গুপ্তহত্যা ও বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনা অব্যাহত; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
ঝিনাইদহে পুরোহিত হত্যার পর এবার সেবায়েত হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার উত্তর কাস্টসাগরা গ্রামের শ্রী শ্রী রাধামদন গোপাল মঠের সেবায়েত শ্যামানন্দ দাসকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
ভোরে মন্দিরের পাশে পূজার জন্য ফুল কুড়ানোর সময়, মোটরসাইকেল যোগে আসা তিন দুর্বৃত্ত তাকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসী শ্যামানন্দকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর আগে, গত ৭ জুন ঝিনাইদহের মহিষাডাঙ্গা ভাগাড় এলাকায় পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলীকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
আজকে ঝালকাঠি সদরের দাড়িয়াপুর গ্রামে মহসিন হাওলাদার নামের মসজিদের এক মুয়াজ্জিনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে একটি ঝোপের মধ্য থেকে মহসিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, আটকের ১৫ দিন পর ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেতুলবাড়িয়া এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতা নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক কলেজের সাবেক শিবির নেতা আনিসুর রহমান ও বর্তমান শিবির নেতা শহিদ আল মাহমুদ।
একদিকে গুপ্তহত্যা অন্যদিকে বিচার বর্হিভূত হত্যা। আইনশৃঙখলাবাহিনীর কঠোর নজরদারির পরও এমন ঘটনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙখলা পরিস্থিতি নিয়েই আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। এ প্রসঙ্গে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ড. ফয়জুল হাকিম লালা বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি শাসক শ্রেণির বিষাক্ত রাজনীতির কবলে পড়েছে। আর দেশি-বিদেশি চক্র সে সুযোগটাই নিচ্ছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অনেকেই ফায়দা নিতে চাচ্ছে। এজন্য সরকারই দায়ী কারণ, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনের কারণটা হলো রাজনীতি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যা কিংবা ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন তরিকার অনুসারীদের হত্যা-সবগুলোই একই সূত্রে গাঁথা। কোনটাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, নানামুখী ষড়যন্ত্রের অংশ। আর নানা সময়ে ক্রসফায়ার হচ্ছে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দায়ীদের চিহ্নিত করা ও বিচারের মুখোমুখী করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ক্রসফায়ার কোনভাবেই সমস্যার সমাধান নয় বলে জানান তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক, সুজনের ঝিনাইদহ জেলার সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন জুলিয়াস বলেন, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা। এ নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।#
পার্সটুডে/শামস মন্ডল/রেজওয়ান হোসেন/১