পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান আওয়ামী লীগের
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i19318-পাকিস্তানের_সঙ্গে_কূটনৈতিক_সম্পর্ক_পুনর্মূল্যায়নের_আহ্বান_আওয়ামী_লীগের
পাকিস্তানের সঙ্গে বিরাজমান বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
সেপ্টেম্বর ০৫, ২০১৬ ১৬:০৫ Asia/Dhaka

পাকিস্তানের সঙ্গে বিরাজমান বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়ন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

আজ (সোমবার) দুপুরে শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেছেন, সরকারের উচিত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

মীর কাসেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকর করায় পাকিস্তানের দেয়া বিবৃতির তীব্র সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, "আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবেন না। আপনাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর ক্ষমতা আমাদেরও রয়েছে।"

পাকিস্তানকে জঙ্গিদের বংশ বিস্তারের দেশ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের জন্য মায়াকান্না না করে যাদেরকে আপনাদের লোক মনে করেন তাদেরকে আপনাদের দেশে নিয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের সন্তানদের তার দলের কেন্দ্রীয় নেতা বানিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

এদিকে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় পাকিস্তানের পর তুরস্কও মর্মাহত হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'আমরা (তুরস্ক) দুঃখের সঙ্গে জানতে পেরেছি যে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের জারি করা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি যে, এ পদ্ধতিতে অতীতের ক্ষত সারানো যাবে না এবং আমরা মনে করি, এভাবে ফাঁসি দেয়ার ঘটনা বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের মধ্যে বিভেদ বাড়াবে।'

ওদিকে, আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তুরস্কের মন্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। ঢাকায় তুর্কি দূতাবাসকে দেয়া এক চিঠিতে বলা হয়, মীর কাসেমের ফাঁসির ঘটনায় তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া বিবৃতি অনাকাঙ্ক্ষিত।

শনিবার রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এরপরই বিবৃতি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১'র ডিসেম্বরের আগে সংঘটিত 'কথিত' অপরাধের অভিযোগে 'ত্রুটিপূর্ণ বিচার' প্রক্রিয়ায় মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করায় পাকিস্তান গভীরভাবে মর্মাহত। বিবৃতিতে মীর কাসেমের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনাও জানানো হয়েছে।

পাকিস্তানের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির অংশ হিসেবে ক্ষমাশীলতার পদক্ষেপ হিসেবে বাংলাদেশ বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়ে না নিতে রাজি হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে সেই অঙ্গীকার সমুন্নত রাখা উচিত।

পাকিস্তানের বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার সামিনা মেহতাবকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে ব্যাখ্যা দাবি করে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামরুল হাসান তার দপ্তরে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে লিখিত প্রতিবাদলিপি দিয়েছেন। এতে  সাফ জানিয়ে দেয়া হয়,  একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই বিচার নিয়ে পাকিস্তানের  মতামত দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম পাকিস্তানের বিবৃতিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও ফোরামের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) কে এম সফিউল্লাহ বীর উত্তম, ভাইস-চেয়ারম্যান সেক্টর কমান্ডার লে. কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং মহাসচিব সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব আজ এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানের এ ধরনের আচরণ অযাচিত ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ।

তারা বলেন, "আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি যে, মানবতাবিরোধী অপরাধে মীর কাসেমসহ এ পর্যন্ত যে ছয়জন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, প্রত্যেকটি দণ্ড কার্যকরের পর পাকিস্তান সরকার অযাচিতভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আসছে।"

তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশের জাতীয় দায়বদ্ধতা এবং একান্তই নিজস্ব বিষয়। কাজেই এই বিচার নিয়ে পাকিস্তান যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে আসছে তা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।

তারা পাকিস্তানের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে ১৯৫ জন পাকিস্তানি যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।#

পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান/৫