আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষতবিক্ষত-ফখরুল, দেশের সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায় বিএনপি- কাদের
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ এক বিবৃতিতে বলেছেন, সরকারের নিপীড়ন ও নির্যাতনে মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষতবিক্ষত । আইনের শাসন না থাকায় ঘরে-বাইরে কারও ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। বিএনপিসহ বিরোধী দলের আন্দোলনকে স্তব্ধ করতে এবং বিরোধী নেতাকর্মীসহ সাধারণ নাগরিকের মনে ভীতি সঞ্চার করতেই ফ্যাসিবাদী কায়দায় ধারাবাহিকভাবে সরকারি জুলুম-নির্যাতন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আজ রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) ঝালকাঠির সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামীলীগের যৌথ হামলার প্রতিবাদে এ বিবৃতি দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বর্তমান আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার বিএনপির নেতৃত্ব ধ্বংস করতেই অবৈধ সরকার তাদের অনুগত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির ওপর নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক হামলা অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ঝালকাঠির সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে পুলিশ এবং আওয়ামী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা যৌথভাবে হামলা চালিয়ে দলীয় কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর ও অনুষ্ঠান পণ্ডসহ বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে আহত করেছে।’
ফখরুল বলেন, অতীতে যেমন কোনো স্বৈরশাসক বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম চালিয়ে নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে সক্ষম হয়নি, বর্তমান শাসকগোষ্ঠীও হবে না। ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সরকারি জুলুম-নির্যাতনকে পরোয়া না করে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনগণকে সাথে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আরও বেশি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হবে’- বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়- সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল বিএনপিকে শান্তির ভাষায় কথা বলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শান্তির ভাষায় কথা না বললে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। আজ রবিবার নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপশক্তির শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে দেশের সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায় বিএনপি।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নেতাদের ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের জনগণের কাছে একটা দৃশ্যমান উন্নয়নের চিত্র নেই, তাই জনগণ বিএনপির সকল ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।
নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যারা সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল, তাদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে সম্মেলন স্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেরই যদি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তাহলে দেশের সকল উন্নয়ন বিনষ্ট হয়ে যাবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার উন্নয়নের গর্ব নিয়ে আরেকটি নির্বাচনে অংশ নেবে আওয়ামী লীগ।
যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করেছে তাদের নামের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/বাবুল আখতার/২০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।