চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে তরুণদের গড়ে তোলা হচ্ছে: শেখ হাসিনা
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i113104-চতুর্থ_শিল্প_বিপ্লবের_উপযোগী_করে_তরুণদের_গড়ে_তোলা_হচ্ছে_শেখ_হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে তরুণদের গড়ে তোলা হচ্ছে। তরুণরাই একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ। তারাই দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে, দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে।
(last modified 2026-04-22T13:03:13+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১১, ২০২২ ১২:১০ Asia/Dhaka
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে তরুণদের গড়ে তোলা হচ্ছে। তরুণরাই একটি দেশের প্রকৃত সম্পদ। তারাই দেশের নেতৃত্ব দিতে পারে, দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারে।

আজ (রোববার) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ বিতরণ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের মানবহিতৈষী এবং স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ প্রদানের উদ্যোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাঁর বাণীতে বলেছেন, দেশকে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিতে যুবসমাজকে অগ্রসৈনিক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশ গড়ার হাতিয়ার যুবদের শাণিত করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন যুব সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। যুবদের জন্য গৃহীত কার্যক্রমের মধ্যে উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ,ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ, আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি ও যুব সংগঠন নিবন্ধন বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য।

যুব সম্প্রদায়কে এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণে দেশপ্রেম, কর্মে একাগ্রতা, সাহস ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সময় যৌবনকাল এবং মানবসম্পদের শ্রেষ্ঠ অংশ যুবসমাজ। বাংলাদেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রাম ও অগ্রগতির পথে এ দেশের যুবসমাজের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। মহান ভাষা আন্দোলন হতে স্বাধীনতা সংগ্রামসহ এ দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যুবরা যেমন জীবন উৎসর্গ করতে কার্পণ্য করেনি, তেমনি এ ক্ষেত্রে যুবসমাজের জন্য অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সংগত ও উদ্ভাবনী উন্নয়ন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। তাদের কর্মবিমুখতা, কুসংস্কার, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রেখে দক্ষ, আধুনিক, বিজ্ঞানমনস্ক, পরমতসহিষ্ণু, উদার ও নৈতিকতাসম্পন্ন বিবেকবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

সরকার প্রধান বলেন, যুবসমাজের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে জাতির পিতাকে হত্যার পর। পঁচাত্তরের পর সামরিক সরকার ক্ষমতা দখল করে। জাতির পিতাকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিল। সেই জিয়াউর রহমান যুবসমাজের হাতে অস্ত্র, মাদক তুলে দিয়ে তাদের বিপথে পরিচালিত করেছিলেন। তিনি যুবসমাজের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে নিজের ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

তরুণদের জন্য বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমাদের লক্ষ্যই ছিল, দেশের যুব সমাজকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। তখনকার যুগে কেউ কম্পিউটার শিখতো না, কম্পিউটার ছিলই না। দুই-চারটা অফিসে হয়তো ডেস্কটপ সাজানো থাকতো, কিন্তু কেউ ব্যবহার করতো না। আমিই উদ্যোগ নিয়েছিলাম যে, প্রথমেই প্রযুক্তি শিক্ষা দিতে হবে। কারণ সে সময় আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষা বা কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে মাত্র ৭ শতাংশ ছেলেমেয়ে সম্পৃক্ত ছিল। যে কারণে আমি ১২টা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নেই। কারিগরি শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেই।

সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য এবার পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১১ জনকে ‘শেখ হাসিনা ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে।

রোববার সকালে রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত  অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত ১১ জনের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা এবং সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়েছে।

এ বছর যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে অসামান্য অসাধারণ অবদান রাখায় প্রথম ক্যাটাগরিতে মাসুদ আলম ও কামরুন্নাহার লিপি এ পুরস্কার পেয়েছেন। শিক্ষাবিজ্ঞান তথ্য-প্রযুক্তি ও কারিগরির ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জাগো ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক করভি রাকসান্দ ধ্রুব ও পেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক মেঘনা খাতুনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।

দেশপ্রেম বীরত্ব ও সাহসীকতার ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখায় এনকেএম মুন্না তালুকদার ও রাজু আহমেদ পুরস্কার পান। জ্যেষ্ঠদের প্রতি আদর্শ সেবা ও সমাজ কল্যাণে অসাধারণ অবদান রাখার জন্য চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার বৃদ্ধাশ্রমের (কল্যাণপুর) প্রতিষ্ঠাতা মিল্টন সমাদ্দার এবং মোহাম্মাদ কাস্মিরুল হক (কাসমির রেজা) এই সম্মাননায় ভূষিত হন।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/১১ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।