বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় ৪ নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল পাকিস্তানের দালালদের চরম প্রতিশোধ: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, "জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা এবং জাতীয় চার নেতাকে হত্যার ঘটনা ছিল মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দালালদের চরম প্রতিশোধ। পরাজিত শক্তির লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি যেন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায় বাংলাদেশ আর এগোতে না পারে। যাতে আওয়ামী লীগ আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে।"
আজ (বৃহস্পতিবার) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, "এসব হত্যার পর কারা ক্ষমতায় এসেছে? পাকিস্তানের দালালরা এখানে ক্ষমতায় এসেছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের পথ চিনিয়ে গ্রামে গ্রামে নিয়ে গেছে, এ দেশের মা-বোনদের তাদের হাতে তুলে দিয়েছে।"
আওয়ামী লীগ সভাপতি আরো বলেন, খুনি মোশতাক বেঈমানি করেছে, সে মীরজাফর। সেই খুনি মোশতাক ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান বানিয়েছে। পঁচাত্তরের আত্মস্বীকৃত খুনিরা বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছে, জিয়ার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল, ইশারা দিয়েছিল।’
শেখ হাসিনা বলেন, দেশ স্বাধীনের পর অনেক দালাল পাকিস্তানে চলে যায়। সেসব যুদ্ধাপরাধীর ভোটের অধিকার পর্যন্ত ছিল না। জিয়াউর রহমান তাদের আইন ভঙ্গ করে এ দেশে আসার সুযোগ করে দেয়। জামায়াতকে এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা একটা কথায়ই বিশ্বাস করি- আমরা স্বাধীনতা এনেছি। এই স্বাধীনতাকে আমাদের অর্থবহ করতে হবে। জাতির পিতাকে হত্যা করে জাতীয় চারনেতাকে হত্যা করে, হাজার হাজার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে হত্যা করে তারা ভেবেছিল আওয়ামী লীগের নাম-নিশানা মুছে দেবে। কিন্তু এদেশের মাটি ও মানুষের কথা বলার মধ্যদিয়ে আওয়ামী লীগ সংগঠনটা চলে।"
শেখ হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, "এটা কোনো উড়ে এসে জুড়ে বসা অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীর দল নয়, এই দলের শিকড় বাংলার মাটিতে প্রোথিত। এই দল আওয়ামী লীগকে হাজারো ষড়যন্ত্র করেও কেউ কোনোদিন নিশ্চিহ্ন করতে পারে নাই। ইনশাল্লাহ আগামীতেও পারবে না।"
১৯৭৫ সালের বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার কিছুদিন পরই ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় জেলখানায় জাতীয় চার নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অন্যতম চার প্রধান সেনানি তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী ও কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়।#
পার্সটুডে/এআর/৩