নির্বাচন কমিশন নিয়ে অহেতুক বিতর্ক করবেন না: বিএনপির প্রতি সৈয়দ আশরাফ
-
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম
বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসনমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নির্বাচন কমিশনসহ সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কমুক্ত রাখতে বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের এক যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘অহেতুক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে যদি বিতর্ক করি তাহলে সভ্যতা থাকবে না, আইন থাকবে না, এ দেশে তাহলে গণতন্ত্র থাকবে কি ভাবে।’
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আমরা যদি হাইকোর্টকে বিতর্কিত করি, সুপ্রিম কোর্টকে বিতর্কিত করি, নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করি, তাহলে আমরা যাব কোথায়? আমরা যদি সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করি তাহলে সভ্যতা থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বিষয়টি নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করেন। অতএব তিনি যে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন সেটাই হবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। এই ইনস্টিটিউশনকে বিতর্কিত করলে আমাদের মাথা ঠেকানোর জায়গা থাকবে কোথায়? তাই এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে খতে হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, 'সার্চ কমিটি করেন, আর যাই করেন, জনমতের বাইরে গিয়ে কোনো কমিটি এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।' এর জবাবে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত গণসংবর্ধনা দেয়া হবে। এই গণসংবর্ধনা সফল করতে আওয়ামী লীগের এ যৌথ সভার আয়োজন করা হয়।
ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুর, গাজীপুর মহানগর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ জেলা, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সংশ্লিষ্ট জেলার দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্যগন এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ থেকে দুটি পুরস্কার পেয়েছেন। একটি নারীদের অধিকার রক্ষায়, অন্যটি পরিবর্তনের জন্য। প্রধানমন্ত্রী সব সময় নারী-শিশুদের অধিকারের বিষয়ে সোচ্চার থাকেন। আগে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর কোনো মুখপাত্র ছিল না। শেখ হাসিনা এখন এমন দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলেন। তিনি যা সত্য, তা–ই বলেন। তিনি ভয়হীন। প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কোনো দাবি তুলে ধরলে তা বাতিল হয়ে যায় না। কেননা তিনি যুক্তি দিয়ে দাবি তোলেন। ফলে অন্য দেশগুলো তাতে সমর্থন দেন।’
সৈয়দ আশরাফ বলেন, বাংলাদেশ এখন আর ১০ বছর আগের অবস্থানে নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের ওপর চলে গেছে।#
পার্সটুডে/আবদুর রহমান খান/আশরাফুর রহমান