নোয়াখালীতে ১৪৪ ধারা জারি
কুমিল্লা ও নেত্রকোনায় বিএনপির মিছিলে হামলা: পুলিশসহ আহত ৪০
-
কুমিল্লায় পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ
দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আজকেও বিএনপির বিক্ষভ মিছিলে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও যোগ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ওদিকে, আজ (বুধবার) নেত্রকোনার মদনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম ছাড়াও দু'পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট আজ (বুধবার) সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পৌর বাজারে থেমে থেমে চলে এই সংঘর্ষ। সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাজারের বটতলা এলাকায় নির্মিত লোটাস কামাল চত্বর, নৌকার তোরণসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালাতে দেখা গেছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নজির আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, ভোলায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা নিহতের প্রতিবাদে আমাদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ছিল। সকাল ৯টায় মিছিলের শুরুতে পুলিশ আমাদের অন্যায়ভাবে লাটিপেটা করেছে। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও। এতে আমাদের ১৫ জনের বেশি কর্মী আহত হয়েছে। আমরা এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। ’
উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সাদেক হোসেন বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নেই। বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে বিক্ষোভের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে তাণ্ডব চালিয়েছে। তারা আমাদের নেতা ও সরকারের অর্থমন্ত্রীর নামে নির্মিত লোটাস কামাল চত্ত্বর, নৌকার তোরণসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর করেছে। ’
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে আমাদের পাঁচ জনের বেশি পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’
নেত্রকোনার মদনে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষের ঘটনায় মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম ছাড়াও দুপক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার উপজেলার চাঁনগাও ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে মদন উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা বিক্ষোভ মিছিলের জন্য চানগাঁও ইউনিয়নের শাহপুর ঈদগাহ মাঠে জড়ো হন। তাদের দেখে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও একই স্থানে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে দু-পক্ষের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট, পাটকেল ছুড়তে শুরু করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম আকন্দ বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্দেশে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। পরে আমাদের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ৭ নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মদন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার খান এখলাছ জানান, আমাদের নেতাকর্মীদের দেখে বিএনপির নেতাকর্মীরা অর্তকিত হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলে তাদের ওপর ইট ছোড়া হয়। আমাদের ৭ জন নেতাকর্মীকে আহত অবস্থায় মদন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা করা হবে।
মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম জানান, বিএনপি কর্মসূচি পালন করার খবর পেয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকে। দুই পক্ষের উত্তেজনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যেতেই বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর ইট,পাটকেল ছোড়ে। এতে আমি ও আমার দুই জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছি। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নোয়াখালীতে ১৪৪ ধারা জারি
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। আতঙ্কে চৌমুহনীর দোকান পাট বন্ধ রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন।
বুধবার ভোর ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুন নাহার।
তিনি জানান, আজ বেগমগঞ্জ উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে বেগমগঞ্জ স্টেডিয়াম মাঠে বিকাল ৩টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অংশ হিসেবে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। একই স্থানে বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরাও তাদের সমাবেশ ঘোষণা করেছেন।
একই স্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমাবেশ ঘোষণা করায় বিষয়টি স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হওয়ায় সরকারি সম্পদের রক্ষা, জানমালে নিরাপত্তা এবং শান্তি শৃঙ্খলার স্বার্থে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকাকালীন স্টেডিয়াম এলাকাসহ চৌমুহনী পৌরসভার কোনো স্থানে কোনো পক্ষ সভা, সমাবেশ, মিছিল বা জমায়েত অথবা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটে এমন কিছু কেউ করতে পারবে না।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৩১