নিত্যপণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান
ব্রয়লার মুরগিসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারসাজিতে জড়িতদের শাস্তি দাবি ক্যাবের
যেসব অসাধু ব্যবসায়ী ব্রয়লার মুরগির বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে কোটি টাকা লুণ্ঠন করেছে, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ক্যাব।
আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ব্রয়লার মুরগীসহ নিত্যপণ্যের কারসাজিতে দায়ীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনে সরকারের প্রতি এ দাবি জানায় সংগঠনটি। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ব্রয়লার মুরগীর বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের পকেট কেটে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসময় ক্যাব নেতারা বলেন, এ বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেয়া না হলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করা হবে।
সংগঠনটির অভিযোগ, মুরগির দাম বাড়িয়ে হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু মুরগিই নয়, বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে যেসব অসাধু ব্যবসায়ী ফায়দা লুটছেন, তাঁদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন ক্যাবের নেতারা।

ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর ভূঁইয়া বলেন, ব্যবসায়ীরা কথা দিয়েছিলেন রোজায় কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। কিন্তু দেখা গেল, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগিতেই তাঁরা ১০০ টাকার ওপরে লাভ করেছেন। এভাবে ভোক্তাদের পকেট থেকে হাজার কোটি টাকা লুটে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এসব অসাধু ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আরও অনেকে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করবে।
ক্যাবের সহ-সভাপতি নাজের হোসাইনের দাবি, বাজারে সারা বছর কোনো না কোনো পণ্য নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা অস্থিরতা তৈরি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটে নেন। তিনি বলেন, কখনো ব্রয়লার মুরগী, আবার কখনো চিনি কিংবা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়, এভাবে বছরজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা চলছেই। তাতে মানুষের জীবন-জীবিকা বিপন্ন। এক মাসের একটু বেশি সময়ে ব্রয়লার মুরগীর ব্যবসা করে এক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাহলে সারা বছর চিনি ও সয়াবিনের মতো পণ্যের মাধ্যমে কত হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে তা ভাবনার বিষয়।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলা পর্যায়ে করেন, ভোক্তা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পণ্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলছে অভিযান। কুমিল্লা বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন, ভোক্তা অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম। এসময় অনুমোদন না থাকা, মেয়াদ উত্তীর্ণ কেমিক্যাল ব্যবহার ও ওজনে কারচূপির অভিযোগে, মেসার্স আজাদ ফুড নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।#
পার্সটুডে/বাদশাহ রহমান/আশরাফুর রহমান/৩০