বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনারকে ছেড়ে দিয়েছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ
-
পুত্রজায়ায় ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান ও তার স্ত্রী রিটা রহমান (ফাইল ফটো)
মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানকে ছেড়ে দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমানের বরাত দিয়ে আজ (বুধবার) মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খায়রুজ্জামানকে পুত্রজায়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের ডিপো সদর দফতর থেকে বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে মুক্তি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন।
মুক্তির পর খায়রুজ্জামান বলেছেন, ‘এখন আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আমার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
এর আগে, বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে গত ১০ ফেব্রুয়ারি খায়রুজ্জামানকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের আমপাং এ তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয় বলে জানায় জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা- ইউএনএইচসিআর। খায়রুজ্জামানকে ফেরত পাঠালে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে বলেও জানায় সংস্থাটি। আর গতকাল মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট মোহাম্মদ খায়রুজ্জামানকে দেশে ফেরত পাঠানোর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে।
খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেয়। মালয়েশিয়ার হাইকোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ জাইনি মাজলান গতকাল খায়রুজ্জামানের রিট আবেদনের শুনানির সময় এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টে খায়রুজ্জামানের পক্ষে করা আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ২০ মে তারিখ ধার্য করেন।
গ্রেফতারের পর খায়রুজ্জামানের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাঁদের মক্কেল (খায়রুজ্জামান) একজন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী। তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) কার্ডধারী। তিনি কোনো অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করেননি। তাঁর বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র আছে। তিনি মালয়েশিয়ায় কোনো কাজ করছিলেন না। তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তাই তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করা বেআইনি। তাঁকে বহিষ্কার করার অধিকার মালয়েশিয়ার নেই।
উল্লেখ্য, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমেদ, মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। পরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তাকে অবসরে পাঠানোর পাশাপাশি জেলহত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর খায়রুজ্জামান জামিনে বের হয়ে আসেন। এরপর চাকরি ফিরে পেয়ে ফের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন। ২০০৪ সালে তিনি জেলহত্যা মামলা থেকে অব্যাহতি লাভ করেন। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার আগে তাকে খালাস দেওয়া হয়। তবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে ঢাকায় ফিরে আসতে বলা হয়। তবে দেশে ফিরে আসাকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে খায়রুজ্জামান কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী কার্ড নেন এবং সেখানেই থেকে যান।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১৫
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।