নিষেধাজ্ঞা কোনো সুইস নয় যে চাপলেই অন বা অফ হবে: মোমেন
-
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্থনি জে ব্লিনকেন এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব ও এর সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার হতে হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক (স্থানীয় সময়) সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্থনি ব্লিনকেন নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্লিনকেনের সঙ্গে বৈঠকে আমি বাংলাদেশের এলিট সিকিউরিটি ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এর উজ্জ্বল ভূমিকা এবং বাড়াবাড়ি করা সদস্যদের বিচারের বিষয়টি তুলে ধরে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছিলাম। জবাবে তিনি প্রসেসের মধ্য দিয়ে যেতে বলেছেন।
গত চার মাসে বাংলাদেশে কোনো বিচারবহির্ভুত হত্যা না হওয়ার বিষয়ে ব্লিনকেন অবহিত জানিয়ে মন্ত্রী মোমেন বলেন, আমি তাকে এ-ও বলেছি যে গত চার মাসে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অধীনে একটি মামলাও হয়নি।
মন্ত্রী বলেন, মার্কিন মন্ত্রী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, অবশ্যই তাদের অ্যাকাউন্টিবিলিটি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের মধ্যে যারা অপরাধে অভিযুক্ত তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
একে আবদুল মোমেন বলেন, তাদের বিচারে দেশে যে ম্যাকানিজম রয়েছে, সে সম্পর্কে জানিয়েছি। তাদের ১২ জন বা তার বেশি সদস্যের মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়েও বলেছি।
নিষেধাজ্ঞা এবং অন্যন্য ইস্যুতে ভালো আলোচনা হয়েছে দাবি করে মন্ত্রী মোমেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সময় লাগবে, ওই কমিটিতে যারা আছেন তাদেরকে সন্তুষ্ট করতে হবে পরবর্তী রেমেডিয়াল মেজারস দিয়ে। নিষেধাজ্ঞা কোনো সুইস বোর্ড নয় যে চাপলেই এটা অন বা অফ হয়ে যাবে।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানোর কথা তুলে ধরে মোমেন বলেন, আপনারা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর ওপর চালানো বর্মী গণহত্যার স্বীকৃতি দিয়েছেন, এ কাজে আপনার অবদানে আমরা অত্যন্ত খুশি। আশা করি নির্যাতিতরা এতে কিছুটা হলেও প্রশান্তি পাবে এবং বাস্তুচ্যুতের প্রত্যাবাসনের পথ সুগম হবে।
মোমেন বলেন, তিনি মার্কিন পক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন যে বাংলাদেশে একটি ভালো নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থা রয়েছে এবং একটি (বিএনপি) ছাড়া সব দল এই স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নেয়। বিএনপিকে জনগণের কাছে যেতে হবে এবং ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থা আছে। আমাদের নির্বাচন কমিশন আছে। তারা (ইসি) স্বাধীন এবং নির্বাচনের সময় তারাই বস।মোমেন বলেন, তারা (বিএনপি) যদি সত্যিই গণতন্ত্রের প্রতি বদ্ধপরিকর হয়, তাহলে তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা উচিত। তারা নির্বাচন করতে চাইলে তাদের স্বাগত জানাই।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনের এমন বক্তব্যের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেনের বক্তব্য জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে মোমেন বলেন, "তিনি বলেছেন, এগুলোতো ভালো।"
বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করার তাগিদ দেন ব্লিঙ্কেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানান।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/৫