যে অপরাধ করেছে সে শাস্তি পাবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৪০ ঘণ্টা পরও সীতাকুণ্ডের আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর প্রায় ৪০ ঘণ্টা পার হলেও আজ বিকাল নাগাদ তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে এখনো বেশ কয়েকটি কনটেইনার দাউ দাউ করে জ্বলছে। ধোঁয়া বেরোচ্ছে বেশ কয়েকটি কনটেইনার থেকে।
এদিকে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ও আহতদের খোঁজ-খবর নিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এই কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'কোনো ঘটনায় আমরা কাউকে ছাড় দিই না। এবারও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যে অপরাধ করেছে সে শাস্তি পাবে। বিন্দু পরিমাণ অপরাধ থাকলেও শাস্তি পেতে হবে। ঘটনা তদন্ত করে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিএম কনটেইনার ডিপো কর্তৃপক্ষের কোনো দায় রয়েছে কিনা সেটারও তদন্ত চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, 'দুর্ঘটনার জন্য কারো অবহেলা বা দায় থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সে যতবড় শক্তিশালীই হোক না কেন। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।'
তাছাড়া , সোমবার (৬ জুন) দুপুর সোয়া ২টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে দগ্ধদের দেখতে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, অগ্নি দগ্ধদের মধ্যে যাদের ঢাকায় আনা হয়েছে তাদের জন্য আলাদা মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। চট্টগ্রামেও একটি আলাদা বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ের কাজ করছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ১৪ জন ভর্তি রয়েছেন। আরও ৪-৫ জনকে ঢাকায় আনা হচ্ছে। এই ১৪ জনের মধ্যে চারজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। তাদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি সবাই একটু উন্নতির দিকে।
নিরপেক্ষ তদন্ত চায় বিএনপি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম ডিপোর বিস্ফোরণ ঘটনার তদন্তে ‘নিরপেক্ষ কমিশন’ দাবী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার দুপুরে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যে, এই ঘটনার জন্য অবিলম্বে একটা নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত। এর জন্য যারা দায়ী তাদের খুঁজে বের করা দরকার।’
এই ঘটনায় হতাহতদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং দেশের সব কন্টেইনার ডিপোতে তদারিক ব্যবস্থা চালু করার দাবিও জানান বিএনপি মহাসচিব।
কেমন তদন্ত কমিশন চান জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত অতীতের কোনো ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দেখিনি। আমরা যখন নিরপেক্ষ কথাটা বলি, এটা মিন করি যে, দল নিরপেক্ষ এবং সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক নাই যারা এক্সপার্টস আছেন, যারা বিশেষজ্ঞ আছেন, সত্যিকার অর্থে বিষয়গুলো যারা বুঝেন তাদেরকে দিয়ে তদন্ত করা। দল নিরপেক্ষদের দিয়ে তদন্ত করতে হবে। আমরা চাই সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত।’
মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে
ইতোমধ্যে বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত মানুষের সংখ্যা ৪৯ থেকে কমিয়ে ৪১–এ নামিয়ে এনেছে প্রশাসন। প্রশাসন বলছে, আগের ৪৯ জনের মৃত্যুর তথ্য ভুল ছিল।
আজ সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মরদেহ পাওয়া গেছে ৪১ জনের। তাই নিহত মানুষের সংখ্যা ৪১।’
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতদের তালিকায় রয়েছেন ৯ জন ফায়ার সার্ভিসকর্মী। এ ছাড়া ফায়ার সার্ভিসের আরও অন্তত চার কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন।
সোমবার (৬ জুন) ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া) মো. শাহজাহান সর্দার জানান, , শনিবার রাত ১১টা ২৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এসময়ে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ফায়ার ফাইটাররাও হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন।
নিহতদের শনাক্তে ডি এন এ সংগ্রহ
এদিকে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের শনাক্তে তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সোমবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ২০টি মরদেহের বিপরীতে ৩৫ জনের নমুনা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে সিআইডির নাজমুল আলম টুটুল বলেন, সকাল থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ২০টি মরদেহের বিপরীতে ৩৫ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
শনাক্ত হয়নি এমন মরদেহ রয়েছে ১৯ জনের— সেক্ষেত্রে ২০ পরিবারের ডিএনএ পরীক্ষা কেন জানতে চাইলে সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকজনের মরদেহ তাদের পরিবার শনাক্ত করে নিলেও সন্দেহ থাকায় তারা আবার ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন।#
এআরকে