পারমাণবিক চুল্লি বসানোর কাজের উদ্বোধন: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i114706-পারমাণবিক_চুল্লি_বসানোর_কাজের_উদ্বোধন_বিদ্যুৎ_সাশ্রয়ী_হবার_পরামর্শ_দিলেন_প্রধানমন্ত্রী
রাশিয়ার আর্থিক সহায়তায় পাবনার রুপপুরে স্থাপিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি বসানোর কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সবাইকে বিদ্যুত সাশ্রয়ী হবার পরামর্শ দিয়েছেন।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
অক্টোবর ১৯, ২০২২ ১৩:৫৫ Asia/Dhaka
  • পারমাণবিক চুল্লি বসানোর কাজের উদ্বোধন: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবার পরামর্শ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়ার আর্থিক সহায়তায় পাবনার রুপপুরে স্থাপিত দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লি বসানোর কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সবাইকে বিদ্যুত সাশ্রয়ী হবার পরামর্শ দিয়েছেন।

আজ বুধবার সকাল ১০টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'পরিস্থিতির কারণে আমাদের একটু সাশ্রয়ী হতে হচ্ছে। তার মানে এই না, দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পাবে না। মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে, পাবে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যয়ী হতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করছি। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিবেশের ক্ষতি করবে না। দুটি ইউনিট মিলিয়ে ২ হাজার ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, যা আমাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৩ সালে এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ পাব।’

সরকার দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নতি চায় দাবী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে আবার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাচ্ছে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যে বিদ্যুৎ আসবে, তা উত্তরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের কাজে লাগবে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য এখানকার বিদ্যুৎ দিয়ে শিল্প হবে বলেও জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ নিউক্লিয়ার পাওয়ার অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করি। আমরা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জায়গা ঠিক করেছিলাম। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার কার্যালয় ভিয়েনায় আমরা প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলাম। এ জন্য একটি কমিটিও করি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর এ ব্যাপারে তারা কোনো কাজের অগ্রগতি করেনি। আমরা ২০০৯ সালে আবার ক্ষমতায় আসার পর আবারও বিদ্যুৎকেন্দ্রটি করার ব্যাপারে কাজ শুরু করি। বন্ধুপ্রতিম দেশ রাশিয়ায় যাই, পুতিনের সঙ্গে এ নিয়ে আমার কথা হয়। রোসাটম আমাদের কাজে সহযোগিতায় এগিয়ে আসে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ করতে গিয়ে দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে এটি নির্মাণ করা হয়েছে। পাবনার জনগণ এ ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

গত বছরের ১০ অক্টোবর প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে সহায়তাকারী রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ ও সংস্থাটির অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা।

প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে এবং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। প্রকল্পটির প্রায় ৫৩ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি এবং ৫৫ শতাংশ ভৌত অগ্রগতি হয়েছে। তবে প্রথম ইউনিটের সার্বিক অগ্রগতি ৭০ শতাংশ।

রূপপুর প্রকল্পটি রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন বাস্তবায়ন করছে। জনশক্তি প্রশিক্ষণসহ প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এর ৯০ শতাংশ রাশিয়ার অর্থায়নে করা হচ্ছে।#

পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/রেজওয়ান হোসেন/১৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।