অক্টোবর ২১, ২০২১ ১৬:৫৭ Asia/Dhaka

সুপ্রিয় পাঠক/শ্রোতা! ২১ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি বাবুল আখতার। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের শিরোনাম:

  • রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে: ইফতেখারুজ্জামান-প্রথম আলো
  • আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করেছে: রিজভী-মানবজমিন
  • বিএনপি দায়িত্বহীন-পরশ্রীকাতর দলে পরিণত হয়েছে: কাদের-ইত্তেফাক
  • বিদেশেও আমরা বিনিয়োগ করতে পারি’-যুগান্তর
  • করোনা রোধে টিকা তৈরিতে অগ্রণি ভূমিকা রাখায় মুসলিমবিশ্বের ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ উপাধী পেলেন যে বিজ্ঞানী-কালের কণ্ঠ

  • শাহরুখের বাড়িতে তল্লাশি-দৈনিক সমকাল

ভারতের শিরোনাম:

  • তল্লাশি চালাতে আসিনি, শাহরুখের বাড়ি ‘মন্নত’ থেকে বেরিয়ে বললেন এনসিবি-আধিকারিকরা-আনন্দবাজার পত্রিকা
  • মস্কোয় তালিবানের সঙ্গে বৈঠক ভারতের, আফগানদের পাশে থাকার বার্তা নয়াদিল্লির-সংবাদ প্রতিদিন
  • ১০০ কোটি ভ্যাকসিনের গণ্ডি পেরনোর দিনে সামান্য বাড়ল দেশের দৈনিক সংক্রমণ  ‘–আজকাল

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু'টি খবরের বিশ্লেষণে যাচ্ছি- 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

কথাবার্তার প্রশ্ন (২১ অক্টেবার) 
১. রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে। টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের বরাত দিয়ে এই শিরোনাম করেছে দৈনিক প্রথম আলো। আপনার মূল্যায়ন কী?
২. সম্পর্ক উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা করলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ও আবু ধাবির যুবরাজ। বিষয়টিকে কিভাবে দেখছেন?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর:

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে: ইফতেখারুজ্জামান-প্রথম আলো

রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার জন্যই দেশে সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটছে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, সাম্প্রদায়িকতার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির প্রধান। সংবাদ সম্মেলনে ‘সরকারি সেবায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিগম্যতা: জবাবদিহি ব্যবস্থার বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণার উপাত্ত তুলে ধরা হয়।প্রান্তিক গোষ্ঠী বলতে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, দলিত, চা–বাগান শ্রমিক, হিজড়া ও অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার মানুষদের বোঝানো হয়েছে গবেষণায়। এই সংবাদ সম্মেলনে দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর সহিংসতার বিষয় প্রশ্ন আসে। এর জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত এসেছে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং সবই ঘটছে একই কায়দায়। দেশের সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। আর আগের সহিংস ঘটনাগুলোর বিচার হয়নি। ন্যায়বিচার হলে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতো না।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলেও এসবের বিচারে রাজনৈতিক শক্তির অনীহা দেখা গেছে। তাদের সঙ্গে এসব গোষ্ঠীর আঁতাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাষ্ট্রধর্ম করাসহ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যেসব আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মৌল চেতনা এবং আমাদের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’সাম্প্রদায়িকতা সংঘাতের উসকানিদাতাদের দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা চরম উদ্বেগের বিষয়। যাঁদের হাতে পরিবর্তনের হাতিয়ার, তাঁরা বরং এসব গোষ্ঠীর কাছে থেকে সুবিধা নিচ্ছেন। এ কারণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আর হচ্ছে না।

