বাংলাদেশে জনপ্রিয়তা বাড়ছে অনলাইনে ভাগে কোরবানির: শতভাগ শরিয়াসম্মত নয়
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i124872-বাংলাদেশে_জনপ্রিয়তা_বাড়ছে_অনলাইনে_ভাগে_কোরবানির_শতভাগ_শরিয়াসম্মত_নয়
বাংলাদেশে দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে অনলাইনে ভাগে কোরবানি দেয়ার রীতি। বিশেষ করে শহর অঞ্চলের ব্যস্ততম বাসিন্দারা পশু কেনা, নিয়ে আসা কিংবা জবাই করার ঝামেলা এড়াতে ঝুঁকছেন এই অনলাইনে ভাগের কোরবানিতে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ২৭, ২০২৩ ১২:২৮ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে অনলাইনে ভাগে কোরবানি দেয়ার রীতি। বিশেষ করে শহর অঞ্চলের ব্যস্ততম বাসিন্দারা পশু কেনা, নিয়ে আসা কিংবা জবাই করার ঝামেলা এড়াতে ঝুঁকছেন এই অনলাইনে ভাগের কোরবানিতে।

পশুর দাম বেড়ে যাওয়ায় একা কোরবানি দেওয়াও বেশ জটিল হয়ে উঠেছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্তদের জন্যও। শহরে ঠিকঠাক অংশীদার মেলানো, পশু কেনা, রক্ষণাবেক্ষণ, কোরবানির মাংস ব্যবস্থাপনা, সবকিছু বড় মুশকিলের কাজ। এ সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ শুরু করেছে দেশের কয়েকটি অনলাইন প্লাটফর্ম। তারা ভাগে কোরবানি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

অর্থাৎ অনলাইনে পছন্দের পশু বুকিং দিয়ে এর ভাগের অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করলেই ক্রেতার ঠিকানায় পশু কোরবানি করে নির্দিষ্ট সময়ে মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ভাগের দাম নির্ধারিত রাখে। একজন কোরবানিদাতা একাধিক ভাগও নিতে পারেন। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলো পশু জবাই করে ভাগদাতার মাংস বাসায় কিংবা কাছাকাছি আউটলেটে সরবরাহ করে। ।

ভাগে কোরবানির এ বছর নতুন নয়। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বেশ কয়েক বছর থেকে এ আয়োজন করে আসছে, এ বছরে যার জনপ্রিয়তা বেড়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আয়োজিত অনলাইন পশুর হাট ডিজিটাল হাটও এবার কোরবানি পশুর ফুল প্রসেস সেবা দিচ্ছে। এ উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ও এটুআই। এখানে আবার অনেক ক্রেতা নিজেরা সংগঠিত হয়ে একসঙ্গে ৭ বা ৫ নাম পাঠিয়ে গরুর মূল্য, কসাই খরচ ও সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করে ভাগে কোরবানি দিচ্ছে। এতে ডিজিটাল হাট কোরবানিসহ মাংস প্রসেস করে দেবে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, ইসলামি রীতিতে এই পদ্ধতি কতখানি শরিয়ত সম্মত ? এ বিষয়ে ঢাকার জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ এর সিনিয়র সহকারী মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম বলেন, এটা নতুন পদ্ধতি, মৌলিকভাবে এতে তেমন কোন সমস্যা নাই। কারণ ইবাদত পালন নিশ্চিত করার জন্য সঠিকভাবে পালন করার শর্তে যদি সহজ করা হয় তাতে সমস্যা নাই। তবে ইবাদত সঠিকভাবে পালন করতে হবে। তবে এসব অনলাইন প্রক্রিয়ায় শতভাগ শরিয়ার বিধান মেনে করা হয়না, থাকে অনেক অষ্পষ্টতা। তিনি বলেন, শরিয়া পালন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলে তো কোরবানিই কবুল হবে না। তাই এই পদ্ধতিকে একবাক্যে সঠিক বলে মানতে নারাজ মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম।

এদিকে, বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা লুৎফর রহমান বলেন, যে কোনো ব্যবসা হালাল। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনলাইন ভিত্তিক বেশিরভাগ ব্যবসাতেই ভোক্তা কিংবা ক্রেতাকে ঠকানোর অনেক প্রমাণিত ঘটনা আলোচিত হয়েছে। এমন অবস্থায় কোরবানির মত ইসলামের এতবড় একটি আল্লাহর বিধান অনলাইনে পুরোপুরি শরিয়া সম্মতভাবে করা সম্ভব না বলেই মনে করেন মাওলানা লুৎফর রহমান। যুগের চাহিদায় সব কিছুর পরিবর্তন হলেও ইসলামের মৌলিক বিধানের সহজীকরণ কোনভাবেই মেনে নেয়ার মত না, কারণ এতে করে আল্লাহর আদেশ ও নবীর সুন্নত ত্বরিকার খেলাপ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি। #

পার্সটুডে/বাদশা রহমান/জিএআর/২৭