জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে, সুপ্তবীজ থাকার সংশয় ডিএমপি কমিশনারের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i125032-জঙ্গিবাদ_নিয়ন্ত্রণে_সুপ্তবীজ_থাকার_সংশয়_ডিএমপি_কমিশনারের
বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ শেষ হয়ে যায়নি, নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবী করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। তিনি বলেছেন, জঙ্গিদের বীজ এখনো সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে। তাদের নির্মূলে সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুলাই ০১, ২০২৩ ১৪:৫৯ Asia/Dhaka

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ শেষ হয়ে যায়নি, নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবী করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। তিনি বলেছেন, জঙ্গিদের বীজ এখনো সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে। তাদের নির্মূলে সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলায় শহীদ দুই পুলিশ সদস্যের ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। পুলিশ কমিশনার বলেন, জেএমবি, নব্য জেএমবিসহ জঙ্গিবাদের শীর্ষ দলগুলো না থাকলেও  জঙ্গিবাদের সুপ্ত বীজ লুকিয়ে থাকতে পারে।  এরই মধ্যে নতুন কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন তৈরির চেষ্টা করছিল কিছু বিপথগামী মানুষ। যাদের ডাকে অনেক তরুণ হিজরত করেছিল, পাহাড়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। তবে পুলিশ র্যা বের অভিযানে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবার অনেকে ভুল বুঝতে পেরে আত্মসমর্পণও করেছেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, দেশে আর কোন জঙ্গি সংগঠন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। তারা যে নামেই আসুক না কেন তারা বাংলাদেশ স্থান পাবে না। তিনি আরও বলেন, হলি আর্টিজান হামলায় বিদেশিসহ মোট ২২ জন নিহত হন। এই ঘটনায় সিটিটিসি তদন্ত করে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। যদিও এ ঘটনার অনেক অভিযুক্ত বিভিন্ন সময় জঙ্গি হামলা করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে মারা যান। বাকিদের সাজা হয়ে গেছে। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ এখন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে দাবী করে পুলিশ কমিশনার বলেন,  ভবিষ্যতেও জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ ধরে রাখতে পারবো সবার সহযোগিতায়। সমস্ত উন্নয়ন সহযোগীদের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ জঙ্গি দমন করেছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

Image Caption

তিনি বলেন, আজ থেকে ৭ বছর আগে ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই হলি আর্টিজানে বিদেশি নাগরিকদের অতর্কিতভাবে জঙ্গিদের জিম্মি ও তাদের হত্যা করা হয়। এ সময় তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে দুইজন সিনিয়র পুলিশ সদস্য শহীদ হন। আজকেও এটা দগ্ধ ঘায়ের মতো জ্বলে। দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক চক্রান্তে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করতে বিগত ২০১৫-১৬ সালে বিভিন্ন জঙ্গি হামলা ঘটানো হয়। হলি আর্টিজান হামলার পর আমাদের উন্নয়ন সহযোগীরা উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে ভয়ে দেশ ছেড়ে চলে যেতে থাকে।  তবে জঙ্গি দমন করে পরিস্থিতি আবারো স্বাভাবিক অবস্থায় আনা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।

শনিবার সকালে গুলশানে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত কূটনীতিকরা। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।কূটনীতিকদের মধ্যে প্রথমে ভারতের হাইকমিশনার প্রনয় ভার্মা হোলি আর্টিজানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তারপর জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি নিহতদের স্মরণ করে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারপরই ইতালি, আমেরিকা ও জাইকার প্রতিনিধিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফুল দেওয়ার সময় তারা সবাই কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এদিকে, আলোচিত হলি আর্টিজান মামলার শুনানি শুরু করেছেন হাইকোর্টের নির্ধারিত বেঞ্চ। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি জুলাই মাসেই  নৃশংস এই হামলার ঘটনায় করা মামলায় হাইকোর্টের শুনানি শেষ হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর শুনানিতে সব জঙ্গির একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও প্রত্যাশা রাষ্ট্রপক্ষের।

সামগ্রীক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেশের জঙ্গিবাদ সম্পর্কে অপরাধ বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.তৌহিদুল হক মনে করেন, জঙ্গিবাদের মূল উৎস সমাজ থেকে সরাতে হলে ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, মানবিক মূল্যবোধ সম্পর্কে পারিবারিক আদর্শিক বিষয়গুলোকে আগের মত করে ফিরিয়ে আনতে হবে। ধর্ম সম্পর্কে ভুল ও অপব্যাখ্যা বন্ধ করতে হবে। আর জঙ্গিবাদ নির্মূলে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের পদ্ধতিগত যে ঘাটতি তা দ্রুত কমিয়ে আনতে হবে। নইলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে জঙ্গিদমন সম্ভব হবে না। 

উল্লেখ্য,২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সূত্রপাত। মুহূর্তেই যার খবর ছড়িয়ে পড়েছিল বাংলাদেশসহ সমগ্র বিশ্বে। সেদিন জঙ্গিদের হামলায় বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হয়েছিলেন পুলিশের দুই কর্মকর্তা।পরে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে আক্রমণকারী জঙ্গিরাও সবাই নিহত হয়েছিল। পরে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ।#

পার্সটুডে/বাদশাহ রহমান/ বাবুল আখতার/১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।