আজকের অনুষ্ঠানে মূল গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন টিআইবির গবেষক মোস্তফা কামাল। তিনি জানান, এটি মূলত গুণগত গবেষণা। দেশের সব কটি বিভাগের প্রতিনিধিত্ব এখানে রাখা হয়েছে। দৈবচয়নের মাধ্যমে এখানে নমুনা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সেবা গ্রহণ করতে গিয়ে কী ধরনের অবস্থার মুখোমুখি হয় এবং এসবের প্রতিকারে যেসব প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোগত সুবিধা আছে, তা তারা কতটুকু ব্যবহার করতে পারে, সেসবের মূল্যায়নই ছিল এখানে বিচার্য বিষয়। গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এর উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রান্তিক পরিচয়ের কারণে অনেকেই তাঁদের ওপর নিগ্রহের বিষয়ে অভিযোগ করতে পারেন না। গবেষণায় কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়। যেমন, দলিত জনগোষ্ঠীর শতভাগ নারী বেসরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্মদান করেন। নিগ্রহের ফলেই তাঁরা খরচ অনেক বেশি হলেও বেসরকারি সেবা নেন।

করোনার সময় হিজড়া গোষ্ঠীর অনেককেই সরকারি ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। অনেক শিক্ষার্থী দলিত হওয়ার কারণে স্কুলে নিগ্রহের শিকার হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষকদের জানিয়েও লাভ হয়নি। দলিতদের খাবার হোটেলে বসতে না দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ভূমিসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে গণশুনানির কথা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষদের জানানো হয়নি, এমন ঘটনাও ঘটেছে।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে। অনেক জায়গায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হতে হয়েছে। অনেক সময় এসব বিষয়কে মেনে নিতে বলা হয়। এটা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।

সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির পরিচালক (আউটরিচ অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শেখ মনজুর-ই-আলম।

করোনা রোধে টিকা তৈরিতে অগ্রণি ভূমিকা রাখায় মুসলিমবিশ্বের ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ উপাধী পেলেন যে বিজ্ঞানী-কালের কণ্ঠ

করোনা মহামারি রোধে অগ্রণি ভূমিকা রাখায় মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন তুর্কি বংশোদ্ভূত জার্মান বিজ্ঞানী উগুর শাহিন। জর্দানের রাজধানী আম্মান ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েল ইসলামিক স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার (আরআইএসএসসি)-এর ২০২২ সালের বার্ষিক প্রকাশনায় এ উপাধী ঘোষণা দেয়। তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদ আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানায়। 

আরআইএসএসসি-এর ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধী অগ্রণি ভূমিকা রাখায় শাহিনকে ২০২২ সালে বিশ্বের পাঁচ শ প্রভাবশালী মুসলিমের ব্যক্তির তালিকার ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ উপাধী দেওয়া হয়। জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক ও যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ফার্মা প্রতিষ্ঠান ফাইজার যৌথ উদ্যোগে তাদের তৈরি টিকা পুরো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

আরআইএসএস-এর প্রকাশনায় বলা হয়, ‘বায়োএনটেক-এর ফার্মা কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা শাহিন ও তাঁর স্ত্রী ওজলেম টুরেসির যৌথ গবেষণায় করোনা প্রতিরোধী টিকা তৈরি হয়। তাদের তৈরি টিকা করোনা প্রতিরোধে শতকরা ৯৫ ভাগ কার্যকর এবং মানুষের ব্যবহারের জন্য এমআরএনএ প্রথম অনুমোদন দেয়।’ 

এদিকে তানজানিয়ার প্রেসিডেন্ট সামিয়া সুলুহু হাসান ‘উইম্যান অব দ্য ইয়ার’ উপাধীতে ভূষিত হন। গত ১৯ মার্চ পূর্ব আফ্রিকার প্রথম মুসলিম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোরআন হাতে শপথ গ্রহণ করেন। দেশটির প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন মাগুফুলির আকস্মিক মৃত্যুর পর ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হন।

কাতারের প্রেসিডেন্ট শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি মুসলিম বিশ্বের নেতৃৃবৃন্দের শীর্ষ তালিকায় আছেন। এছাড়াও সৌদি বাদশাহ সালমান, ইরানের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান ও জর্দানের কিং আবদুল্লাহ প্রভাবশালী মুসলিম নেতৃবৃন্দের তালিকায় আছেন

বিদেশেও আমরা বিনিয়োগ করতে পারি’-যুগান্তর

দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বিদেশে বিনিয়োগের পথ সুগম করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিদেশেও আমরাও বিনিয়োগ করতে পারি।  আমাদের ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করতে পারেন, বেসরকারি খাতও বিনিয়োগ করতে পারে।  আমি ভবিষ্যতে সেই সুযোগটাও সৃষ্টি করব। তার জন্য আমরা প্রস্ততি নিচ্ছি। বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এ পর্যন্ত ১৭টি কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে বিদেশে বিনিয়োগ করছে।  এসব কোম্পানির বিনিয়োগ প্রায় ৫১১ কোটি টাকা।

