রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের চিন্তা নেই- কাদের: আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাসঘাতক- ওলামা লীগ
-
ওবায়দুল কাদের- ড. আব্দুর রাজ্জাক
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বা সরকারের কোনো চিন্তা-ভাবনাই নেই। এটি জাতীয় সংসদে মীমাংসিত বিষয়।”
রোববার বিকেলে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নতুন কমিটির কার্যক্রম শুরু উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। এদেশের মানুষ চাইলে একদিন সময়-সুযোগমত সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া হবে।”
এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “হঠাৎ করে কেন এ প্রশ্ন এল, এটা তো জানি না। সম্ভবত এটা তাঁর (আবদুর রাজ্জাক) ব্যক্তিগত মতও হতে পারে। সংবিধান সংশোধন হয়েছে, সংবিধান সংশোধন কমিটি দীর্ঘদিন অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে জাতীয় সংসদে বিষয়টি মীমাংসিত হয়েছে। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। আমাদের সরকার বা দলের সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম পরিবর্তনের কোনো চিন্তাভাবনা নেই।“
এদিকে, ‘সময়-সুযোগ পেলে রাষ্ট্রধর্ম তুলে দেয়া হবে’ ড. আব্দুর রাজ্জাকের এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ওলামা লীগ।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ওলামা লীগ নেতারা বলেছেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমার্জনীয় বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে আব্দুর রাজ্জাক তার বিশ্বাসঘাতকতার চেহারা উন্মোচন করেছে মিডিয়ার কাছে। আলোচনায় তিনি বলেছেন ‘সময়-সুযোগ পেলে রাষ্ট্রধর্ম তুলে দেয়া হবে’ এমন বক্তব্য আওয়ামী লীগের নয়। তবে এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে আব্দুর রাজ্জাক ধর্ম-দেশ ও দলবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছেন।”
নেতারা বলেন, “এ বক্তব্য আব্দুর রাজ্জাকের ব্যক্তিগত অপলাপ। কারণ, আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন পাস করা হবে না। এক্ষেত্রে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির বিপরীতে এই বক্তব্য দিয়ে আব্দুর রাজ্জাক নিজেকে চরম সাম্প্রদায়িক, দেশবিরোধী, দলবিরোধী এবং উগ্রহিন্দু সন্ত্রাসবাদীদের শ্রেণিভুক্ত প্রমাণ করলেন এবং আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি নষ্ট করলেন।”
ওলামা লীগ নেতারা আরো বলেন, “এই আব্দুর রাজ্জাক ৯৫ শতাংশ মুসলমান জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। এই বিতর্কিত আব্দুর রাজ্জাক দুর্নীতির দায়ে মন্ত্রিত্বও হারিয়েছিল। তাছাড়া আদালত কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত এই রাষ্ট্রধর্মের ইস্যু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় তিনি আদালত অবমাননা করেছেন।”
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন আওয়ামী ওলামা লীগের কার্যকরী সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান শেখ শরীয়তপুরী, সহ-সভাপতি হাফেজ মুসতফা চৌধুরী, মুফতি মা’ছুম বিল্লাহ নাফেয়ী ও মাওলানা শোয়াইব আহমদ গোপালগঞ্জী ও হাফেজ মাওলানা আব্দুল জলীল।
তারা আব্দুর রাজ্জাককে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কারসহ রাষ্ট্রধর্ম অবমাননার অভিযোগে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, শনিবার জাতীয় প্রে সক্লাবে একটি গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সংবিধান সংশোধনের পরও রাষ্ট্র ধর্মটাকে একটা কৌশল হিসেবে রেখে দেয়া হয়েছে। সুযোগ পেলেই সংবিধান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সম্পূর্ণরূপে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
‘ইসলাম ধর্ম বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকা উচিত নয়’ বলে মন্তব্য করে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমি বিভিন্ন জায়গায় বলেছি, বিবিসিতে বলেছি, আমি কখনোই বিশ্বাস করি না, ইসলাম ধর্ম বাংলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকা উচিত। এটা আমাদের কৌশল। আমরা সুযোগ পেলে, সময় পেলে ইনশা আল্লাহ এটাকে সংবিধান থেকে তুলে দেব।”
পার্সটুডে/এআর/১৪