ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হব: শেখ হাসিনা
-
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কোনোভাবেই যুদ্ধ-বিগ্রহ কাম্য নয়। তাদের মধ্যে যুদ্ধ হলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হব।” তিনি বলেন, “এ অঞ্চলে কোনো সংঘাত হোক তা চাই না। তাই কীভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে একটি উপায় বের করতে হবে।”
আজ (রোববার) বিকেলে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান, কানাডা সফর, দুটি পুরস্কার গ্রহণ, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া, বিভিন্ন সেমিনারে বক্তব্য দেয়াসহ ১৭ দিনের সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি এ সফরকে ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলে মন্তব্য করেন।
‘পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চলবে, ঝগড়াঝাঁটিও চলবে’
লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রথম প্রশ্ন ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের নানা মন্তব্যের পর দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না? জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “দুটি দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে। মতভিন্নতাও থাকতে পারে। মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি পাকিস্তান, তাই তারা তাদের পেয়ারা বান্দাদের জন্য কাঁদছে। কিন্তু আমরা তো বিচার বন্ধ করিনি। বিচার চলছে। পাকিস্তান মন্তব্য করছে, আমরা এর জবাব দিচ্ছি। দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চলবে, ঝগড়াঝাঁটিও চলবে।”
'সার্কের বিষয়ে একক মন্তব্য না করাই ভালো'
সার্ক থাকার দরকার আছে কি না এবং পাকিস্তানকে বাদ নিয়ে বিকল্প কিছু করার কোনো চিন্তা বাংলাদেশের আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে সময় লাগে। দক্ষিণ এশিয়ায় সার্ক গড়ে উঠেছে। সার্ক থাকবে কিনা সে বিষয়ে একক মতামত না দেয়াই ভালো। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ থাকা উচিত। কীভাবে এ অঞ্চলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা যায় সে বিষয়ে একটি উপায় বের করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “৭টি দেশের মধ্যে ৪টি দেশ পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়েছে। এ ব্যাপারে তাঁর এককভাবে বলার কিছু নেই, সেটা উচিতও হবে না। সার্কের চেয়ারপারসন এখন নেপাল। বাংলাদেশ চেয়ারপারসন নয়। এ সিদ্ধান্ত সবাই মিলে নিতে হবে -সার্কের কী হবে।”
নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপির পরামর্শ প্রসঙ্গে
নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপির আগ্রহের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান কী হবে-জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিএনপি কী ধরনের নির্বাচন কমিশন চায়। তারা কী এমন কমিশন চায়, যারা এক কোটির বেশি ভুয়া ভোটার তালিকায় আনবে? বর্তমান কমিশন তো এটা করে নি। তাদের (বিএনপি) পরামর্শ নিলে তো ভুয়া ভোটার তালিকা করে দেবে এমন কমিশন করতে হবে।”
‘জিয়াউর রহমান যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বানান’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পরই আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করে। কিন্তু জিয়াউর রহমান এসে ওই বিচার বন্ধ করে দেন। বন্দীদের ছেড়ে দেন। যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বানান।
শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া সরকারে এসে রাজাকার আলবদরদের মন্ত্রী বানিয়েছেন। যারা রাজাকার আলবদরদের মন্ত্রী বানিয়েছেন তাদের এদেশে রাজনীতি করার অধিকার আছে কিনা ভেবে দেখতে হবে। তাদের সঙ্গে জনগণ সম্পর্ক ছিন্ন করবে কিনা সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে পাকিস্তান স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তাদের সঙ্গে মতভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা ঠিক হবে না। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে তারা কি বলল আর না বলল তাতে কিছু যায় আসে না।
'আওয়ামী লীগ চাইলে নেতৃত্ব ছেড়ে দেব'
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, "৩৫ বছর ধরে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছি। এটা অনেক লম্বা সময়। এখন দল যদি নতুন নেতৃত্ব বেছে নিয়ে আমাকে অবসরে যাওয়ার সুযোগ দেয়, তাহলে আমি খুব খুশি হব।" তবে নেতৃত্ব ছেড়ে দিলেও তিনি দলে থাকবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল বিশ্বের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ 'আইসিটি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড' পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।#
পার্সটুডে/এআর/২