বিদেশে বিনিয়োগ সহজ করতে এরইমধ্যে একটি নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে সরকার।  সব পক্ষের মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করার কথা।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ বলেন, আমাদের দেশে যেমন বিদেশি বিনিয়োগ হচ্ছে, আমরাও অন্য দেশে বিনিয়োগ করতে পারি।  কারণ আমরা তো উন্নয়নশীল দেশ হয়ে গেছি।  কাজেই আমাদের শিল্প উদ্যোক্তারা নিজের দেশে না, বিদেশে বিনিয়োগ করেও সেই পণ্য সেখানে বাজারজাত করবেন।  সেই ব্যবস্থাটা আমরা করে দেব। 

বিএনপি দায়িত্বহীন-পরশ্রীকাতর দলে পরিণত হয়েছে: কাদের-ইত্তেফাক

বিএনপিকে গুজব ও অপপ্রচার না চালিয়ে জনগণের পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বিরোধী রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে বিএনপি এখন দায়িত্বহীন এক পরশ্রীকাতর দলে পরিণত হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দলের যে প্রত্যাশা তা পূরণে ব্যর্থ বিএনপি নেতারা নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করতে পুরনো রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকারও চায় দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকুক।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা এখন আর নতুন কোন বক্তব্য না পেয়েই পুরনো অভিযোগগুলোই বারবার নতুন করে বলছে।’ জনগণও চায় একটি বিরোধীদল জনগণের চোখের ভাষা ও মনের ভাষা বুঝুক, যাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা থাকবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘যারা জনগণের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়াবে ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি জনগণের আশেপাশে না গিয়ে এখন বিচরণ করছে মিডিয়া আর ভার্চুয়াল জগতে।’ অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে বিএনপি নেতারা এখন রাজনীতি নয়, অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ফরমায়েশি তথা নির্দেশিত হয়ে তারা বক্তব্য বিবৃতি দিচ্ছেন, যার সঙ্গে দেশ ও জনগণের কোন সম্পর্ক নেই। সরকার নাকি জনগণের দুঃখ দুর্দশা উপলব্ধি করতে পারে না, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে দেশের মানুষ জানে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সবার আগে যে কোন দৈব-দুর্বিপাকে জনমানুষের পাশে দাঁড়ায়।’

বিএনপি মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে মিডিয়ায় শুধু কথামালার ফুলঝুরি ছড়ায়, মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির সুবিধাবাদী চরিত্র এবং ক্ষমতা-লিপ্সা জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করে বলেন, ‘একটি অশুভ মহল দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে বিভিন্ন ধরনের গুজব, অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা আমাদের গণতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতি হুমকিস্বরূপ।’ ওবায়দুল কাদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে দেশের জনগণকে এসব গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি একইসঙ্গে ফেসবুক ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষকে এর অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানান।

এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট এর অধীনে নির্মাণাধীন ৩৫টি সেতু ও রংপুর জোনের ২ টিসহ মোট ৩৭ টি সেতুর উদ্বোধন করেন। মন্ত্রী তার বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘নির্মাণাধীন সেতুগুলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপন এবং সাসেক করিডোর, এশিয়ান হাইওয়ে, বিমসটেক ও সার্ক হাইওয়ের সাথে সংযুক্তি ঘটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমানে সারাদেশে সড়ক নেটওয়ার্কে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন হয়েছে। কিন্তু, যতই উন্নয়ন হোক সড়ক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা জরুরি।

তিনি নিরাপদ সড়কের জন্য যে কোন উপায়ে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে জানান।

আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করেছে: রিজভী-মানবজমিন

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সকল ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনার সাথে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল জড়িত আওয়ামী লীগ এই কথা বলছে। আমার প্রশ্ন হলো আপনারা কেন এ ধরনের কথা বলছেন? আপনারা যখনই এ ধরনের কথা বলেন তখনই জনগণের মনে আরো সন্দেহ সৃষ্টি হয় যে আপনারাই সুপরিকল্পিতভাবে কুরআনকে অবমাননা এবং হিন্দুদের উপর আক্রমণের মতো জঘন্যতম ঘটনা ঘটিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় মৎসজীবি দলের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনারা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য নষ্ট করেছেন। এই দেশে কোন সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনো বিবেধ ছিলনা। জনগণের মধ্যে বিভিন্ন বিবেধ সৃষ্টি করেছে তারা। এই আওয়ামী লীগ হচ্ছে বিবেধ সৃষ্টি করার কারখানা। আগে তো কোন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কথা শুনি নাই। আপনাদের আমলে তা শুনছি। কেন আপনাদের আমলে নিজেদেরকে সেকুলার দাবি করেন? আর আপনাদের সময়ে এই সাম্প্রদায়িক ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলে দেশে রক্তপাত সৃষ্টি করেছেন।রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় যে অনুসন্ধানীমূলক রিপোর্ট করছে প্রত্যেকটাতে আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নাম আসছে।

হাজীগঞ্জের হৃদয় ছাত্রলীগের ছেলে সে তার লোকজন দিয়ে কুমিল্লায় একটা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সেখানে ঝামেলা সৃষ্টি করেছে এবং পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী তার লোকজনই এ ধরণের কর্মকাণ্ড করেছেন। সেই মেহেদী বলেছে, সে না খোকন নামের ছাত্রলীগের সভাপতি সে এই কাজ করেছে। অথচ বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলুর নামে মামলা দিয়ে দিলেন তারা। নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করলেন যুবদলের নেতাকর্মীদেরকে। কিন্তু কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে আসছে।সাম্প্রদায়িকতার ঘুমন্ত দানবকে জাগিয়ে তুলে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করছে এই সরকার কিন্তু এই দানব যে তাদেরই ঘাড় মটকে দেবে এইটা এখনো টের পাচ্ছেন না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

তিনি বলেন, এরা (আওয়ামী লীগ) এমন একটি দল জনগণের রক্ত শুষে নিয়ে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চায়। এটাই তাদের অভিপ্রায়। এটাই হচ্ছে তাদের রাজনীতির কর্মসূচি। এই কর্মসূচি নিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যা করে মানুষের ভোটের অধিকার হত্যা করে ডাকাতের মতো করে ক্ষমতায় বসে আছে ১৪ বছর ধরে। মিথ্যা দিয়ে টিকে থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য সেটাই তারা চেষ্টা করছে। কমিল্লার পূজামণ্ডপসহ দেশের অন্য অঞ্চলের যে ঘটনা আমরা বারবার বলে আসছি এটা সরকার জড়িত সেই জিনিসগুলো প্রতিদিন বেরিয়ে আসছে। তাদের সেনসারর্শিপ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ফেসবুকে কিছু লিখলেই গ্রেপ্তার হয় এত কিছুর পরেও সত্য বেরিয়ে আসছে। বেরিয়ে আসছে এসব ঘটনার সাথে তাদের ছাত্রলীগ-যুবলীগ জড়িত।তিনি বলেন, তাদের এই অত্যাচার দুর্নীতি ঢেকে রাখার জন্যই দেশনেত্রী গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে।

তাদের এসব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যাথে কেউ কথা বলতে না পারে তার জন্য বেগম খালেদা জিয়া বন্দি এবং বিএনপি'র নেতাকর্মীদের নামে লাখ লাখ মামলা। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয় তাদের ইলেকশন করতে হয় না জনগণের কাছে যেতে হয় না।সংগঠনের সভাপতি মৎস্যজীবী দলের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম মাহতাবের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, উলামা দলের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম তালুকদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের নাদিম চৌধুরী, সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান, ওমর ফারুক পাটোয়ারি, কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল ইসলাম রাশেদ, সাইদুল ইসলাম টুুলু, জহিরুল ইসলাম বাশার, আমির হোসেন প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

