বান্দরবানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান: দুই উপজেলায় পর্যটন নিষেধাজ্ঞা
মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের পর্বত্য জেলা বান্দরবানের রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে আজ মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সদস্যেরা জঙ্গিদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে সেনাবাহিনী ও র্যাব যৌথ অভিযান চালাচ্ছে রুমা ও রোয়াংছড়ির বিভিন্ন জায়গায়। অভিযানকালে পর্যটকদের অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার আশংকা রয়েছে। এ সময় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবার পর এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মামুন শিবলী বলেন, ‘রুমা ও রোয়াংছড়িতে অভিযানের বিষয়গুলো যৌথবাহিনী দেখছে। চলমান অভিযান সম্পর্কে প্রশাসনকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। দুর্গম এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানের দরুন পর্যটকদের নিরাপত্তায় সাময়িকভাবে ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’
স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফের সাথে ইতোমধ্যে যুক্ত হয়ে পড়েছে বম, খুমি, পাংখোয়া, খেয়াং, লুসাই এই পাঁচ সম্প্রদায়ের যুবকগন। কেএনএফ সদস্যদের সশস্ত্র অবস্থান মূলত বান্দরবানের গহীন অরণ্য রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায়। রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম বড়থলি ইউনিয়নেও তাদের যাতায়াত রয়েছে। এদের নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক ছাত্র নাথান বম।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, ২০২০ সালে কেএনএফের প্রধান নেতা নাথান বমের সঙ্গে জঙ্গি নেতা শামিন মাহফুজের সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য উভয়ের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। গত ৮ অক্টোবর র্যাবের হাতে দুই জঙ্গি সদস্য আটক হবার পর তাদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে কেএনএফের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে।
সম্প্রতি র্যাব জানায়, বাংলাদেশে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়া নামে নতুন একটি জঙ্গি সংগঠন গড়ে উঠেছে। এদের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরছাড়া তরুণদের অনেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। সেখানে তাদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। গোপনে তারা উগ্রপন্থি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নতুন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপ কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) যোগসূত্র পাওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় সেনাবাহিনী ও র্যাব যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।
জানা গেছে, অভিযানের অংশ হিসেবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মাইকিং ও প্রচারপত্র বিলি করে উগ্রপন্থিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ ছাড়া, জঙ্গিদের অবস্থান অম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে ১ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে । #
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/১৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।