সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি: সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বললো হাইকোর্ট
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i105158-সয়াবিন_তেলসহ_নিত্যপ্রয়োজনীয়_পণ্যের_দাম_বৃদ্ধি_সিন্ডিকেট_ভেঙে_দিতে_বললো_হাইকোর্ট
সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যারা কুক্ষিগত করে রেখে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১৩, ২০২২ ১৫:১৯ Asia/Dhaka
  • সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি: সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বললো হাইকোর্ট

সয়াবিন তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যারা কুক্ষিগত করে রেখে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।

আজ রোববার (১৩ মার্চ) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত এক রীট আবেদনের শুনানীতে এমন মন্তব্য করে। একই সাথে সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দায়ের করা রিটের আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালত রিটকারী আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, সামনে রমজান মাস আসছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারে। শুধু সয়াবিন তেল নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের কথা রিটে অন্তর্ভুক্ত করুন। এমন আদেশ দিতে হবে যেন দেশের প্রত্যেকটা নাগরিকের উপকার হয়। টিসিবির নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণে নীতিমালা করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন আদালত।

গত রোববার (৬ মার্চ) সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং সেল গঠন এবং নীতিমালা তৈরি করতে সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনির হোসেন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মহিদুল কবীর ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ উল্লাহ এ রিট দায়ের করেন।

বাণিজ্য সচিব, ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক এবং সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ বলেছেন, অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটই কারসাজি করে দ্রব্যমূল্য বাড়াতে অপচেষ্টা করছে। তারা খাদ্যপণ্য অবৈধভাবে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেষ্টা করছে। মজুতদারদের কেউ যদি দলের নেতাও হয়, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। দলের নাম বিক্রি করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রোববার (১৩ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজারে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে করা এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এই নির্দেশ দেন।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব দেশের দ্রব্যমূল্যের ওপর তেমন পড়েনি। যুদ্ধের আগেই দেশের চাহিদামতো দ্রব্য মজুত করা হয়েছে। কিন্তু রমজান মাস সামনে রেখে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দোহাই দিয়ে অসাধু চক্র দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দিতে চাইবে। তারা কৃত্রিম সংকটও সৃষ্টি করতে চাইবে। কিন্তু কোনোভাবেই তা হতে দেওয়া যাবে না। তার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাদের সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং করতে হবে। এর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ড. হাসান মাহমুদ গতকাল বলেছেন, বিএনপি দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধিতে কারসাজি করছে।

মন্ত্রীর এমন অভিযোগের জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ বলেছেন, সরকারের মন্ত্রীরা দ্রব্যমূল্য নিয়ে হাস্যকর ও উদ্ভট কথাবার্তা বলে জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন। তারা  জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মুল্য বৃদ্ধির জন্য সরকারের লোকজন দায়ী। এ ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার মাথায় নিয়ে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে আলাপকালে সাংবাদিকদের নিকট এসব মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

এদিকে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দ্রব্যমূল্য মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দুর্ভিক্ষের ছায়া থাকবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে মানুষ আধপেটা থাকবে - এটাই বাস্তবতা।

আজ রবিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১১টায় রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সরকারের দুঃশাসন সংবলিত লিফলেট বিতরণকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী এ সব  মন্তব্য করেন। রিজভী অভিযোগ করেন, এই ১০ বছরে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে ৯০ শতাংশ, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে ১৪৪ শতাংশ, ডিজেলের দাম তারা বৃদ্ধি করেছে ৮২ শতাংশ এবং পানির দাম বৃদ্ধি করেছে তারা ২৪৪ শতাংশ। পৃথিবীর যে দেশে জনগণের সরকার থাকে সেখানে এই ধরনের দাম বৃদ্ধি হয় না।#

 

পার্সটুডে/ আব্দুর রহমান খান/বাবুল আখতার/১৩

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।