শাহরুখের বাড়িতে তল্লাশি-দৈনিক সমকাল

বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানের মুম্বাইয়ের বাসা 'মান্নত'-এ অভিযান চালাচ্ছে ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (এনসিবি)। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।এর আগে সকালে প্রথমবারের মতো শাহরুখ ভারতের মুম্বাইয়ের আর্থার রোড কারাগারে গিয়ে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ছেলে আরিয়ানের সঙ্গে দেখা করেন। তার কিছুক্ষণ পরে এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা শাহরুখের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানা গেছে।হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক মামলার গ্রেপ্তার শাহরুখের খানের ছেলে আরিয়ান খানের জামিনের শুনানি আগামী ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত হয়েছে।  প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর একটি প্রমোদতরী থেকে আরিয়ানসহ আটজনকে মাদক মামলায় আটক করা হয়।

পরদিন তাদের গ্রেপ্তার দেখায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো। তার পরে ওই মামলায় আরও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।৩ অক্টোবর থেকেই আরিয়ানসহ গ্রেপ্তাররা মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর হেফাজতে রয়েছেন। গত ৮ অক্টোবর আদালতে হাজির করানো হলে আরিয়ানকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে একাধিক বার তার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলে তিনি এখনও কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

এবার ভারতের বিস্তারিত খবর তুলে ধরছি

 তল্লাশি চালাতে আসিনি, শাহরুখের বাড়ি ‘মন্নত’ থেকে বেরিয়ে বললেন এনসিবি-আধিকারিকরা-আনন্দবাজার পত্রিকা

বৃহস্পতিবার সাত সকালে মুম্বইয়ের আর্থার রোড জেলে গিয়ে ছেলে আরিয়ানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন শাহরুখ খান। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এনসিবি-র একটি দল পৌঁছে গেল শাহরুখ খানের বাংলো ‘মন্নত’-এ। মিনিট পনেরো সেখানে ছিলেন কেন্দ্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার আধিকারিকরা।

তাঁরা কি শাহরুখের বাংলোয় তল্লাশি চালাতে এসেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে এক এনসিবি আধিকারিক বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে। এনসিবি যখন কোনও ব্যক্তির বাড়িতে যায় তার অর্থ এটা নয়, যে তিনিও সরাসরি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বা তদন্তের আওতায় রয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন নিয়মতান্ত্রিক ব্যাপার থাকে।’’

আর্থার রোড জেলে যে দিন ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গেলেন শাহরুখ, সে দিনই তাঁর বাংলো ‘মন্নত’-এ এনসিবি-র গোয়েন্দা দলের হাজির হওয়া কি কেবলই কাকতালীয়, প্রশ্ন উঠছে।

এর আগে সকালেই বড় ছেলের সঙ্গে দেখা করতে আর্থার রোড জেলে পৌঁছন শাহরুখ। জেলের ভিতরে ১৫ মিনিট সময় কাটিয়ে আবার বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। ঢোকা বা বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনও কথা বলেননি শাহরুখ খান।

বৃহস্পতিবার সকালে বম্বে হাই কোর্টে আরিয়ানের জামিনের আবেদনের জন্য বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন শাহরুখের আইনজীবী। বিচারপতি জানান, ২৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার মামলার শুনানি হবে।

১০০ কোটি ভ্যাকসিনের গণ্ডি পেরনোর দিনে সামান্য বাড়ল দেশের দৈনিক সংক্রমণ  ‘–আজকাল

এক  বছরেরও কম সময়ে ১০০ কোটি টিকার ডোজ। মাত্র ২৭৯ দিনে করোনা টিকাকরণে ইতিহাস গড়ে ফেলল ভারত। কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াই করার মূল হাতিয়ার টিকাকরণ। একেবারে গোড়াতেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নিজে দেশবাসীকে টিকাদানে উৎসাহ দিয়েছেন বারবার। যার ফলস্বরূপ এক বছরের অনেক কম সময়ে ১০০ কোটি টিকাকরণের রেকর্ডে পৌঁছে গেল ভারত। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এখনও অবধি ৬.‌৮৫ কোটি টিকাকরণ হয়েছে। টিকাকরণে প্রথম ১০ রাজ্যের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম। তবে এটাও ঘটনা,বিশ্বের আর কোনও দেশ এই বিপুল পরিমাণ টিকাকরণের ধারেকাছে যেতে পারেনি। ১০০ কোটি টিকাকরণের এই দিনটিকে বিশেষভাবে উদযাপনও করবে সরকার।

