লাভ-ক্ষতির অংকে রুপির এলসি ও ডেবিট কার্ড
রুপির লেনদেন, ডি ডলারাইজেশনের ইঙ্গিত না বিনিময় লোকসান সাশ্রয়?
পৃথিবীর বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশগুলোতে ডিডলারাইজেশনের আলোচনা শুরু হয়েছে বেশ জোরেশোরেই। এমনই একসময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের লেনদেন রুপিতে শুরু করলো দেশ দুটি।
এ অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রুপিতে লেনদেন শুরু হওয়ায় লাভ-ক্ষতির অংক কষতে শুরু করেছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও বাংলাদেশ যে পরিমাণ ভারতীয় রুপি রপ্তানির মাধ্যমে পাবে সেটাই আমদানিতে ব্যবহার করতে পারবে। এতে উভয় দেশই লাভবান হবে এমন আলোচনা চলমান। এর বাইরে টাকা-রুপি ভিত্তিক ডেবিট কার্ডও চালু হচ্ছে। এটা উভয় দেশে ব্যবহার করা যাবে। ফলে প্রতি বছর কমবেশি ২৫ লাখ নাগরিক চিকিৎসা ও ভ্রমণসহ নানা কাজে ভারতে যান, তারাও সরাসরি রুপি ব্যবহার করতে পারবেন। সরাসরি টাকা-রুপির ডেবিট কার্ডের ফলে ৬ শতাংশ বিনিময় লোকসান সাশ্রয় হবে বলেও জানিয়েছেন অর্থনৈতিক বোদ্ধারা।
এখানে বলে রাখা ভাল যে বাংলাদেশ প্রতি বছর ভারতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। আমদানি করে ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। বাংলাদেশ ওই দুই বিলিয়ন ডলারের সম পরিমাণ রুপি এখন চাইলে সরাসরি পাবে। ওই রুপি আবার ভারত থেকে সরাসরি আমদানিতে ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু বাকি আমদানিতে ডলারই ব্যবহার করতে হবে। তবে একইভাবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এখনই টাকায় লেনদেন শুরু হচ্ছে না। সেটা হলে বাংলাদেশের বেশি সুবিধা হতো।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এই রুপিতে লেনদেনের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের চারটি ব্যাংক অনুমোদন পেয়েছে। বাংলাদেশের দুইটি সোনালী এবং ইস্টার্ন ব্যাংক। আর ভারতের দুইটি স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং আইসিআইসিআই ব্যাংক। একাউন্ট খুললেই রুপিতে লেনদেন করা যাবে।
এ প্রসঙ্গে যমুনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)র সাবেক সভাপতি মো. নুরুল আমিন জানান, এতে যে যেটুকু রপ্তানি হবে সেটুকুর বিনিময়ে রুপি পাওয়া যাবে। সেটা দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি ব্যয় শোধ করতে পারবে বাংলাদেশ। ফলে ওই পরিমাণ ডলারের ওপর চাপ কমবে। কারন বাংলাদেশের আমদানি রপ্তানির ভারসাম্য নেই। এটা ভারসাম্যপূর্ণ হলে লাভ বেশি হতো। তবে টাকা-রুপির ডেবিট কার্ডও ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাবে। তবে ভারতীয় রুপি আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাস্কেটে নেই। ইউয়ান আছে।
এদিকে, অর্থনীতিবিশ্লেষক ও সাবেক ব্যাংকার মামুন রশীদ মনে করেন, প্রথম প্রথম রুপিতে লেনদেন খুব বেশি লেনদেন হবেনা। কারন যারা শুধু আমদানী করে কিংবা যারা শুধু রপ্তানী করেন তারা রুপি বিনিময়ে রাজি হবেন না। শুধু ভারতের সঙ্গে যার আমদানি ও রপ্তানি দুটি ব্যবসা আছে সে রুপি মেনে নিবেন। এটা সর্বোচ্চ দুই মিলিয়ন ডলার হতে পারে। তাই এখনই পুরো লাভ ক্ষতির হিসেব মেলানো অনেকটা কঠিন বলেই মনে করেন এই অর্থনীতির বিশ্লেষক। #
পার্সটুডে/বাদশা রহমান/বাবুল আখতার/২৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।