদমতলীর মুরাদপুর রজ্জব আলী সরদার রোডের পাঁচতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে মাসুদ রানা (৫০), তার স্ত্রী মৌসুমী ইসলাম (৪০) ও মেয়ে জান্নাতুল ইসলাম মোহিনীর (২০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। 

অচেতন অবস্থায় মেহজামিনের স্বামী শফিকুল ইসলাম ও মেয়ে তৃপ্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় মেহজাবিন ও তার স্বামী শফিকুলের বিরুদ্ধে কদমতলী থানায় মামলা হয়েছে। রোববার মেহজাবিনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

গতকাল সোমবার মেহজাবিনের স্বামী শফিকুলকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। তবে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেছেন, সেই রাতের ঘটনায় তার কোনো ভূমিকা ছিল না। 

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, হত্যায় শফিকুলের কোনো যোগসাজশ ছিল কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতেই তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আবার মুনের বক্তব্যও যাচাই করা হচ্ছে। এ জন্য দুজনকে আলাদা জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে তাদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

এদিকে মুনের খালা মোসা. ইয়াসমিন প্রথম দিন থেকেই এই হত্যাকাণ্ডে শফিকুলের ভূমিকা প্রধান বলে দাবি করে আসছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মুন হত্যায় জড়িত হলেও তার একার পক্ষে এ ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। স্বামীর পরিকল্পনা ও নির্দেশনা অনুযায়ী সে হত্যায় অংশ নিতে বাধ্য হয়েছে। সন্তানকে মেরে ফেলার কথা বলে তাকে জিম্মি করা হয়েছিল। অথচ শফিকুল অচেতন থাকার ভান করে নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। পুলিশ তাকে কড়াভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

মামলার বাদী মেহজাবিনের বাবা মাসুদ রানার বড় ভাই সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মামলার দুই নম্বর আসামি শফিক একজন খুনি ও একাধিক মামলার আসামি। পাঁচ বছর আগে কেরানীগঞ্জে তিনি একজনকে হত্যা করেন। সে মামলা থেকে রেহাই পেতে শ্বশুরের কাছ থেকে টাকা নিতে প্রায় স্ত্রী মেহজাবিনকে চাপ দিতেন। টাকার জন্য স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রায় ঝগড়া হতো। এ ছাড়া শফিক তার শ্যালিকা মোহিনীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনা জানতে পেরে শাশুড়ি মৌসুমী তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। শফিকের সঙ্গে মৌসুমী পেরে উঠতে না পেরে মোহিনীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠান। তবে শফিক তদবির করে তাকে কারাগার থেকে বের করে আনেন এবং আবারও তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক শুরু করেন। এ নিয়ে স্ত্রী মেহজাবিন এবং শাশুড়ি মৌসুমীর সঙ্গে শফিকের কলহ লেগেই থাকত। চার বছর আগে শাশুড়িকে হত্যার উদ্দেশ্যে শফিক তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তার চিকিৎসা করাতেও বাধা দেওয়া হয়। দরজা-জানালা বন্ধ করে প্রায়ই শাশুড়ি মৌসুমীকে শফিক মারধর করতেন।

কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর বলেন, মেহজাবিনের স্বামীকেও আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সম্পত্তির বিষয়ও এখানে রয়েছে। তদন্তে এসব আসবে।

ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

সুপ্রিম কোর্টে নারদ মামলা: শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন বাঙালি বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু-সংবাদপ্রতিদিন/আজকাল/আনন্দবাজার

নারদা মামলায় বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু নিজেকে সরিয়ে নিলেন

বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু। সুপ্রিম কোর্টে নারদ মামলার শুনানি থেকে নিজেক সরিয়ে নিলেন এই বিচারপতি। মঙ্গলবারই নারদ সংক্রান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল শীর্ষ আদালতের দুই বিচারপতি – হেমন্ত গুপ্তা ও অনিরুদ্ধ বসুর এজলাসে। কিন্তু দিনের শুরুতেই মামলা শুনানি হওয়ার ঠিক আগেই তা শুনতে গররাজি হন বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু। এর আগে রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসুও সেই পথেই হাঁটলেন। ফলে শুনানি নিয়ে আপাতত অনিশ্চয়তা তৈরি হল।

রাজনীতির খবর: বিধানসভা নির্বাচনের আগ থেকেই দলবদল চলছিল। বড় বড় নেতারা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির টিকিটে নির্বাচন করেছেন। এবার নির্বাচনের পর আবার হিড়িক পড়ে গেছে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসার। এরইমধ্যে কয়েকজন বড় নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।সপ্তাহ খানেক আগে বিজেপি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি মুকুল রায় ও তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু ফের পুরনো দলে ফিরে যাওয়ার দিন তালিকায় ছিল অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের নামও। কিন্তু কোনও কারণে ওইদিন তিনি শিবির বদল করেননি। তবে সোমবার অভিষেকের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের পর সকলেই প্রায় নিশ্চিত, দীর্ঘদিন কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত অভিজিতের দলত্যাগের আর বেশি দেরি নেই। আজকাল ও সংবাদ প্রতিদিনের খবর এটি।

মোদী-যোগী স্নায়ুযুদ্ধ প্রকাশ্যে, বিজেপির অন্দরের টানাপড়েনে আশায় বিরোধীরা-আনন্দবাজার পত্রিকার এ খবরে লেখা হয়েছে,হয়তো সামান্য মচকাচ্ছেন, কিন্ত ভেঙে পড়ার ধাতরই নয় উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের। অন্যদিকে রাজ্যের নেতৃত্বের প্রশ্নটি নিয়ে স্নায়ুর যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছেন নরেন্দ্র মোদি। এই টানাপড়েনের মধ্যে এসপিসহ রাজ্যের বিরোধী দলগুলির আশা-২০২২ এর বিধানসভা ভোটে ভিতর থেকে দুর্বল হচ্ছে বিজেপি।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/২২