নাসিক নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত
-
অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। আজ (মঙ্গলবার) বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
তিনি বলেন, 'স্থানীয় নেতৃবন্দের সাথে আলোচনা করে বিএনপি প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বিএনপি তথা ধানের শীষের প্রার্থী হচ্ছেন অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। দলের সবাইকে তার পক্ষে কাজ করার জন্য কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে।'
এরপর নারায়ণগঞ্জে এক প্রতিক্রিয়ায় সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো তৈরি হয়নি। কিন্তু মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আছে। মানুষ ভোট দিতে চায়। একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের উচিত প্রশাসনে যাঁরা দলীয় কর্মকর্তা আছেন, তাঁদের সরিয়ে নিরপেক্ষদের বসানো। এই প্রশাসন দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না।’
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান ২০১৪ সালের এপ্রিলে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনার বিচার দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি সাত খুন মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবী। রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও বিএনপিতে তার কোনো পদ নেই।
বিএনপির জেলা সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার প্রার্থী হতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার ওয়ার্ড, থানা, জেলা ও নগর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখানে তৃণমূল নেতাদের মতামত নেয়ার পর তাদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি বলেন, দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।
কারও বিরুদ্ধে মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করার অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, 'দেশনেত্রী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জেলার তৃণমূল নেতাদের সাথে বৈঠক করে সকলের মতামত নিয়েছেন। আমি আশা করছি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমরা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারব।'
এর আগে শুক্রবার মেয়র পদে লড়তে ইচ্ছুক নেতা ও জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। ওই বৈঠকে ছিলেন তৈমুর আলম খন্দকার, আবুল কালাম, এটিএম কামাল, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, কাজী মুনির, আজহারুল ইসলাম মান্নান ও আবু আল ইউসুফ খান।
বৈঠকের পর তৈমুর আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, 'আমি ম্যাডামকে বলেছি, এই নির্বাচনে আমি আগ্রহী নই। কারণ নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে নির্বাচনের পরিবেশ নেই।' তবে দল যদি ভোটে থাকে এবং অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয় তাহলে অবশ্যই তার পক্ষে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।
২০১১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন জেলা সভাপতি তৈমুর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বিএনপি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে মনঃক্ষুণ্ন হন তিনি।
নির্দলীয় ওই নির্বাচনে নিজ দলের নেতা এ কে এম শামীম ওসমানকে ১ লাখের বেশি ভোটে হারিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র হন সেলিনা হায়াৎ আইভী। স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করার পর এখন দলীয় ভিত্তিতে হবে মেয়র নির্বাচন। এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান মেয়র আইভী।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় গণভবনে গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আইভীকে মনোনয়ন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
আগামী ২২ ডিসেম্বর ভোটের দিন রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।#
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২