আওয়ামী লীগ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল অপারেশন চালাচ্ছে: বিএনপি
https://parstoday.ir/bn/news/bangladesh-i25474-আওয়ামী_লীগ_সংখ্যালঘু_সম্প্রদায়ের_বিরুদ্ধে_সার্জিক্যাল_অপারেশন_চালাচ্ছে_বিএনপি
সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যু্গ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "বিভেদ-বিভাজনের সর্বনাশা নীতি গ্রহণ করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল অপারেশন চালাচ্ছে। এদেশে হিন্দুদের ওপর যত আক্রমণ, সম্পত্তি দখল ও দেবালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য একমাত্র দায়ী আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে।"
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
নভেম্বর ১২, ২০১৬ ১১:৫৮ Asia/Dhaka
  • বিএনপির সিনিয়র যু্গ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী
    বিএনপির সিনিয়র যু্গ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী

সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যু্গ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, "বিভেদ-বিভাজনের সর্বনাশা নীতি গ্রহণ করে আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী জনগণের অবিচ্ছেদ্য অংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল অপারেশন চালাচ্ছে। এদেশে হিন্দুদের ওপর যত আক্রমণ, সম্পত্তি দখল ও দেবালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য একমাত্র দায়ী আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে।"

আজ (শনিবার) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে গত কয়েক বছরে দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার খতিয়ান তুলে ধরে রিজভী বলেন,  "২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী ক্ষমতাসীন দল ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল, সম্ভ্রমের ওপর ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে সাতক্ষীরায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি জবরদখলের মদদ দেয় আওয়ামী লীগ নেতা, লালমনিরহাটে হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার মামলা না নিয়ে উল্টো আটক করা হয় অভিযোগকারীকে, নেত্রকোণার মদনে মন্ডপে পুজা কমিটির ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সংখ্যালঘু পরিবারকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় আওয়ামী ইউপি চেয়ারম্যান, মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা।"

রিজভী আরও বলেন, "২০১৩ সালে মুক্তগাছায় হিন্দু বাড়ীতে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়, সিলেটে মন্দিরে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে এক আওয়ামী লীগ নেতা। একই সালে পাবনার সাথিয়ায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার প্রশ্রয়দাতা হিসেবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে দেশের মানুষ সোচ্চার হয়। এছাড়া ওই বছর অসংখ্য হিন্দুদের এলাকা, বাড়ীঘর, সহায়-সম্পত্তির ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ফরিদপুরে হিন্দুদের জায়গা দখলের প্রতিবাদ করতে গেলে একজন দোর্দণ্ড প্রভাবশালী মন্ত্রীর নির্দেশে প্রবীর শিকদার নামে একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। এছাড়াও কক্সবাজারের উখিয়া, রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরে ব্যাপক হামলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণে তাদের সম্পত্তি দখল, লুটপাট, মঠমন্দির ভাংচুর, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগসহ সকল অপকর্মের হোতা হচ্ছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর আশ্রিত লোকেরা।"

তিনি আরো বলেন, "সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের ঘরবাড়ী ও মন্দিরে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সরকারী-বেসরকারী সকল প্রতিবেদনের ক্ষমতাসীনদের সংশ্লিষ্টতা সুস্পষ্টভাবে উঠে এসে এসেছে। এই ঘটনা যে স্থানীয় এমপি ও মন্ত্রীর কোন্দলের বহি:প্রকাশ সেটি আর কারো জানতে বাকি নেই। মন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানীসহ সারাদেশ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে।" 

রিজভী বলেন, "কয়েকদিন আগে গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লীতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ক্যাডারদের গুলি ও পিটিয়ে চারজন সাঁওতাল আদিবাসীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা কেবল বর্বরোচিত ও অমানবিকই নয়, এটি শাসকগোষ্ঠীর পশুপ্রবৃত্তির এক নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্ট উদাহরণ। আমরা নিহতদের পরিবার পরিজনকে সমবেদনা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের বিচার দাবি করছি।" 

‘জাতীয় বিল্পব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে বিএনপি ঘোষিত সমাবেশের অনুমতি নিয়ে পুলিশের টালবাহানা 'দেশে বিদ্যমান বিকৃত শাসনেরই প্রতিফলন’ বলে মন্তব্য করেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। 

 সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ শাহজাহান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আব্দুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।# 

 
পার্সটুডে/এআর/১২