দেশ যখন এগিয়ে যায় তখন আঘাত আসে: প্রধানমন্ত্রী
-
শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু:খ করে বলেছেন, আমাদের দুর্ভাগ্য হল, দেশ যখন এগিয়ে যায় মানুষ যখন খুব আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়, ঠিক সেসময় জানিনা কেন যেন আমাদের ওপর এক একটা আঘাত চলে আসে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ(শনিবার) সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক এবং জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়ক দু’টি চারলেন মহাসড়কের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।
গতরাতে গুলশানের একটি রেষ্টুরেন্ট রুদ্ধশ্বাস জিম্মী পরিস্থিতি সফলভাবে শেষ করে ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ৬ সন্ত্রাসীর লাশ এবং একজনকে গ্রেফতারের ঘটনায়, প্রধানমন্ত্রী সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী,পুলিশ,র্যাব,বিজিবিসহ সকল আইনশৃন্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অভিনন্দন জানান।
বেসরকারী টিভি চ্যানেলগুলোতে এ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারের ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে সব চ্যানেল এগুলো দেখায়, তারা কি একবার চিন্তা করে না যে, যে সন্ত্রাসীরা মানুষগুলোকে জিম্মী করে রেখেছে তরাওতো এগুলো দেখছে। এগুলো দেখার মধ্য দিয়ে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ কি নেবে সেটাও তারা ঠিক করে ফেলছে। অভিযানের সবকিছুই টেলিভিশনে প্রচার হলে তা জঙ্গিদের কাছেও ফাঁস হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, আমরা বাধ্য হয়েছিলাম-ঐ এলাকার ইন্টারনেট, ক্যাবল লাইন,ভাইবার, ওয়েব- সব সংযোগ বন্ধ করে দিতে। টিভি চ্যানেলগুলোকে অনেক রিকোয়েস্ট করে তাদের সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ করাতে।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন-‘ কিছু কিছু টেলিভিশনতো শুনতেই চায় না (সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের অনুরোধ),..কারা কারা শুনতে চায়না সেটা আমার খেয়াল আছে। আমি এটা ভবিষ্যতে দেখব।’
শেখ হাসিনা বলেন,‘এই প্রাইভেট টিভি চ্যানেল আমার হাতে দেয়া, আমি দিতেও যেমন পারি, নিতেও তেমন পারি। ’
তিনি আরও বলেন,‘ আমার কাজে যারা বাধা দেবে সেটা কখন ও সহ্য করা হবে না। কাজেই ভবিষ্যতে আমি বলব,সতর্ক হবার জন্য। কারণ এটা একটা ছেলে খেলা না।..তারপর ঘটনার অলোচনা। কি হল না হল বলতে গিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত করা, কেন ? আমরা এই অপারেশেনটা সফল করতে পেরেছিলাম কারণ আমরা কল সংযোগ বন্ধ করতে পেরিছিলাম। ঐ এলাকার ৪ কিলোমিটারের মধ্যে কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। পুরো এলাকাটা সিল করে এই কমান্ড অপারেশনটা হয়। যে কারণে আমরা এটা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি। অন্তত কিছু লোক আমরা বাঁচাতে পেরেছি আর সন্ত্রাসীদের খতম করতে পেরেছি। সুতরাং এ ধরনের ঘটনা যেন ভবিষ্যতে না ঘটে আমরা সেটাই চাই। বরং বিভিন্ন টেলিভিশন, রেডিও,মিডিয়া সোশ্যাল মিডিয়া সবাইকে আমি এটাই বলব- সন্ত্রাসের পথ যেন মানুষ পরিহার করে। প্রয়োজনে সেই প্রচারটা যেন ভাল ভাবে করা হয়। সন্ত্রাসের খারাপ দিকটা প্রচার করেন, যেন ছেলে-মেয়েরা এদিকে না যায়।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/২