সরকারি সূত্রের খবর ঐতিহাসিক এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে দিল্লির লালকেল্লায় দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় পতাকাটি উত্তোলন করা হবে। সেই সঙ্গে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এদিন টিকাকরণের রেকর্ডকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ তথ্যচিত্র প্রকাশ করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। দল হিসাবে বিজেপিও সরকারের এই সাফল্যের ব্যাপক প্রচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসন্ন পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে টিকাকরণের এই রেকর্ডের ফায়দা তুলতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। তবে রেকর্ড টিকাকরণের দিনে কিছুটা বেড়েছে দেশের দৈনিক করোনা সংক্রমণ। এদিন দেশে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১৮ হাজার ৪৫৪ জন। এই মুহূর্তে দেশের অ্যাকটিভ কেস ১ লক্ষ ৭৮ হাজার ৮৩১। এই মুহূর্তে দেশের সুস্থতার হার ৯৮.১৫ শতাংশ। যা মার্চ মাসের পর সর্বোচ্চ। লাগাতার টিকাকরণের জেরেই এই মাইলস্টোনে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।

মস্কোয় তালিবানের সঙ্গে বৈঠক ভারতের, আফগানদের পাশে থাকার বার্তা নয়াদিল্লির-সংবাদ প্রতিদিন

মস্কোয় তালিবানের (Taliban) সঙ্গে বৈঠক সারল ভারতের প্রতিনিধি দল। আফগানিস্তানে তালিবানের সরকারকে এখনও স্বীকৃতি দেয়নি নয়াদিল্লি। বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে আফগানভূম থেকে সন্ত্রাসের পদধ্বনি নিয়ে সরব হয়েছে মোদি সরকার। এহেন পরিবেশে এই বৈঠক এক নতুন দিশা দেখাতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বুধবার রাশিয়ার রাজধানীতে ভারতের সঙ্গে বৈঠকের পর তালিবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ টুইটারে জানায়, ভারত মানবিকতার খাতিরে আফগানিস্তানকে (Afghanistan) সাহায্য পাঠাতে রাজি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর অবশ্য আগেই আফগান জনগণকে খাবার, ওষুধপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। রাষ্ট্রসংঘের কোনও সংস্থার হাত ধরেই ভারত তাদের সাহায্য পাঠাবে বলে সূত্রের খবর।

‘ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান’-এর মুখপাত্রও টুইট করে জানান, ভারত ও তালিবান দু’পক্ষই নিজেদের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে ঐক্যমত হয়েছে দুই দেশ। আফগানিস্তানের তরফে প্রতিনিধিত্ব করেন উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল সালাম হানাফি। আর ভারতের তরফে ছিলেন বিদেশমন্ত্রকের যুগ্মসচিব জে পি সিং।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তান নিয়ে মস্কো হওয়া এই আলোচনা চক্রে ১০টি দেশ অংশ নিচ্ছে। এরমধ্যে রয়েছে ভারত, চিন ও পাকিস্তান। গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান দখল করে তালিবান। নতুন করে শুরু হয় অন্ধকার যুগের। তারপর থেকেই আশঙ্কিত গোটা বিশ্ব। তালিবানি তাণ্ডবের বীভৎস চেহারা সারা বিশ্বকে দেখতে হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রাস্তায় উন্মত্তের মতো ছুটেছে সাধারণ মানুষ। বিশিষ্টরাও বাদ যাননি। তালিবানরা দেশ দখল করে নেওয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে চেয়েছিলেন জাতীয় দলের এক ফুটবলার। কিন্তু প্লেন থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় নেট নাগরিকরা শিহরিত। এখনও ‘কাবুলিওয়ালার দেশে’র রুক্ষ মাটিতে রক্তের দাগ। এমনকী সম্প্রতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে রাস্তায় নামা আফগান মহিলাদের উপরে গুলি চালিয়েছে জেহাদিরা।#

পার্সটুডে/বাবুল আখতার/২১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।