তোমাদের মতো আমারও একটি ছোট্ট ভাই ছিল: বিশ্ব শিশু দিবসে প্রধানমন্ত্রী
কোন শিশুই যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় এবং শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি আজ (সোমবার) সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
'বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১৬' উপলক্ষে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘থাকবে শিশু সবার মাঝে ভালো, দেশ-সমাজ, পরিবারে জ্বলবে আশার আলো’ ।
প্রধানমন্ত্রী বিত্তবানদের উদ্দেশে বলেন, "আপনাদের বাড়ির আশপাশে যারা দরিদ্র শিশু আছে তারা কেমন আছে, তার গায়ে কাপড় আছে কি না, তারা পেটভরে খেতে পারছে কি না, সে লেখাপড়া করতে পারছে কি না- তা দেখবেন এবং দয়া করে এইসব শিশুর দিকে একটু নজর দেবেন।"
তিনি শিশুদের ঝরে পড়া রোধে বিদ্যালয়ে শিশু-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও 'মিড ডে মিল' চালুর উল্লেখ করে এই কাজে সরকারের পাশাপাশি স্ব স্ব এলাকার বিত্তবান এবং জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
এ সময় ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র এবং শেখ রাসেলের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তোমাদের মতো আমারও একটি ছোট্ট ভাই ছিল। আমি তোমাদের মাঝে আমার সেই ছোটভাই রাসেলকে খুঁজে ফিরি।"
তিনি শিশুদের উদ্দেশে বলেন, "তোমাদের জন্য জাতির পিতা এই সুন্দর দেশ দিয়ে গেছেন। আমার প্রত্যাশা, তোমরা বড় হয়ে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে তাঁর স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ গড়ে তুলবে। বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাপূর্ণ আসনে তুলে ধরবে।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের শিশুরা যেন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সেজন্য তাঁর সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বইয়ের বোঝা বইতে যেন না হয় সে জন্য সরকার ই-বুক করে দেবে। বাচ্চারা ট্যাব নিয়ে স্কুলে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। কোনো ছেলে-মেয়ে যেন স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে সেদিকে আমরা বিশেষ নজর দিচ্ছি। আমাদের সরকার বই কেনার দায়িত্ব নিয়েছে, দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছে। হাওর এলাকা, পাহাড়ি এলাকায় শিশুদের দূর থেকে স্কুলে আসতে কষ্ট হয়। তাই আবাসিক স্কুল করে দিচ্ছি।"
শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে শিশুদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং আইসিটি ল্যাব প্রতিষ্ঠা, বিদ্যালয়বিহীন প্রতিটি গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপন, প্রাথমিক স্কুল পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালু, দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন, পথশিশু, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া শিশুদের কল্যাণে আর্থিক সহায়তা দেয়া ইত্যাদি সরকারি উদ্যোগের বিবরণ তুলে ধরেন।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ এডওয়ার্ড বেইগবেডার এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম।#
পার্সটুডে/আব্দুর রহমান খান/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৩