ব্রিকস-বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর মেলবন্ধনে শেখ হাসিনার তিন প্রস্তাব
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i23158-ব্রিকস_বিমসটেকের_সদস্য_দেশগুলোর_মেলবন্ধনে_শেখ_হাসিনার_তিন_প্রস্তাব
উঠতি অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর মেলবন্ধনে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
অক্টোবর ১৬, ২০১৬ ১৯:৫২ Asia/Dhaka
  • ব্রিকস-বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর মেলবন্ধনে শেখ হাসিনার তিন প্রস্তাব

উঠতি অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরীয় আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর মেলবন্ধনে তিনটি প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারতের গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক আউটরিচ সামিটের আগে আজ (রোববার) বিকেলে বিমসটেক নেতাদের রিট্রিটে অংশ নিয়ে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। শেখ হাসিনার প্রথম প্রস্তাব- উন্নতমানের অবকাঠামো নির্মাণে যত্নবান হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং তার মধ্য দিয়ে উদ্ভাবনী ক্ষমতার বিকাশ। আর তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি বলেছেন, ব্রিকস ও বিমসটেক অর্থনৈতিক উন্নয়নে পরস্পরের দিকে হাত বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে করে আর্থিক দিক থেকে কম উন্নত দেশগুলো অগ্রগতির সোপানে আসতে পারবে। তিন প্রস্তাবের পাশাপাশি তাঁর সাবধানবাণী—সব প্রচেষ্টাই বিফলে যাবে, যদি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় হাতে হাত মিলিয়ে কাজ না করা যায়।

এসব পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সহযোগিতার জন্য পারস্পরিক সম্ভাব্যতা ও যৌথ কর্মপন্থা নির্ধারণের এটাই সময়। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর সুযোগ-সুবিধার দিকে বিশেষ নজর দিতেও ব্রিকস নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের যাবতীয় টেকসই উন্নয়নের প্রচেষ্টা নির্ভর করছে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপর। সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশে আমরা শূন্য সহনশীলতার (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাসী-জঙ্গি ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদ মোকাবেলায় বিমসটেকের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে আমরা সক্ষম হব।‘

বিমসটেক মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল গঠনের আলোচনা শুরুর পর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার বিষয়টি এ অঞ্চলের নেতাদের আন্তরিকতাকেই প্রশ্নবদ্ধি করে বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কানেকটিভিটি বাড়াতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বিমসটেক। এফটিএ বাস্তবায়নের পক্ষে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করতে হবে। এটা আমাদের আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে এবং বিমসটেকের কার্যক্রম ও কর্মসূচিগুলো জোরদার করবে।

আগামী বছর বিমসটেকের ২০তম বর্ষপূর্তির সময় এফটিএ সংক্রান্ত চারটি চুক্তি গ্রহণের জন্য লক্ষ্য স্থির করার আহ্বান জানান তিনি।

সড়কপথে যোগাযোগ বাড়াতে বিমসটেক ওয়ার্কিং গ্রুপ ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, সংযোগ বাড়াতে আমরা এখন উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি করার কথা বিবেচনা করতে পারি। এখন আমরা চাই, উন্নততর উপ-আঞ্চলিক গ্রিড সংযোগ এবং জ্বালানি বাণিজ্যের বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি ও তার বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে।

থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল এবং শ্রীলংকাকে নিয়ে ১৯৯৭ সালে বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) গঠিত হয়।

শনিবার গোয়ায় শুরু হওয়া অষ্টম ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন এ জোটের সদস্য দেশ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট মিশেল টেমের, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল, শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট আবদল্লাহ ইয়ামিন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সুচি আউটরিচ সামিটে অংশ নিচ্ছেন।#

পার্সটুডে/এআর/১৬