জঙ্গিরা কিভাবে ভাবল মানুষ খুন করে বেহেশতে যাবে: শেখ হাসিনার প্রশ্ন
-
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “ইসলাম ধর্ম শান্তির ও সৌহার্দ্যের বাণী নিয়ে এসেছে। কিন্তু কিছু মুষ্ঠিমেয় মানুষ এই পবিত্র ধর্মকে বিশ্বের কাছে ছোট করেছে। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসলামকে জঙ্গিবাদী বললে আমি সবসময় প্রতিবাদ করতাম। কিছু মানুষের জন্য আমার পবিত্র ধর্মকে দোষ দেয়া যাবে না। কিন্তু মুষ্ঠিমেয় লোকের জন্য এখন সে মুখ আর নেই।” তিনি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দিতে উলামাদের প্রতি আহ্বান।
আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে 'ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং আমাদের করণীয়' শীর্ষক ওলামা সম্মেলনে উলামা সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পবিত্র কুরআন শরীফে সন্ত্রাস ও অশান্তির বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছে। সেখানে জঙ্গিরা কিভাবে ভাবল মানুষ খুন করে বেহেশতে যাবে? যারা মানুষ খুন করে ধর্মে বিশ্বাসী নয়, মানবতায় বিশ্বাসী নয়। তাদের স্থান বেহেশতে তো নয়ই হয়ত জাহান্নামে হবে।”
তিনি বলেন, যথাযথ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অভাবেই দেশের তরুণরা বিপদগামী হচ্ছে। তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে সঠিক সাংস্কৃতিক চর্চায় আনতে হবে। এসব তরুণকে সঠিক পথে আনতে সৌদি সরকারের সহায়তায় দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, “পৃথিবীর সবচেয়ে মানবিক ও উদার ধর্ম হলো ইসলাম। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখ লাগে তখন, যখন সামান্য কিছু লোক এই ধর্মকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। যখনই কেউ ইসলামিক টেরোরিস্ট বলে, আমি সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করি। সন্ত্রাসী কোনো ধর্মের হতে পারে না। সামান্য কয়েকটা লোক ইসলামকে হেয় করতে পারে না।“
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উলামাদের প্রতি আমি আহ্বান জানাব আপনারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে শিক্ষা দিন। সবাই যাতে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক শিক্ষা পায় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা ভালো খবর যে, সারাদেশব্যাপী জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি হয়েছে। ইসলাম ধর্মকে খাটো করা যাবে না।”
উলামাদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, “ইসলামের দৃষ্টিতে জঙ্গিবাদ কী ও আমাদের কী করণীর এ সম্পর্কে আমাদের করণীয় নিয়ে যে ফতোয়া দিয়েছেন সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ। এর মাধ্যমে আপনারা কুরআন ও হাদীসের বক্তব্য জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। এটা মহান কাজ। কেননা, এতে ধর্মের প্রতি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা অটুট থাকবে। এভাবে ইসলামের মান ও সম্মান ফিরে আসবে বলে আমি আশা করি।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন সময়ে গ্রেনেড হামলা ও হামলা পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বলেছেন, “এই আগস্টে বারবার আঘাত এসেছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে, যিনি এ দেশের বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ডের ক’দিন আগে স্বামীর কর্মস্থলে চলে গিয়েছিলাম বলে আমরা দু’বোন রক্ষা পেয়ে যাই। মানুষ এতো শোক সইতে পারে না, আল্লাহ আমাদের সে শোক সইবার শক্তি দিয়েছেন। তারপর ১৩টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে বলে আমি রক্ষা পেয়ে যাই। আল্লাহর ইশারা না থাকলে এভাবে রক্ষা পাওয়া যায় না। ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পেতে রাখা হয়েছিল। একজন চা দোকানদার সেটা উদ্ধার করেছেন। এটাও আল্লাহর রহমত ছাড়া হতো না।”
সম্মেলনে আরও বক্তৃতা করেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদ জামাতের প্রধান ইমাম আল্লামা ফরিদউদ্দীন মাসউদ।#
পার্সটুডে/এআর/১১