কে কোন দল করে সেটা আমি দেখি না, অপরাধীর বিচার হবেই: প্রধানমন্ত্রী
-
সংসদে শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)
সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলাকারীর বিচার নিশ্চিত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “কে কোন দল করে সেটা আমি দেখি না, দেখব না। যে অপরাধী, সে অপরাধী, অপরাধের বিচার হবেই।”
আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে দশম সংসদের দ্বাদশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায়, সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজার ওপর হামলাকারীর বিচার প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
অনেক মানুষের সম্মুখে এমন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছু ঘটনা ঘটে দুঃখজনক। সিলেটে কোপানোর ঘটনাটা আমার কাছে অবাক লেগেছে। যখন কোপায় তখন মানুষ দেখে ছবি তুলেছে, ভিডিও করেছে। কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসলো না। তারা কি পারতো না তাকে বাঁচাতে? তাদের হাতে কি কিছুই ছিল না ওই ছেলেটাকে ধাওয়া করার জন্য। এটি কী ধরনের মানবতা। কেন মানবিক মূল্যবোধ এভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! মানুষের মানবিক মূল্যবোধ কেন এত কমে গেল কেন?”
শেখ হাসিনা আরো বলেন, “কিছু বড় বড় পত্রিকা, কিছু লোক এটিকে দলীয় হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করছে। এটি কোনো রাজনৈতিক বা দলীয় কোন্দল ছিল না। এই ঘটনা সবাই জানে, পত্র-পত্রিকায়ও এসেছে। যা প্রেমঘটিত। প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় এটি করেছে। প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় এভাবে কুপিয়ে মারবে? আমরা দলীয় হিসেবে প্রশ্রয় দেব না। যারা অপরাধী, যেই অপরাধ করুক তাকে শাস্তি পেতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর বলেন, “দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, রায় কার্যকর হচ্ছে। খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী করেছিলেন। যারা যুদ্ধাপরাধ করেছে তাদের বিচার হচ্ছে, শাস্তি হচ্ছে। কিন্তু যারা যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানিয়েছিল এটাও একটা অপরাধ। যারা মন্ত্রী বানিয়েছেন তাদের কী বিচার হবে না? বাংলার মাটিতে তাদের বিচার হবে।”
বিএনপি'র সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আমরা যখন দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি তখন দেখলাম ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঠেকানোর নামে কীভাবে মানুষকে পুড়িয়ে মারা হলো। এখন বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন তাদের বিরুদ্ধে মামলা। কিন্তু যারা মানুষ পুড়িয়ে মারলো, তাদের কী বিচার হবে না। যাদের আগুনে পুড়ে সাধারণ মানুষ মারা গেছে তাদের মা-বাবা আত্মীয়-স্বজন কী বিচার চাইতে পারে না? বাংলার মাটিতে তাদেরও বিচার হবে।”
অধিবেশনের শেষ দিনে জেলা পরিষদ সংশোধন বিল ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন সংশোধন বিল-২০১৬ পাস হয়েছে। আর এ অধিবেশনের ১০ কার্যদিবসে মোট ছয়টি বিল পাস হয়।#
পার্সটুডে/শামস মণ্ডল/আশরাফুর রহমান/৬