জঙ্গিবাদ দমনে কঠোরভাবে কাজ করতে জেলা প্রশাসকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসিদের সম্মেলনে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সমাজ জীবনে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আরও সতর্কতার সঙ্গে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনে জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ(মঙ্গলবার) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি)দের চার দিনব্যাপী সম্মেলন উদ্বোধনকালে শেখ হাসিনা এ আহ্বান জানান।
সম্মেলনে অংশ নেয়া ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও ৮ বিভাগীয় কমিশনারকে ১৯ দফা কাজের দিক-নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি সেবা গ্রহণে সাধারণ মানুষ যাতে কোনভাবেই হয়রানি বা বঞ্চনার শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা দূর করে সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আরও সতর্কতার সঙ্গে এবং কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি প্রতিবন্ধী এবং পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাচার, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, যৌতুক, ইভটিজিং এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে পরিত্রাণের জন্য দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে।
একইসাথে, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে ব্রতী হতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে নেতৃত্ব প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকদের আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার সকল স্তরে নারীশিক্ষার হার বৃদ্ধি, ছাত্র-ছাত্রীদের বিদ্যালয় ত্যাগের হার হ্রাস এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমি প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ভূমি রক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
এ ছাড়া,কৃষি-উৎপাদন বৃদ্ধিতে সার, বীজ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ইত্যাদির সরবরাহ নির্বিঘ্ন করা; পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনাকে জনপ্রিয় করা এবং ভেজাল খাদ্যদ্রব্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করারও নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী্।
শিল্পাঞ্চলে শান্তি রক্ষা, পণ্য পরিবহন ও আমদানি-রফতানি নির্বিঘ্ন করা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্তি ও সন্ত্রাস নির্মূল করার ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোক্তা অধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে এবং বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির যে কোন অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, কঠোরভাবে মাদক ব্যবসা, মাদক চোরাচালান এবং এর অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পার্বত্য জেলাগুলোর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, বনাঞ্চল, নদী-জলাশয়, প্রাণিসম্পদ এবং গিরিশৃঙ্গগুলোর সৌন্দর্য সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া, পর্যটনশিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্পের বিকাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনপ্রসাশন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। সূচনা বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রতিনিধিদের মধ্যে বক্তৃতা করেন- চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মেজবাহ উদ্দিন, রাজবাড়ি জেলা প্রশাসক বেগম জিনাত আরা, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার হেলাল উদ্দিন আহমদ।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/গাজী আবদুর রশীদ/২৬